www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

তিতাস নদীর বুকে

ব্রাহ্মনবাড়ীয়া যাবেন নাকি?
মানে?
মানে আবার কি?
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া বেড়াতে যাবেন।
কেবলই না কূয়াকাটা ঘুরে এলাম!
তো?
এসেছেন আবার যাবেন। শাকিল ভাইয়ার হেয়ালীপূর্ণ জবাব।
আমরা কি যাযাবর নাকি?

অসুবিধা কি? আমরা তো যাযাবরই। আজ আছি কাল নেই। তাছাড়া “সারা পৃথিবী আমার, যেখানে খুশী সেখানে যাবো”।

বুঝলাম এটা স্রেফ দুষ্টুমী না, তাই পাশে থাকা নীলা আপাকে জিজ্ঞাসা করি, আপা ঘটনা কি? আপার জবাব-“ওনার এক নিকটাত্মীয় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ব্রাহ্মনবাড়ীয়ায় তিতাস নদী দেখার, আমাদের জন্য গাড়ীর ব্যবস্থা আছে, তিতাস নদীতে নৌকা ভাড়া করে সারাদিন ঘোরাঘুরির চমৎকার সুযোগ থাকছে, অতএব আমরা চাইলেই চমৎকার এ সুযোগটাকে মোক্ষম সুযোগে পরিণত করতে পারি।

এ বাপ মেঘ না চাইতে জল! তো কবে যাবো? শুক্রবার সন্ধ্যার ট্রেনে...... যেন “উটলো বাই আর কটক যাই”।

ব্যাগ গুছিয়ে রাত ৮টার ট্রেন ধরতে “আল্লাহ্‌র নামে চলিলাম”। সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Planet 50-50 champion, Agreement of change award পুরস্কার নিয়ে দেশে ফিরছেন। তো উনি ফিরুক নিজের দেশে, আমরা চলি তিতাস নদীর বুকে যাযাবরের বেশে। যথাসময়ে ষ্টেশনে পৌঁছে ট্রেনের অপেক্ষায় আছি, কিন্তু রাত ৮টা বাজলেও ট্রেনের টিকি দেখা যায় না। আমাদের সফরসঙ্গী এক আপু উঠবেন কমলাপুর ষ্টেশন থেকে। আমরা বিমান বন্দর ষ্টেশনে। তাকে ফোন করে জানতে চাওয়া হলো ট্রেন কোথায়? তিনি নিশ্চিত করলেন, অনিশ্চিত ট্রেনের সময় । ছাড়লে তিনি আমাদের জানাবেন বলেও আশ্বস্ত করলেন।

অগত্যা অপেক্ষার পালা। শুক্রবার ষ্টেশনে প্রচুর ভীড়। বসার ব্যবস্থা তেমন নাই, অতএব নিজের পা দুটোই সম্বল। বেশ কিছু সময় পার হওয়ার পর পা দুটো যেন বলে উঠলো আর কতক্ষন? এদিক ওদিক তাকাই, যদি কোথাও বসার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু তেমন কোন জায়গা চোখে পড়ে না। যাও-বা পড়ে সেখানে বসার জন্য তেমন একটা আগ্রহ তৈরী হয় না। হঠাৎ চোখে পড়ে পুলিশ বক্স। ভেতরে বসার সুন্দর জায়গা। কিন্তু ভেতরে পুলিশ টুলিশ কিছু দেখছি না। বক যেমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মাছের উপর নজর রাখে, আমি সেভাবে পুলিশ বক্সটাকে পর্যবেক্ষন করতে লাগলাম। নাহ, কেউ ওখানে যাচ্ছেও না, বসছেও না। পাশে নীলা আপাকে বললাম, ঐ দ্যাখেন, পুলিশ বক্সটা খালি। ভেতরে সুন্দর বসার ব্যবস্থা। আপা মুখটা ব্যাদান করে বলল, ওখানে বসা যাবে না। মনে মনে ভেংচি কাটি “নেতিবাচক”! কিন্তু উপরে একেবারে প্রো-এক্টিভ।

ঠিক আছে, তবে দাঁড়িয়েই থাকি। কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর পা দুটো অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলো।এক পা দু পা করে এগুতে থাকি পুলিশ বক্সটার দিকে। একেবারে বক্সের গা ঘেষে দাঁড়ালাম আর অবস্থা আঁচ করতে থাকলাম। পুলিশ বক্সটা একবারে ফাঁকা, আশে পাশে কাউকে দেখছি না। সাহস করে ঢুকে গেলাম ভেতরে, ধপাস করে বসে গেলাম। আমার দেখাদেখি আরেকটা মেয়েও সুড়ুত করে ঢুকে গেল। অবস্থা বেগতিক। চর দখল হয়ে না যায়! সাথে থাকা আপুদের ডাকলাম, এবার সব সুড়সুড় করে ঢুকে গেল বক্সটার ভেতর।

আরামে অপেক্ষার পালা। কিছুক্ষণের মধ্যে বুঝলাম কি বিড়ম্বনায় পড়েছি। ট্রেনের যাত্রীরা বিভিন্ন তথ্য জানার জন্য পুলিশ বক্সের সামনে এসে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিতে লাগলো। আমরা ড্যাব ড্যাব করে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলি, আমরা কিছু জানি না। বেচারারা কিছু বুঝে উঠতে পারেন কি না জানি না, তবে মুখে কিছু না বলেই চুপচাপ স্থান ত্যাগ করেন। আমরাও কিছুই বুঝি না এমন ভাব করে গ্যাঁট হয়ে বসে থাকি। ঘড়ির কাঁটা এগুতেই থাকে, কিন্তু ট্রেন মশাই আর এগোয় না। আমরাও নাছোড়বান্দা, তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায়- ভাবখানা "তুমি যাইবা কেমনে, তুমি যাইবা কোনখানে, ধরা পইড়া গেছো তুমি রঙ্গীলা জালে"। ওহে ট্রেন তোমাকেও ধরা দিতে হবে আমাদের কাছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে। ট্রেন মহাশয়ের আগমন ঘটে রাত ১২টায়। হুড়মুড় করে সবাই ট্রেনে উঠে আসন বুঝে নিয়ে বসে পড়ি। হেলেদুলে চলতে শুরু করে ট্রেন। দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তিতে ট্রেনে উঠেই সবাই নিদ্রাদেবীর কোলে আশ্রয় নেয়। দুই ঘণ্টার পথ এভাবেই কেটে যায়। রাত দুইটায় নামলাম ব্রাহ্মনবাড়ীয়া ষ্টেশনে। জনকোলাহলশুন্য। হৈ হুল্লোড় নাই, নাই ফেরীওয়ালার হাঁকডাক, আলোর ঝলকানি এখানে অনুপস্থিত ।রাতের নিস্তব্ধতার চাদরে আবৃত ষ্টেশনটি মনের ভেতর কেমন এক অজানা অনুভূতির জানান দিচ্ছিল। পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে কি না জানি না আমরাও যেন সবাই কেমন চুপচাপ অপেক্ষায় আছি গাড়ী আসার।

গাড়ী এলো। গাড়ীতে করে ঘুমন্ত শহরের বুকের উপর দিয়ে রাতের নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ করে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। মধ্য রাতে যখন বাসার সামনে পৌছালাম তখন বাড়ীর মেইন গেটে তালা। বাড়ীওয়ালা ঘুমে বিভোর। প্রথমে কিছুটা হাঁকডাক চললো, কোন ফল না পেয়ে মোবাইলে ফোন করে ডেকে তোলা হলো তাঁকে। মাঝ বয়সী ভদ্রলোক নেমে এলেন। সবাই সালাম দিয়ে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিলাম এত রাতে বিরক্ত করার জন্য। নীরবে পা টিপে টিপে আমরা উঠে গেলাম ৫ তলায়। সেখানেই আমাদের থাকার ব্যবস্থা। যথারীতি ভাইয়ারা এক রুমে, আপুরা আরেক রুমে। সামান্য কথা বার্তার মধ্য দিয়ে ফ্রেস হয়ে ঘুমুতে চলে গেলাম সবাই।

