www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

অদেখা বিকেল

শাওন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ভরকে গেল। সকাল ৯:২৫ বাজে! নির্ঘাত অাজ অফিসে যেতে দেরি হয়ে যাবে। বসের রক্তচোক্ষুর সাথে বকুনি শুনলে মনে হয় চাকরীটা এখনই ছেড়ে দেই। মুক্ত হয়ে যাই পাখির মত। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে শাওন বৃষ্টিতে ডানা ভেজা পাখি, চাইলেও উড়তে পারে না। একাউন্সের চাকরী । বেতন ১২,০০০ টাকা। এ দেশে যে হারে বেকার সংখ্যা দিন দিন বাড়েছে। অার সবাই চাকরী নামক সোনার হরিনের পিছু তাড়া করছে। সেখানে পড়াশুনা শেষ হওয়ার সাথে সাথে চাকরী পাওয়ায় শাওনের পরিবারের সবাই খুশি। কিন্তু শাওন যে খরচে ছেলে তাতে এই টাকায় ওর নিজের সব চলে যায়। তার পর ও প্রতিমাসে আম্মুকে ২০০০ টাকা পাঠায়। ওর আম্মু মানা করে, বলে বাবা তোর বেতন বাড়লে তখন দিস। কিন্তু টাকাটা আম্মুকে দিয়ে ওর মনে এক আত্নতৃপ্তি লাগে।

এখন ভাসির্টি লাইফটা ভীষন রকম মিস করে শাওন।
বন্ধু মেহেদি, ঈশান, লিটা, সনচিতা, বিশেষ করে ইশিতা মেয়েটাকে।

শাওনের অফিসে পৌছতে ১০:২৭ বেজে গেল। বস এসে বলল, Come on, শাওন, Time Management টা একটু sincerely Follow করো। অার বেশী কিছু বলল না। শাওন ও হাফ ছেড়ে বাচলো। খানিকটা অভাকও হলো! বসদের মুড বুঝা বড় কঠিন কাজ। অাপাদত এই কঠিন কাজের গবেষণায় না গিয়ে ও ওর কাজে মন দিল।
ল্যান্চ এর পর শাওন ওর সিনিয়র কলিগ শাহিন ভাইয়ের সাথে চা সিগেরেট খেতে বাইরে বেড়োলো।

সিলেটের অাঁকাশ অাজ পরিষ্কার। কোথাও কোনো মেঘের অানাগানো নেই। অথচ শাওনের বরাবরই মনে হয় সিলেট হচ্ছে বৃষ্টির শহর।
যেন কোন বিরহী প্রিয়ার অনাদিকাল ধরে ক্রন্দন চলছে। মাঝে মাঝে জল শুকায় কিন্তু বিরহের ক্ষত অপূরণীয়।
অফিসের একাউন্ডে অাজ প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা কালেকশন হয়েছে। শাওনকে তার বস সহ অফিসের গাড়িতে করে ব্যাংকে যেতে হবে। কোম্পানির একাউন্ডে ডিপোজিট করার জন্য। শাওনের চাকরীর বয়স চলছে ৭ মাস হলো। এইতো গত মাসে ওর Job Confermation Letter পেয়েছে।
ওরা টাকা ডিপোজিট করে প্রাইম ব্যাংকে। ব্যাংককের ক্যাশ কাউন্টারে দাড়িয়ে শাওন এক জোড়া চোখ দেখে স্থব্ধ হয়ে গেল। মনের কোনে এক অচেনা অনুভুতি ভর করল। এ যেন রুক্ষ, তপ্ত ধরনীতে এক পশলা বৃষ্টি, সজিবতা অার প্রানের ছোয়া দিয়ে গেল। হ্যা, ব্যাংকের নতুন ক্যাশিয়ার মেয়েটাকে দেখেই ওর এই অবস্থা। কিছু সৌর্ন্দয যেন কৃষ্নচুরার লালে রঙ্গিন। চোখ সয়ে নিতে পারে না। পাশের ক্যাশিয়ার ছেলেটির কথায় শাওন বুজলো মেয়েটির নাম শুভ্রা।
ও ২৮ লক্ষ টাকা শুভ্রার সামনে রেখে ডিপোজিট স্লিপ টা শুধু এগিয়ে দিল। মুখে একটি শব্দও বলতে পড়লো না। মাঝে মাঝে এক ঝাক নৈশব্দেরা ভর করে তোমায় অামায়। এতোগুলো টাকা দেখে মেয়েটা যেন কিছুটা নার্ভাস হল। বুঝাই যাচ্ছে মেয়েটি চাকরীতে নতুন।

