www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

হাতি

হাতি নিয়ে আমরা রচনা বেশি লিখিনি, লিখেছি গরু নিয়ে। এখানে আমি হাতির সামনে ও পিছনে দুটি লেজ আছে, সেই কথা লিখতে বসিনি, তাহলে কি লিখতে বসেছি?

প্রায় দেখা যায় গ্রামে হাতির দল তাণ্ডব চালিয়েছে- ধান নষ্ট করে দিয়েছে, মানুষকে পিষে মেরে দিয়েছে, ঘর ভেঙে দিয়েছে, আরো কত কি। খবরের কাগজে ও খবরের চ্যানেলে কেবল হাতির রচনা। আরে মানুষ যদি বন কেটে সভ্যতা বাঁচায়, তাহলে হাতি কেন মানুষ মেরে নিজের ঘর বাঁচাবে না! হাতি দল খাবারের অভাবে লোকালয়ে আসে। খেতে না পেলে মানুষ মানুষ খুন করে এতো লেখাপড়া শিখেও। অশিক্ষিত হাতি যদি খেতে না পেয়ে মানুষ মেরেই থাকে, তাহলে তাকে দোষ দিয়ে কি লাভ? মানুষের আদালতে মানুষের বিচার হয়, কিন্তু পশুর আদালতে পশুর বিচার হয় না- পশুর বিচার হয় মানুষের আদালতে। হাতি রেলে কাটা পড়ে অথবা বিদ্যুতের তার জড়িয়ে মারা যায়। বেচারা হাতি! কত রাজা ও রানী প্রয়োজনের বেশি খায়, গোলায় অহেতুক ধান ভরে রাখে, অন্যের গ্রাস কেড়ে নেয় কিন্তু হাতি তো গরীব মানুষের মতো, বঞ্চিত মানুষের মতো তার অধিকার চায় মাত্র।

এবার আসি দলছুট হাতির কথায়। কলি যুগে মানুষ দলছুট হয়ে বাঁচতে চায় কারণ সে স্বার্থপর, সে নিজের ছাড়া কিছু বোঝে না। হাতি কিন্তু দলে থাকতেই ভালোবাসে, একা একা বাঁচাকে সে ঘেন্না করে। কপালের দোষে যদি কোনো হাতি দলছুট হয়ে পড়ে, তাহলে তার আর রক্ষা নেই। মানুষ একা থাকার সুখ অনুভব করে কিন্তু হাতি একা থাকার দুঃখে পাগল হয়ে যায়। যদি সে দলে না ফিরতে পারে, তাহলে তার বাঁচা অনিশ্চিত হয়ে যায়। আর যদি সে ভুল পথে গিয়ে কোনো গ্রামে ঢুকে পড়ে, তাহলে বন বিভাগের লোকজন তাকে আপ্রাণ চেষ্টার দ্বারা দলে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু সেই হাতিটাকে মানুষের বহু অত্যাচার সহ্য করতে হয়, যে অত্যাচার ওপর তলার লোক নীচের তলার লোককেও করে না। তার গায়ে চকলেট বোমা ছুঁড়ে দেওয়ার ঘটনাও আছে। বেচারা হাতি!

সবশেষে বলি, সভ্যতা বাঁচাও, বন বাঁচাও; মানুষ বাঁচুক, হাতিও বাঁচুক। সকলে দু বেলা দু মুঠো খেতে পাক। সকলের জমির অধিকার থাক।
বিষয়শ্রেণী: সংবাদ
ব্লগটি ১৪ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৭/১১/২০২৫

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast