www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

বিকৃত লালসা

‘আর কিছু লাগবে, স্যার?’
‘ও হ্যা, এক পেগ জিন এন্ড টনিক।’
‘অবশ্যই, এখনই পাঠিয়ে দিচ্ছি।’ উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট এন্ড বারের ম্যানেজার দ্রুত ভিতরের দিকে চলে যান। তালুকদার সাহেব বিরাট কাস্টমার। উনার অর্থ এবং ক্ষমতার ওজন ম্যানেজারের ভালই জানা আছে। ইতোমধ্যে তিন-তিনবার তালুকদার সাহেবের দেখভাল করে গেছেন। তিনি ম্যানেজার মানুষ। কাস্টমারের খাবারের তদারকি তাকে করতে হয় না। কিন্তু তালুকদার সাহেব ভিন্ন কিছু। এরকম হাতেগোনা কয়েকজন কাস্টমার আছেন যারা এলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নেন।
সপ্তাহে চার থেকে পাঁচদিন সন্ধ্যায় তালুকদার সাহেব এই রেস্টুরেন্টে আসেন। বারের নিরিবিলি একটা জায়গা উনার জন্য নির্দিষ্ট করা আছে। আজকেও তিনি এখানে এসে বসেছেন। সামনে ফ্লাট স্ক্রিন টিভি চলছে। অত্যাধুনিক টিভি, একেবারে কাচের মত পরিস্কার ছবি। সুন্দরমত একটা মেয়ে খবর পড়ছে টিভিতে। নিখোঁজ সংবাদ - একটি কিশোরী হারানো গিয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থটা এ’বছরে।
সামনের ছোট টেবিলটার উপর পা তুলে দিয়ে সোফায় আরাম করে বসে আছেন তালুকদার সাহেব। জিনের গ্লাসে মৃদু চুমুক দিচ্ছেন। কপালের কাছে কয়েকগোছা চুল এলোমেলো হয়ে আছে। স্যুট-টাই পরনে তিনি। পরিস্কার করে কামানো গাল চকচক করছে। পায়ের জুতোটাও আয়নার মত ঝকঝকে। ভদ্রলোকের বয়স বোঝা দুস্কর - কেউ বলে পঞ্চাশ, আবার কেউ ষাট। তবে তিনি এখনও সুপুরুষ।
আশেপাশে আর কেউ নেই। এসময়টা তিনি একা থাকতে পছন্দ করেন। তার কয়েকজন দেহরক্ষী আছে। এরা রেস্টুরেন্টের বাইরে আছে। আর একজন ভিতরে ক্যাশ কাউন্টারের আশেপাশে আছে। তালুকদার সাহেব ধনী মানুষ, ক্ষমতাবান। এসকল লোকের প্রতিদ্বন্দী থাকতেই হবে। তাছাড়া ধনী বিধায় সাধারণ মানুষ এদের ঘৃণাও করে। তাই সবসময় দেহরক্ষী রাখতে হয়।
মূল ঢাকা শহরে তিনি থাকেন না। শহরের বাইরে গাজীপুরের শালবন এলাকায় তার বাগানবাড়ি। ওখানেই বেশিরভাগ সময় থাকেন তিনি। কাছেই একটা সিরামিকের ফ্যাক্টরি আছে। ওটার পাশে ঔষধের কারখানা। ঢাকায় কয়েকটা গার্মেন্টস আছে। এর বাইরে এখানে-ওখানে জমিজমা আছে প্রচুর। এলাকার সংসদ সদস্য তিনি। মন্ত্রী করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। অত সময় বের করা তার জন্য কঠিন। তাছাড়া, মন্ত্রী হওয়া মানে আরও শত্রু তৈরী করা। তিনি নিরিবিলি পছন্দ করেন।
তালুকদার সাহেব প্রায় নিঃসঙ্গই থাকেন এখন। দুই ছেলে বিদেশে লেখাপড়া করছে। স্ত্রী গত হয়েছেন বছর দুই আগে। সারদিন অফিস-ফ্যাক্টরি আর সন্ধ্যায় মাঝেমধ্যেই নেস্ট রেস্টুরেন্ট এন্ড বার। বারটা ভাল, বেশ খাতির করে ওরা। নির্বিঘেœ কিছু সময় পার করেন তিনি। আজকে অবশ্য একটু ব্যাতিক্রম। কোত্থেকে এক মাতাল তালুকদার সাহেবের কাছাকাছি চলে আসে।
‘আপনি ঐ পাশে গিয়ে বসেন।’ তালুকদার সাহেব শান্ত স্বরে বলেন।
‘না, আমি এখানেই বসব।’ জড়ানো গলায় মাতালের চিৎকার।
‘ম্যানেজার, ম্যানেজার?’ মাতালের কান্ড দেখে তিনি চেচিয়ে উঠেন।
‘কীসের ম্যানেজার? আমি এখানেই বসব। ম্যানেজার কী করবে?’