এই শুরু হল। শাওনের মনের গহিনে কে যেন ওর অজান্তেই একখানা মুখ এঁকে দিল।
রাতে তাহসানের গান শুনছে, অার ভাবছে শুভ্রা কে কি করে বাইরে কোথাও এক কাপ কফি খাওয়ার দাওয়াত দেওয়া যায়।
সত্যি সেই সময়ের সুন্দর মুহুতগুলো দ্রুত ফুরিয়ে যায়, বিকেলের প্রতিফলিত ছায়া দের মত করে সুর্যাস্থে মিলিয়ে যায়।
এভাবে করে ৩ মাস সময় চলছে।
ব্যাংক সময়টা শাওন শুভ্রার দিকে আর শুভ্রা টাকার দিকে করে। কিন্তু জড়তা ভেঙ্গে শাওন কিছুই বলতে পারলো না। সত্যি, জড়তা ভাংগা সে যে ভিষন কঠিন কাজ। শাওন এই অব্যক্ত অনুভুতির মাঝে অনুভব করলো এক প্রশান্তি। না হারানোর ভয়, না ঘোর লাগা অনুভুতি থেকে বেরিয়ে অাসার ভয়।
একদিন অফিসে এসে বসকে খুব ব্যস্থ দেখলো। ব্যস্থতার কারন বসের ভাতিজার বিয়ে। অফিস কলিগ হওয়ায় শাওন ও বিয়ের দাওয়াত পেল। বিয়ের স্থান লাক্কাতুরা চা বাগানের কাছে সুন্দর এক কমিউনিটি সেন্টারে। শাওন মনে মনে ভাবলো এত সুন্দর লোকেশন এ যেহেতু বিয়েটা, অব্যশই ও যাবে।
বসের সাথে অফিসের গাড়িতে করে প্রীতিভোজের অাধ ঘন্টা অগে পৌছল। সত্যি অনেক সুন্দর লোকেশন। শাওন সবার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সেন্টার রুমে কনে দেখার জন্য ভিতরে গেল। শাওন কখনো মহাপ্রলয় দেখেনি। যদিও ওর জন্মই হয়েছে ৮৮র মহাপ্রলয়কারী বন্যায়। বাইরের প্রাকৃতিক প্রলয়ের সাথে সময়ের গতিতে অামরা মানিয়ে নিতে পারি। কিন্তু শাওনের মনের ভিতরের এ প্রলয়ের ক্ষত ও কি ভাবে সামলে নেবে। কনের সাজে যখন ওর সামনেই সেই শুভ্রা! যে ওর কাল্পনিক এক পৃথিবীর ঘুমজরানো সকাল, মিষ্টি অালো খেলার দুপুর, কিন্তু অদেখা বিকেল!
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৬৬ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২৮/১১/২০১৮

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • অনিরুদ্ধ বুলবুল ১১/০১/২০১৯
    'আলোর মিছিলে'র সফল অগ্রযাত্রায় এর ৪র্থ সংখ্যাটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
    সুন্দর গল্প লিখেন! অভিনন্দন রইল।
    মাতৃভাষা দিবস সংখ্যার জন্য লেখা আহ্বান করা হয়েছে।
    https://www.bangla-kobita.com/oniruddho/matryvasa-dibos/
    গল্প প্রবন্ধ কবিতা - যে কেউ পাঠাতে পারেন। ধন্যবাদ।
  • চমৎকার..
  • অরন্য রানা ২৯/১১/২০১৮
    সুন্দর লেখুনি
  • আব্দুল হক ২৮/১১/২০১৮
    সুন্দর!ধন্যবাদ
 
Quantcast