সকালে উঠে রেডী হয়ে দল বেঁধে বেরুলাম পূর্ব নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী। প্রথমেই গ্রামীণ ফোনের অফিসে গেলাম। এখানেই কর্মরত নীলা আপার আত্মীয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বিধায় আমরা সহজেই অফিসটা ঘুরে ফিরে দেখলাম, উপরি পাওনা হিসেবে জুটে গেল গ্রামীণ ফোনের লোগো সংযুক্ত ছাতা। ছাতাগুলো বগলদাবা করে গাড়ীতে উঠলাম। ছোট্ট একটা শহর ব্রাহ্মণবাড়ীয়া কিন্তু বেশ ছিমছাম। একটা হোটেলে ঢুকে সকালের নাস্তা সেরে দুপুরের খাবার প্যাকেট বন্দী করে তিতাস নদীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। পথেই পড়লো “কাল ভৈরব” মন্দির। দল বেঁধে নেমে গেলাম মন্দির দেখবো বলে। ইয়া বড় একটা কালো রং এর মূর্তি। দেখার মতোই সে মুর্তিটার আকার। পূজারী ভক্তিভরে প্রণাম করছে। আমরা ঘুরে ঘুরে মন্দিরটা দেখলাম, ছবি তুললাম। মন্দির দর্শন শেষে আবার তিতাস নদীর উদ্দেশ্যে যাত্রা।

তিতাস নদীর সামনে আমরা। নৌকা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। দল বেঁধে উঠে গেলাম নৌকায়, বসে গেলাম ভেতরে। সবাই উৎফুল্ল। আমাদের উৎফুল্লতাকে সাথী করে নৌকা চলতে শুরু করেছে তিতাস নদীর বুকে। নৌকার ভেতরে চুপ করে বসে থাকাটা কারো পক্ষেই ভাল লাগছিল না। একে একে সবাই নৌকার ছৈয়ের ভেতর থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করলাম। উঠে বসলাম নৌকার ছৈ এর মাথায়। আহ! অসাধারণ এক পরিবেশ! উপভোগ করতে লাগলাম নদীর দৃশ্য। মাথার উপরে খোলা আকাশ, বিস্তৃত নদীর বুকে আমরা!! নাহ, এ ভাল লাগার স্থায়িত্ব বেশীক্ষণ হতে পারলো না। রোদের তীব্রতার কাছে নতি স্বীকার করে নেমে আসতে হলো নীচে। সাথে নিয়ে আসা প্যাকেট খুলে দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পর্ব সারা হলো, গল্প, আড্ডা, হাসির মধ্য দিয়ে। শরীর যেন একটু বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। কিন্তু ইঞ্জিনের প্রচন্ড শব্দে কানে তালা লাগার যোগাড়। গুরুজীর কথা স্মরণ করে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে আনার প্রক্রিয়ায় মনোযোগী হলাম। ইঞ্জিনের ভটভট শব্দটাকে মনে করে নিলাম ছন্দময় এক সুর। সে সুরের তালে তালে নৌকার ভেতরে পাটাতনে শুয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম মানে সত্যিকারের ঘুম, কোন ভান নয়। নদীর বুকে নৌকা ভাসছে আর আমি ঘুমুচ্ছি। নদীবক্ষে ঘুম! জীবনের আরেকটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা।

ঘুম ভাঙলো, বেরিয়ে এলাম বাইরে। রোদের ঔদ্ধত্য কমে গেছে। তার তাপে শিষ্টাচারের ছাপ। শান্ত নদীর বুক চিরে এগিয়ে চলছে নৌকা। শান্ত নদী আর ঝাঁ ঝকঝকে রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশের মধ্যে যেন মিতালী গড়ে উঠেছে। "নদী ও নারীর" কথা মনে হলো। আমি ভাবছি নদী আর জীবনের কথা। দুটোই বহমান।