ইতোমধ্যে একজন বেয়ারা চলে এসেছে। ‘স্যার, ম্যানেজার সাহেবতো একটু বাইরে গিয়েছেন।’
‘তুমি উনাকে সরাও এখান থেকে।’
‘আমার কাছে আসবি তো খুন করে ফেলব।’ বেয়ারার দিকে তাকিয়ে মাতালটা ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলে।
বেয়ারা বেচারা হতভম্ব। কী করবে সে এখন? বোকার মত তাকিয়ে আছে।
তালুকদার সাহেব তাড়া দেয় ওকে, ‘ক্যাশ কাউন্টারের কাছে আব্বাস আছে। ওকে আমার কথা বলে ডেকে আন।’
বেয়ারা দ্রুত বেড়িয়ে যেতেই মাতালটা এগিয়ে আসে তালুকদার সাহেবের দিকে, ‘কী আমাকে গুন্ডা দিয়ে মারার ফন্দি। তোকেই মেরে ফেলব আজ।’
তালুকদার সাহেব অসহায়ভাবে তাকায় চারিদিকে, আব্বাসটা গেল কোথায়? এখনও আসছে না কেন? মাতালের হাতে একটা চকচকে কিছু দেখা যাচ্ছে। চাকুটাকু নাকি? ভয় লাগা শুরু করে তালুকদার সাহেবের। কী ঝামেলায় পরা গেল। এদিকে মাতালটা বীরবিক্রমে ঝাঁপিয়ে পরবে প্রায়। কোত্থেকে অল্প বয়সী একটা ছোকরা এসে মাতালটাকে বজ্রমুষ্টিতে ধরে ফেলল। এরপর টেনে-হিচড়ে ওখান থেকে বের করে নিয়ে চলল। এমনভাবে ধরেছে যে নড়াচড়া করারও সুযোগ পাচ্ছে না মাতালটা। তালুকদার সাহেব এগিয়ে এসে দেখে মাতালটাকে রেস্টুরেন্টের বাইরে রেখে ছোকরাটা নিজের চেয়ারে গিয়ে বসল।
বয়স কত হবে? চব্বিশ-পঁচিশ। রেস্টুরেন্টে বসে মাংসের ঝোল দিয়ে নানরুটি খাচ্ছে সে। তালুকদার সাহেব সবসময় এসে বারেই ঢোকেন। রেস্টুরেন্টটা কখনো দেখা হয়নি। অনেক মানুষ আছে এখানে। ছেলেটির প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করেন তিনি। ও না থাকলে মারাত্মক কিছু ঘটতে পারত। চারিেিদক তাকিয়ে আব্বাসকে খোঁজেন তিনি, গেল কোথায় সে?
এগিয়ে গিয়ে ছেলেটার টেবিলের সামনে যান তিনি। কৃতজ্ঞ স্বরে বলেন, ‘তোমাকে ধন্যবাদ। তুমি বাঁচিয়ে দিয়েছো আজকে।’
‘ও কিছু না।’ নিস্পৃহ গলায় সে বলে।
‘তুমি কেন করলে কাজটা?’
‘এমনিই। দেখলাম একটা মাতাল ভিতরের রুমে যাচ্ছে। একসময় কানে আসল আপনাদের চিৎকার-চেচামেচি। তাই একটু উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। এরপর কী হলো আপনি জানেনই।’
‘আজকাল কারও বিপদে কেউ এগিয়ে আসে না। তুমি কেন?’
‘আমি আসলে খাবার সময়টা নির্বিঘœ রাখতে চাই। আপনাদের কোলাহল বিঘœ সৃষ্টি করছিল। তাই ব্যপারটা থামিয়ে দিলাম।’
‘শুধু এজন্যেই তুমি এত বড় ঝুঁকি নিলে?’ তালুকদার সাহেব অবাক।
‘সামান্য বলছেন কেন? একেকজনের ভাললাগা একেক রকম। আমার কাছে খাবার সময়টুকু এবাদতের মত।’
‘আচ্ছ! তা, তুমি কী কর?’
‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শেষ করেছি। শখ ছিল কুংফু-কারাতে, তাও শিখেছি। এখন চাকরি খুঁজছি। আজকে হঠাৎ করেই বেশ কিছু টাকা পেলাম। তাই এই দামি রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছি।’ হাসতে হাতে বলে সে। খাবারের দিকেই তার গভীর মনোযোগ।
তালুকদার সাহেব ছেলেটাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। ঝানু লোক তিনি, ছেলেটার চিন্তাধারাও ধরতে পেরেছেন। পকেট থেকে ভিজিটিং কার্ডটা বের করে টেবিলে রেখে বলেন, ‘আমার কার্ডটা রাখ। যদি প্রযোজন মনে কর যোগাযোগ করতে পার।’
মুখ তুলে তাকায় ছেলেটি, ‘আমার নাম রাশেদ। আপনি কি আমাকে একটা চাকরি দিতে পারবেন?’
‘আমি ইচ্ছে করলেই পারি। তোমার বিষয়টা আমি ভেবে দেখব।’ তালুকদার সাহেবের তখন থেকেই মনে হচ্ছে সিকিউরিটির ব্যাপারটা। এখানে অশিক্ষিত-কম শিক্ষিত লোকজন দেহরক্ষী আর নিরাপত্তার কাজটা দেখে। যদি বিশ্বাবিদ্যালয় পাশ করা শিক্ষিত ছেলে রাখতে পারি তবে কাজটা নিখুঁত হবে।
‘আপনাকে ধন্যভাদ। একটা চাকরি পেলে আমি খুশী হব। যে কোন কিছু, আপনার দেহরক্ষী হতেও আপত্তি নেই আমার।’
তালুকদার সাহেব চমকায়। মনের কথা কীভাবে বলল ছেলেটি? ‘তুমি আমার নিরাপত্তার কাজটা করবে? দেখলে না, আজকে কেমন হল। তুমি না থাকলে কী যে হতো!’
‘আমি রাজি।’ রাশেদ এক কথায় জবাব দেয়। মনে মনে বলে, ভাগ্যিস মার্শাল আর্টটা শিখেছিলাম তখন।
‘তুমি কাল অফিসে এসো। আমরা কথা বলব তখন।’ এরিমধ্যে আব্বাস চলে এসেছে। ‘কোথায় ছিলে তুমি? ও না থাকলেতো মরেই যেতাম আজকে।’
‘বাথরুমে গেছিলাম স্যার। কেন, কী হইছে স্যার?’
তালুকদার সাহেব ঘটনা বলতে বলতে হাঁটা শুরু করে। ‘তাহলে কাল দেখা হচ্ছে।’ রাশেদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়েন তিনি।
‘জ্বি।’ রাশেদ সংক্ষেপে জবাব দেয়। বেশ খুশী লাগছে ওকে।
রাশেদ সকাল সকাল পৌঁছে যায় অফিসে। তালুকদার সাহেব গোছানো মানুষ। নিয়োগপত্র তৈরী করে রেখেছেন। আশি হাজার বেতন। থাকা ও খাওয়া উনার বাসায়, ফ্রি। রাশেদ হতভম্ব! এ’যে মেঘ না চাইতেই জল। আহা! একটা চাকরি ওর ভীষণ প্রয়োজন।
‘তোমাকে দু’দিন সময় দিলাম। ভেবে দেখ কী করবে?’
‘ভাবতে হবে না। আমি রাজী, স্যার।’
‘তোমার পরিবার নেই?’
‘আমি বিয়ে করিনি। আর বাবা-মা ঢাকায় আছেন। মাঝেমধ্যে দেখে আসব। সমস্যা হবে না।’
‘ঠিক আছে। তুমি প্রস্তুত হয়ে আস। যে কোনদিন যোগদান করতে পারবে।’
‘আমি কালই চলে আসব।’
‘গুড। তুমি নিরাপত্তার বিষয়টা নিখুঁত করতে যা যা লাগবে করবে। আরও লোক নিতে হলে বলবে আমাকে। আমি নির্ঝঞ্জাট জীবন চাই। ওকে?’
‘ওকে, স্যার।’
বাগানবাড়ির একটা কক্ষ রাশেদের জন্য। এতবড় বাড়িতে মাত্র কয়েকজন কাজের মানুষ। আর কেউ নেই। রাশেদ অবাক হয়। ‘কী সুন্দর সবকিছু!’
রান্না করার বাবুর্চি আছে একজন। যা বলে তাই রান্না করে দেয়। রাশেদের কাজ হলো তালুকদার সাহেবের সাথে দেহরক্ষী হিসেবে সব জায়গায় যাওয়া। আর রাতে পুরো বাড়ি ঠিকঠাক দেখে ঘুমিয়ে পরা। প্রতিদিন সকালে গাড়ি রেডি করে বসে থাকে ও। তালুকদার সাহেব আসলেই চলা শুরু করে। ‘ঘুম হয়েছে রাশেদ?’
