চিকিৎসকের আচার-আচরণে মানুষ এত ক্ষিপ্ত ও বিরক্ত হয় কেনো। তাঁরা নিজের ন্যায্য পারিশ্রমিক দাবি করলেও কোনো মানুষ মনে করে অন্যায়?
আজকে ডাক্তারদের নিয়ে সমাজে যে নেতিবাচক ধারণা, তার প্রধান কারণ হলো এদেশের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবায় চরম অবহেলিত ও শহরস্থ নামি-দামি ডাক্তারের উদাসীনতা এবং রুক্ষ রুঢ় আচরণ। টাকা রোজগারের নেশায় ডাক্তারগণ নিজের আরাম আয়াশের কথা ভুলে দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রাইভেট চেম্বার করে। এতে উনারা খিট্খিটে মেজাজ ধারণ করেন এবং মানবিকতা হারিয়ে ফেলেন।
সাধারণ মানুষ মনে করেন, হাসপাতালের সমস্ত টাকা বোধহয় ডাক্তারের পকেটে যায়! অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন ডাক্তার যে বেসরকারি বা কর্পোরেট হাসপাতালে চেম্বার করেন, তারা আপাদমস্তক ব্যবসায়ী। এখানে ডাক্তারের আয় বলতে শুধুমাত্র তাঁর ভিজিটই।
রোগীর যে সমস্ত এক্সপেনসিভ টেস্ট (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) করানো হয়, তার সম্পূর্ণ প্রফিট বা মুনাফা চলে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পকেটে। আরও আফসোসের কাহিনী একজন ডাক্তার তাঁর বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম আর অর্জিত জ্ঞান দিয়ে যেসব পরীক্ষা পারফর্ম করেন (যেমন: ইসিজি, ইকো, আল্ট্রাসাউন্ড), তার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডাক্তারকে নাম মাত্র টাকা দেয়। এবং টেস্ট দিতে বাদ্য করেন।
একটি উদাহরণ দেই: একটি নামী হাসপাতাল ইসিজি প্রসিডিওর চার্জ হিসেবে একজন ডাক্তারকে দেয় হয়তো মাত্র একশ/ দেড়শ টাকা! অথচ সেই ইসিজির জন্য রোগীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ৫০০ টাকা।
চিন্তা করে দেখুন! ইসিজির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ঠিকমতো ইন্টারপ্রেট করতে না পারলে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী এমবিবিএস পাশই করতে পারে না। অথচ এত কষ্টার্জিত সেই জ্ঞানের মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র একশ/দেড়শ টাকা!
আসলে ডাক্তারদের অবস্থা আজ বাংলাদেশের প্রান্তিক কৃষক সমাজের মতো। কৃষকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলায়, আর মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া বা মহাজনরা তাদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ফসল কিনে সাধারণ ক্রেতার কাছে চড়া দামে বিক্রী করে সব লাভ লুটে নেয়। সব বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেই ঠিক একই ঘটনা ঘটে!
সবাই বলেন "চিকিৎসা একটি সেবামূলক কাজ"। হ্যাঁ, সেবা তো শুধু ডাক্তার আর নার্সরাই দিয়ে যায় কখনো কখনো। কিন্তু ছোট বড় সব হাসপাতাল মালিকরা করছেন একেবারে শত ভাগ ব্যবসা! এতে কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষোভ বা কষ্ট চোখে পড়ে না। উচিত হলো এই ফড়িয়াদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করা।
অথচ দেখা যায় সাধারণ মানুষের সব কষ্ট আর ক্ষোভ হলো একজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে। চিকিৎসকদের কসাই বলার সাথে সাথে এই করপোরেট ব্যবস্থার আসল কসাইদের চিনতে হবে। অন্যায্য ব্যবস্থার দায়ভার একজন চিকিৎসকের সাথে সাথে হাসপাতালের মালিকেরও নিতে হবে।
সরকারি ১০০ বেডের হাসপাতালে ৩০০ রোগী থাকে, প্রায় ২০০ আত্মীয় স্বজন সাথে আসে । এক ওয়াশরুম ৫০০ জন ব্যবহার করে। বেশীর ভাগ মানুষের ৮০% ওয়াশরুম ব্যবহারের ম্যানার জানেনা। একজন রোগীর সাথে ১০/১৫ জন লোক প্রতিদিন পিকনিক এর মতো করে খাওয়া দাওয়া করে, খাওয়া শেষে ময়লা গুলো কমোডের মধ্যে ফেলে, মহিলারা বাচ্চার ব্যবহৃত ন্যাপকিন কমোডের মধ্যে ফেলে। তখন কমোড জ্যাম হয়ে ময়লায় ভেসে যায় ।
সরকারী হাসপাতালের ওয়াশরুম ব্যবহারের অযোগ্য আমরাই করি। দেয়ালে পানের পিক আমরাই ফেলি। এম্বুলেন্স এর তেল চুরি ড্রাইভার করে তাদের রাজনৈতিক খুটির জোর আছে। বিকেলে টেস্ট করে না সরকারি হাসপাতাল। রোগীর বেড থাকে না । ঔষধ সাপ্লাই থাকে না? রাতের বেলা প্রফেসর থাকে না? ক্যান্সারসহ কিছু জটিল রোগের জেলা পর্যায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হয় না এবং ডাক্তারও সময়মত পাওয়া যায় না।কিছু সমসা সাধারণ জনগণের সৃষ্টি। কিছু সমস্যা ডাক্তারদের সৃষ্টি। কিছু সমস্যা রাজনৈতিক লুটেরাদের সৃষ্টি। তাই সবাই সচেতন হই। আমরা নিজেরা নিজ নিজ জায়গা হতে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে চেষ্টা করি। আমাদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ি। আমাদের সবার ধর্মকর্ম যেনো মানুষের জন্য হয়।
ছবিঃ এক্স হতে।

মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।