জীবনটা বহতা নদী, চলতে হবে নিরবধি। থামা যাবে না। জীবন যেখানে যেমন তিতাস নদীর বুকে আমি তেমন। নদীর বুকে অনেক বকের আনাগোনা, সাথে থাকা স্থানীয় ছেলেগুলোর কাছে জানলাম এগুলোর কোনটাকে বলে সাদা বক, কোনটা কানি বক। মাছ ধরার জন্য নদীর মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় জাল ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। সে সব জালের উপর দিয়ে সারি বেঁধে সাদা বকের উপস্থিতি, অসাধারণ।

মাথার উপরে স্বচ্ছ নীল আকাশ। ফাঁকে ফাঁকে সাদা সাদা পেঁজা তুলো, সৃষ্টিকর্তার অপরূপ রহস্য। "সময়ের প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর মহিমা নব নবরূপে দীপ্যমান"( সূরা আর রাহমান, আয়াত-২৯)।

বিস্তৃত নদীর বুকে নৌকা নিয়ে অর্ধ উলংগ মানুষগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ মাছ ধরছে, কেউ কয়লা বোঝাই নৌকা নিয়ে যাচ্ছে, কোন কোন নৌকায় বালু তুলছে ভরে ভরে। মানুষগুলোকে দেখে ভাবছিলাম এ মানুষগুলোর জীবনে চাওয়া কতটুকু? পেট পুরে খেতে পারলেই কি ওদের জীবনের চাওয়া পাওয়ার হিসেব মিটে যায়? না কি পোড়া শীর্ণকায় শরীরের আড়ালে ঢাকা মনের ভেতরে আর কোন স্বপ্ন আছে? সংগ্রামী আর অতি সাধারণ জীবন যাপনরত প্রায় বিবস্ত্র মানুষগুলোর চোখে মুখে নেই কোন হতাশা, গ্লানি, অভিযোগ। ওদের কাছে গিয়ে জেনে আসি, ওদের দু চোখ ভরা কোন স্বপ্ন আছে কিনা!!

চারপাশে নদীর পানি অথচ মাঝখানে একটা শুকনো জায়গা আর সেখানে একটা বটগাছ। গাছের আশপাশে গোবরচোখে পড়লো, তাঁর মানে এখানে গরু বিচরণ করে! কিন্তু ওরা এখানে আসে কি করে? চারদিকেতো পানি। ভাবনারজায়গায় ভাবনা থাকলো, দলনেতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই মিলে নৌকা থেকে নেমে বটগাছের তলায় বসে মেডিটেশনকরে নিলাম। এ আরেক অনুভূতি!! এখানেই আরো একটা বিষয় দেখে চমৎকৃত হলাম। বটগাছের চারপাশের শুকনোজায়গায় বড় বড় ড্রাম বসানো, সেগুলোর গায়ে ফুটো করে প্লাস্টিকের লম্বা পাইপ লাগিয়ে টেনে নেয়া হয়েছে। এগুলোকি? জানালো, এ হলো আশেপাশে থাকা বাড়ীগুলোর গ্যাসের লাইন। বলে কি!! হ্যা, এটা স্থানীয় মানুষের নিজস্বব্যবস্থাপনা। ঢাকা শহরে বস্তিতে দেখেছি রাস্তার বিদ্যুতের তারের সাথে তার লাগিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুতের লাইন নিতে,কিন্তু গ্যাস এভাবে!!!!