‘জ্বী স্যার। ভাল ঘুম হয়েছে।’
‘গুড।’ খবরের কাগজে মন দেন তিনি।
অফিসে গিয়ে স্যারের পাশের রুমে বসে থাকে রাশেদ। ওখান থেকে ফ্যাক্টরিতে যায় তারা। সন্ধ্যার পর সেই নেস্ট রেস্টুরেন্ট। কমবেশী এটাই প্রতিদিনের রুটিন। রাশেদ ছায়ার মত লেগে থাকে। কোন কোন দিন বেহেড মাতাল হয় তালুকদার সাহেব। কথা জড়িয়ে যায় তখন, ‘স্যরি রাশেদ। একটু বেশী খেয়ে ফেলেছি।’ ভদ্রলোকের শিষ্টাচার দেখার মত।
‘রাশেদ, আজকে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে।’ পরেরদিন সকালেই তালুকদার সাহেব অন্য মানুষ।
‘কখন যাবেন, স্যার?’
‘দুপুরে।’
‘লাঞ্চ কী ওখানেই। কীসের মিটিং, স্যার?’
‘দুপুরে ওখানেই খাব। বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে মিটিং। বিদেশ থেকে কিছু মালামাল আনতে হবে। শুল্ক কমানো যায় কীনা সে বিষয়ে কথা বলব। তুমি ধারে কাছেই থাকবে। চাইলেই যেন পাই।’
‘ঠিক আছে, স্যার।’
ধীরে ধীরে তালুকদাস সাহেবের কাছের হতে থাকে রাশেদ। দেহরক্ষী থেকে ব্যক্তিগত সহকারী বনে যায় দ্রুতই। তালুকদার সাহেবের পক্ষ হয়ে ফ্যাক্টরির শ্রমিক, ইউনিয়ন দারুনভাবে সামাল দেয় সে। আরও ঘনিষ্ঠ হয় তালুকদার সাহবের, আরও বিশ্বস্ত। মাত্র একমাসে রাশেদের এ বিশাল অর্জন। তৃপ্তির ঢেকুর তুলে সে।
ক’দিন ধরেই স্যার একটু অস্থির। রাশেদ ঠিক বুঝতে পারে, উনি কিছু একটা করতে চাচ্ছেন। ‘রাশেদ, একটা কাজ করতে হবে।’
‘কী কাজ, স্যার?’
‘গোপনীয়, অতি গোপনীয় কাজ।’
‘তাতো বুঝলাম। কিন্তু কাজটা কী, স্যার?’
‘যেখান থেকে পার পনের-ষোল বছরের একটা মেয়ে জোগাড় কর। টাকা কোন ব্যাপার না।’
‘বাড়ির কাজ করাবেন, নাকি অফিসে?’
‘সেটা পরে বলব। আগে মেয়ে নিয়ে এস। অপরিচিত মেয়ে আনবে। লুকিয়ে আনবে। কেউ যাতে না দেখে।’
‘কীভাবে আনব জানি না। তবে আমি চেষ্টা করবো স্যার।’
‘তাড়াতাড়ি, ঠিক আছে?’
রাশেদ ঢাকা থেকে ওর খালাত বোনকে নিয়ে আসে। কী কী করতে হবে সব বুঝিয়ে দেয় আগে। মেয়ে দেখেই খুশীতে আটখানা তালুকদার সাহেব। অনেক কথা বলার পর আড়ালে নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাশেদ এই জিনিষটা ওকে খাইয়ে দাও।’
‘এটা কী স্যার?’
‘একটা ঔষুধমত। মেয়েটিকে তরতাজা নাখবে।’
রাশেদ ঔষধটা নিয়ে গোপনে বাথরুমে ফেলে দেয়। আর তালুকদার সাহেবকে গিয়ে বলে, ‘স্যার, খাইয়ে দিয়েছি।’
‘গুড, ভেরি গুড। তুমি আশে পাশেই থাক। আমি ভিতরে গেলাম।’
ঘরে নীল রঙের একটা নিয়ন বাতি জ্বলছে। তাতে অন্ধকার পুরো দূর হয় না। কিন্তু আলোর চমৎকার একটা আভা থেকে যাচ্ছে। ঘরে আসবাব তেমন একটা নেই। বিশাল বড় একটা খাট। সেখানে মেয়েটি শুয়ে আছে। রাশেদের কথামত মরার ভান করে আছে। তালুকদার সাহেবের বিবেচনায় মেয়েটি মরে গিয়েছে।
স্ত্রী বিয়োগের পরে তার এ অভ্যাসটি হয়েছে। কিছুদিন পর পর তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। তখন পাগলের মত হয়ে যান তিনি। হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেতে থাকে। শেষ না করা পর্যন্ত অস্থিরতা বাড়তেই থাকে। বন্য-উল্লাশ হয় তার, বিকৃত পাশবিকতা জেগে উঠে তখন। মুখ দিয়ে লালা ঝরতে থাকে। পশু হয়ে যান তিনি। কিশোরী মেয়েকে মেরে ফেলে তার সাথে সঙ্গোম করতে হবে। এত আনন্দ দুনিয়ার আর কিছুতেই তিনি পান না। আজকেরটা নিয়ে পাঁচ নম্বর।
মেয়েটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন প্রায়। তখনই ঘরের সবগুলো লাইট জ্বলে উঠে। স্প্রিংয়ের মত লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ান তিনি। ‘কে, কে, কে লাইট জ্বালালো?’
‘আমি।’
‘রাশেদ, তুমি। এখানে কী করছ?’
‘আপনাকে অ্যারেস্ট করতে এসেছি। দলবল সবাই আছে।’ আরও চার-পাঁচজন ঘরে ঢোকে। একজনকে চিনতে পারেন তিনি, ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
‘আপনারা, আপনারা এখানে কেন?’
ইতোমধ্যে মেয়েটিও উঠে বসেছে। তালুকদার সাহেব ভুত দেখার মত চমকে উঠেন। ‘আমি ওকে ঔষধটা দেই নি। বাথরুমে ফেলে দিয়েছি।’ রাশেদ হাসে।
‘তুমি কে?’
‘আমি ডিবির সহকারি পুলিশ সুপার। নতুন যোগদান করেছি। আপনার কেসটাই আমার প্রথম।’
‘তু তুমি...’
‘জ্বী। আপনার সাথে ঐ রেস্টুরেন্টে দেখা হবার ঘটনাটা সাজানো। আমাদের পুলিশ সুপার সাহেব মাতালের অভিনয়টুকু করেছেন। আর আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কাজটা করেছি।’
‘কী সর্বনাশ!’
‘এ পর্যন্ত চারটা কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করলাম। কিন্তু কোন সূত্র পাই না। কোন কূল-কিনারা করতে পারছি না। তবে একটাই মিল - কিশোরীগুলো সব এই এলাকায় নিখোঁজ হয়েছে।’
‘আমি করেছি কীভাবে বুঝলে?’ তালুকদার সাহেব ভয়ে কাঁপছেন।
‘এত বড় একটা কাজ করতে ক্ষমতা আর অর্থ দু’টোই লাগে। আগের চারটা হজম করে ফেলেছেন। কিন্তু ওদের একটা লাশ আমরা পেয়েছি। আপনার ফ্যাক্টরির পিছনের ঝোপের কাছে। মাটিতে পুতে রাখা হয়েছিল। অবশ্য মিডিয়ার কাছে তা গোপন রেখেছি আমরা। লাশের গায়ে চুল পাওয়া গিয়েছে। আমারা চুলের ডিএনএ করিয়েছি। এপরপর গোপনে এই এলাকার অনেকের চুল নিয়েও একই কাজ করেছি। কিন্তু মেলে না। কারও সাথে মেলে না।’
‘আমার চুল?’
‘ঠিক তাই। গোপনে আপনার চুলও নেয়া হয়েছে। লাশের গায়ের চুলের সাথে তা মিলেও গিয়েছে।’
‘এতেই বুঝে ফেললে আমি কাজটা করেছি?’
‘এতটুকু প্রমান নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই কৌশলে আপনার কাছাকাছি চলে আসি। আমরা জানতাম আপনি এ’কাজ আবার করবেন।’
‘ওহ! গড!’
‘আজকে হাতেনাতে প্রমানসহ সব পরিস্কার হলো। আমরা কেসটা রিপোর্ট করে আদালতে পাঠিয়ে দিব। আপনার কিছু বলার থাকলে ওখানেই বলবেন।’ রাশেদ গর্বিত পদক্ষেপে বেরিয়ে যেতে থাকে।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ২৭১ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ২১/০৫/২০১৮

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • এম এম হোসেন ১০/০৬/২০১৮
    বেশ ভাল।
  • দীপঙ্কর বেরা ২৪/০৫/২০১৮
    বাহ
    দারুণ হয়েছে।
  • মোঃ আরিফুল মিয়া ২৩/০৫/২০১৮
    দারুন কবি ভালো লাগলো
  • বেশ লেখনী।
  • সুন্দর
  • ভাল।
  • দারুন ছোট গল্প!!!!
 
Quantcast