তিতাস নদীর বুকে প্রায় ৬ ঘণ্টার ঘোরাঘুরি চলছে। ঘুরতে ঘুরতে আমরা নদীর এক পাড়ে পৌঁছে গেলাম। এ জায়গাটির নাম হরিপুর। এখানেই রয়েছে হরিপুরের রাজবাড়ী। সেটা দেখার উদ্দেশ্যে নৌকা থেকে সবাই মিলে নেমে গেলাম। পায়ে হাঁটা সামান্য দূরত্বের পথ ধরে পৌঁছে গেলাম রাজবাড়ী। একেবারে তিতাস নদীর পাড় ঘেষা অসাধারণ এক স্থাপনা। এখানেই প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর আলোচিত সিনেমা “ঘেটুপুত্র কমলা”র শ্যুটিং হয়েছিল। বাড়ীটির প্রবেশমুখে দাঁড়াতেই হোঁচট খেতে হলো। ভেতরে প্রবেশ করার পর আমার চিন্তার গতি একেবারে থমকে যায়। এ কি করুণ হাল! বাড়ীটি দখলে নিয়ে কিছু মানুষ বসত গেড়েছে, তাঁদের ছেড়া কাঁথা, ময়লা কাপড়-চোপড় তারে ঝুলছে,এক জায়গায় ছাগল বেঁধে রাখা হয়েছে, যত্রতত্র ঘুঁটে শুকোচ্ছে। ঘুরতে ঘুরতে আমরা বাড়ীটির ছাদে উঠে গেলাম। কি অসাধারণ নয়নাভিরাম দৃশ্য! বাড়ীর কোল ঘেঁষে তিতাস নদী। কল্পনার চোখে সুস্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি রাজাদের আনাগোনা, কত সৌখিনতায় ভরা ছিল তাঁদের জীবন! এমন জায়গা বেঁছে নিয়েছিলেন রাজবাড়ী করার জন্য। ওই যে ছাদের ধার ধরে দৌঁড়াচ্ছে ঘেটুপুত্র কমলা! এ রকম হাজারো ছবি দেখছি কল্পনার চোখে।

এই জীর্ণাবস্থায় দেখেও রাজবাড়ীটির নির্মানশৈলীতে মুগ্ধ হয়েছে চোখ, ভরেছে মন। বাড়ীটিকে যদি সংরক্ষণ করা হতো কত পর্যটকের আনাগোনা হতো এখানে। মনে পড়লো বরিশালে কবি জীবনানন্দ দাসের বাড়ীটিকে। যে কবি চিল হয়ে শংখচিলের বেশে বাংলাকে ভালবেসে ধানসিড়ি নদীর তীরে ফিরে আসার আকুল আকুতি জানিয়েছিলেন তাঁরই স্মৃতি বিজড়িত বসত বাড়ীটি, যেখানে রয়েছে কবির পদচিহ্ন সেটি হয়ে গেছে বেহাত। বাড়ীটির গেটে "ধানসিঁড়ি" নামটি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট্য নাই। কেন সরকার আমাদের এই ঐতিহ্যগুলোকে এভাবে কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে দিচ্ছে? কেন এগুলোকে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় সংরক্ষণ করা হলো না? মাথার ভেতর ঘুরপাক খাওয়া চিন্তাগুলোকে সাথে নিয়ে মনটাকে খারাপ করেই বেরিয়ে এলাম হরিপুর রাজবাড়ী থেকে।

আবার নৌকার উঠলাম, চলতে শুরু করলো নৌকা। নদীর ভেতর জায়গায় জায়গায় পানিতে বুদবুদ উঠছে। জানলাম গ্যাস উদ্গীরণ হচ্ছে। নৌকায় বসেই দেখা যাচ্ছে তিতাস গ্যাস ফিল্ড-১,তিতাস গ্যাস ফিল্ড-২। আগুন জ্বলছে দাউদাউ করে। আচ্ছা আমাদের চারপাশের অস্থিরতা, জিঘাংসা দেখে বাঙলা মায়ের বুকেও কি এরকম আগুন জ্বলে? আজব চিন্তা খালি আমার মাথায়। নিজের মাথায় নিজেই চাটি মারি। নদী দেখতে এসেছিস তাই দ্যাখ বাপু! আবার নদীর দিকে মনোনিবেশ। হঠাৎ গানের শব্দ। পাশ দিয়ে একটা বজরা চলে গেলো, সেখানে গান বাজছে মাইকে। ওয়াও!! বেলা প্রায় ডুবু ডুবু, আমরা ফিরছি ঘাটের দিকে। ফেরার পথে নদীর এক পাড়ে তীর ঘেষে শশ্মান আর বিশাল একটা মুর্তিও চোখে পড়লো। বেলার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের নৌকাও এসে ঘাটে থামলো। নেমে পড়লাম সবাই। বিদায় তিতাস নদী বিদায়।
বিষয়শ্রেণী: অভিজ্ঞতা
ব্লগটি ১০২৬ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৫/০৬/২০১৭

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast