www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

প্রজাপতি

প্রজাপতিটা বসেছে বাম হাতের কব্জির সামান্য নীচে।
সাদাফ অবাক হয়ে দেখছে। কী সুন্দর লাগছে! গাঢ় হলুদের উপর বাদামীর ছোপ, গুটি গুটি। পাখার শেষের দিকটা শুধুই বাদামী। তার উপর সাদা কয়েকটা বৃত্তের মত। প্রকৃতির এ জিনিসটা সাদাফের ভীষণ ভাল লাগে। কীভাবে যেন চমৎকার একটা ভারসাম্য নিয়ে আসে সব কিছুতে। এই যেমন, এখন যদি বাদামীর উপর সাদা না হয়ে বাদামী বৃত্ত থাকত তাহলে বোঝাই যেত না। অন্য রঙের বৃত্তও তেমন মানাত না। আবার হলুদের উপর বাদামী ছোপগুলোও কেমন মানিয়ে গেছে দারুণভাবে। প্রকৃতি সব সময়ই অসম্ভব সুন্দর, এবং সুন্দরের পুজারীও। প্রকৃতিকে তাঁর মত থাকতে না দিলেই যত ভেজাল। কত রকমের সমস্যা হয় তখন! যাহোক, আকারে বেশী বড় না প্রজাপতিটা। পুরো পাখা মেললে ইঞ্চি দুয়েক হবে।
এই প্রজাপ্রতিটাকে সাদাফ চিনে। ক্যালগেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যালিয়েন্টোলজি পড়ার সময় কীট-পতঙ্গ কিছু পড়তে হয়েছে। তাই ও জানে, এই প্রজাপতির নাম ‘পেইন্টেড লেডি’। আশ্চর্য নাম, তাই না? বৈজ্ঞানিক নামটা অবশ্য এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। বিদঘুটে কিছু একটা ল্যাটিন বা গ্রীক নাম হবে। পেইন্টেড বলা ঠিক আছে - কারণ শিল্পীর তুলিতে আঁকার মত প্রকৃতি আপন হস্তে সাজিয়েছে একে। প্রকৃতির চেয়ে নিখুঁত শিল্পী আর কে আছে? সেবার প্রকৃতির তৈরী গ্রান্ড ক্যানিয়ন দেখতে গিয়েছিল সাদাফ। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে নিজেকে ক্ষয়ে ক্ষয়ে উন্মুক্ত করেছে নিটোল দেহখানি - আহ! কী অপূর্ব! প্রকৃতি নিজেই এঁকেছে নিজেকে এখানে। জগতের সবচেয়ে উত্তম রঙতুলিটা নিয়ে কোটি বছরের রঙ-মিশেলে বানিয়েছে বিরাট এক ক্যানভাস। এ শুধুই দেখার, পঞ্চইন্দ্রিয় দিয়ে। রীতিমত ডুবে গিয়েছিল ক্যানিয়নের গভীর খাদে।
তাই বলে, এই প্রজাপতিটিকে ‘লেডি’ কেন ডাকে এ ব্যপারে প্রকৃত কোন ব্যাখ্যা সাদাফের কাছে নেই। এ ধরনের সব প্রজাপ্রতিই যে স্ত্রীলিঙ্গের হবে তার তো কোন মানে নেই। পুরুষও আছে নিশ্চয়! ওদেরকে কী বলবে - পেইন্টেড জেন্টেলম্যান? তবুও কেন যেন পেইন্টেড লেডি নামটা খারাপ লাগছে না। সুন্দরী নারীর মত মনে হচ্ছে। ঠিক ওর নিজের স্ত্রীর মত। ক্যালগেরি শহরে থাকে সে। শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা রূপসী আফ্রোডাইটি যেন! বিশেষ করে, বাদামীর উপর সাদা বৃত্তগুলিকে ঠিক স্ত্রীর মোহনীয় চোখের মত লাগছে। প্রজাপতিটিকে স্ত্রীর নামে ডাকলে কেমন হয়?
কোত্থেকে প্রজাপতিটা গায়ে এসে বসল, কে জানে? সপ্তাহ দু’য়েক হল এখানে এসেছে সাদাফ। প্রজাপতি চোখে পড়েনি এখনো। পোকা-মাকড় দেখেছে বেশ কিছু, মশার উৎপাত ভালই। তবে নান্দনিক তেমন কিছু চোখে পড়েনি। তাই হঠাৎ প্রজাপতি দেখে কিছুটা বিষ্মিত এবং আপ্লুতও। প্রজাপতি গায়ে বসলে কী সব হয়, ছোট বেলায় শুনেছে। সৌভাগ্যের কিছু হবে মনে হয়। অবিবাহিত থাকলে বিয়ে-টিয়ে হবে এরকমও শুনেছে। তবে সৌভাগ্যের কোন নিশানা দেখা যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। আর বিয়েতো কবেই শেষ।
এই জায়গাটাকে ঠিক দূর্গম বলা যাবে না। তবে জনবসতির ধরাছোঁয়ার বাইরে। সবচেয়ে নিকটের লোকালয়টিও প্রায় সত্তুর কিলোমিটার দূরে। সেই ছোট্ট শহরটির নাম, কংকলিন। কানাডার আলবার্টা প্রদেশের উত্তর-পূর্বদিকের সাচকাচুয়ান সীমান্তের কাছাকাছি এখন সাদাফ। ক্যালগেরি সাদাফের আসল নিবাস। পরিবার নিয়ে বেশ ক’বছর আছে সেখানে। হঠাৎ চাকুরির প্রয়োজনে প্রায় আটশ কিলোমিটার দূরের এ জঙ্গলে আসতে হল। হ্যা, পুরোটাই জঙ্গলাকীর্ণ। নাম না জানা গাছের সারি। জঙ্গলের বুক চিড়ে চলে গেছে একটাই হাইওয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর - নাম ৮৮১, বেশী প্রশস্ত না। হাইওয়ের দু’পাশে মাঝেমধ্যেই থাকার জন্য লজ, তেল-গ্যাসের কূপ, পাথর-খনি আরো কত কি! যেন গাজিপুরের ভাওয়াল শালবনের মধ্যে দিয়ে মধুপুরের রাস্তা। একটু পরপর বিভিন্ন কারখানা।
সাদাফ একটা পাথর খনিতে কাজ করছে। জঙ্গল কেটে বেশ বড় করে এই প্রকল্প এলাকাটা বানানো হয়েছে।
পাথর-খনিটা বেশী গভীর না - ষাট-সত্তুর ফুট হবে। খনি থেকে পাথর উত্তোলন করে মেশিনে ভাঙ্গা হয়। ভাঙ্গার পর ছোট ছোট পাথরের গুনাগুন যাচাই করার ব্যবস্থা আছে ভ্রাম্যমান ল্যাবরেটরিতে। সাদাফ কিছুদিন হল এই ল্যাবের দায়িত্বে আছে। সারাদিনে দু’তিনটা টেস্ট করতে হয়, বাকী সময় বসেই থাকে। একটু লেখালেখি আর ফেসবুকিং করে সময় চলে যায়। এ মুহূর্তে ল্যাব থেকে বের হয়ে জঙ্গলের ধারে চলে এসেছে সাদাফ। বসে থাকতে থাকতে পায়ে খিল ধরে গেছে। তাই একটু হাত-পা ঝাড়া আর জঙ্গলের টানে বাইরে এখন। প্রকল্প লাগোয়া জঙ্গলে ঢুকবে এরকম সময়ে প্রজাপতিটা হাতে এসে বসেছে। সাদাফ মুগ্ধ হয়ে দেখছে প্রকৃতির এ চমৎকার সৃষ্টিকে।
কর্মীদের থাকার জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প বানানো হয়েছে রাস্তার ধার ধরে। পুরো হাইওয়ে ধরে সারি সারি ক্যাম্প কিছুক্ষণ পর পর। সাদাফ যে ক্যাম্পে থাকে তার নাম চীচ্যাম লজ। চারিদিক জঙ্গলঘেরা, জানালা থেকে জঙ্গলটা বেশী দূরে না। প্রায় ছোঁয়া যায় এরকম দূরত্বে। বেশ ঘন জঙ্গল সেখানে, দৃষ্টি আটকে যায়। আজ সকালে আরো ঝাপসা লাগছিল জঙ্গলটা। বৃষ্টি হচ্ছিল শেষরাত থেকেই, মুষলধারে বৃষ্টি। চারিদিক ভাসিয়ে নেয়া বারি সবেগে নামছিল। নিশ্চুপ চারিধার - কোথাও কেউ নেই। শুধুই অম্বুপতন, বিরামহীন। সতৃষ্ণে তাকিয়ে আছে সাদাফ, অনেকক্ষণ ধরে। আবছা আলোয় বনের সবুজ পাতার দিকে - পাইন আর পপলারসারি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ওখানে।
বৃষ্টি নিয়ে ভুরি ভুরি সাহিত্য আছে। সাদাফ ভাবে, ‘আমি কোথাকার কে ওসব লেখার। আমার কষ্টটাই শুধু বাজছে এখন। মন বড় উতলা - খুঁজছে শ্যামবরণ কালোপরীর সান্নিধ্য। আর অবধারিত টিনের চাল। বাসা-লাগোয়া সানরুমটা হলেও চলত। ঝমঝম শব্দ হবে আর আমরা দু’জনে মিলে গরম চায়ে ভিজিয়ে টোস্ট খাব। স্কয়ারের ঘিয়ে ভাজা টোস্টটা অমৃতের মত লাগে খেতে। কত ছোট্ট চাওয়া - হায়! তাও পূরণ হচ্ছে না। জীবন বড় নিষ্ঠুর! ভীষণ!!’
প্রজাপতিটির দিকে তাকিয়ে সাদাফ ভাবছে, গত তিন বছর শুধুমাত্র শীতের সময়ই এখানে এসেছিল। ভূতত্ত্ববিদদের সাধারণ কাজ - তেলকূপসংলগ্ন হয়ে মাটি খোড়ার ভূতত্ত্বীয় কর্মকান্ড। উত্তর গোলার্ধের ছাপ্পান্ন ডিগ্রী অক্ষাংশ-নিকটবর্তী এসব অঞ্চলে শীতটা একটু বেশীই পড়ে। তাই প্রজাপতিতো দূরের কথা সামান্য পোকা-মাকড়ও দেখা যায় না সেসময়। সাদাফ ভাবে, সারা শীত কোথায় যায় এরা? কীভাবেই আবার চলে আসে গরমের সময়? শেষবার যখন এসেছিল - বেজায় ঠান্ডা তখন! হিমাংকের নীচে সাতচল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সব থমকে যায় এই ঠান্ডায়, বিশেষ করে রাতে। অন্ধকারে নিস্তব্ধ চারিধার, শুধু বিদ্যুতের আলো চোখ মেলে। উষ্ণ কম্বলে মুড়ি দিয়ে তখন রাজ্যের ভাবনা। একাকীত্বের গান র্ককশ সুরে বাজে দু’কানে। বিহঙ্গ মন উড়ে যেতে চায় সুদূরপানে। কতদূর ক্যালগেরি, আটশ কিলোমিটার!
একাকীত্বে বড় অসহায় সাদাফ, সব সময়। অসুস্থ হয়েছিল একবার, একা থাকার সময়। ছোট্ট অসুখ - কিন্তু বড় যন্ত্রণা। লজ্জা পেতে হয় বলতে গেলে, ‘পাছার কাছে মস্ত ফোঁড়া।’ ডাক্তার-অ্যানেস্থেশিয়া-কাটাকুটি হুলুস্থুল। আত্মীয়স্বজন কেউ নেই কাছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নয়ন মনোহর প্রকৃতির মাঝে রীতিমত উদ্বাস্তু জীবন তখন। অবশ্য বন্ধু সাব্বির আর ডাক্তার মাহবুব পাশে ছিল। ভাগ্যকে সবসময় ধন্যবাদ জানায় সাদাফ। সাব্বির ঠিক বউয়ের মত সেবাটা করে দিল আর মাহবুব ভাই চিকিৎসা শাস্ত্রীয় পর্বটা। একটু বেকায়দা হলেও উৎরে গেছিল সেবার।
তবে, এবারেরটা তত ভয়াবহ অসুখ না। মূত্রথলিতে সংক্রমন। ভেজালমুক্ত দেশে এ অসুখ কারও হয়? নিজেই যে ভেজাইল্লা! সাদাফ ভাবে আর হাসে। হায়! এবার আর কেউ নেই সাথে। নেই মানে নেই, পরিবার-বন্ধু-আত্মীয় কেউ না। যন্ত্রণা-কষ্ট-সহ্য সব নিজের সাথে। হাসপাতাল-ডাক্তার-ঔষধ সব আপন হস্তে। দিন তিনেক পরে স্বস্তি - পরিস্থিতি আপাতঃ নিয়ন্ত্রণে। এসময়ই না মায়ের মুখটা বেশী বেশী ভেসে উঠে সাদাফের।
যাহোক, ক্যালগেরি থেকে গাড়ি চালিয়ে এখানে আসতে হয়। আসার পথে দৃষ্টিনন্দন শহরটা চোখে পড়ে সব সময়। লাক লা বিচ্শ - শহরের নাম হিসেবে ব্যতিক্রমীই বলা যায়। স্থানীয় আদিবাসীদের দেয়া নাম, যার মানে দাড়ায়, এলক লেক বা লাল হরিণের দিঘী। নামের চেয়েও অধিক সুন্দর লেকটা; বিশাল এবং দৃষ্টিনন্দন। সাদাফ যাত্রাপথের এই লাক লা বিচ্শ শহরের সৌন্দর্য উপেক্ষা করতে পারে না কোনভাবেই। এবার গরমের সময় - তাই চারিদিকে ঘন সবুজ। এর মধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছে ঝির ঝির। লেকের উপর বৃষ্টিপতন অপার্থিব লাগছে। লেক-ঘেষা রেস্টুরেন্টে বসে ভক্ষণ আর বৃষ্টিদর্শণ তাই যুগপৎ। আহ! বেশ আনন্দ লাগছে সাদাফের। যদিও একাকীত্ব সাদাফের ঠিক উপভোগ্য নয়। কিছু হলেই সাদাফের স্ত্রীর কাছে বলতে ইচ্ছে করে। তবে সম সময় বলা হয়ে উঠে না। কেমন নির্লিপ্ত হয়ে শোনে সে। বলার আনন্দ অনেক কমে যায়। তবুও বলতে ইচ্ছে করে। সম্প্রতি দেখা ‘লাস্ট ভেগাস’ ছবির সেই লোকটার মত।
নেটফ্লিক্সে কমেডি মুভি দেখতে ভালই লাগে সাদাফের, নির্ভেজাল আনন্দ কিছুক্ষণের জন্য। শিল্পে ভারাক্রান্ত সিরিয়াস মুভির ধারেও যায় না। সেদিন ‘লাস্ট ভেগাস’ দেখছিল। রেটিং এ অনেক নীচের দিকে - পাঁচের মধ্যে মাত্র তিন। তবে রবার্ট ডি নিরো, মর্গান ফ্রিম্যান, মাইকেল ডগলাস, এরা থাকলে রেটিং দিয়ে কী করবে? যাহোক, ছবির কাহিনী এরকম - চার বন্ধুর অমর বন্ধুত্ব আটান্ন বছর যাবৎ ঝিকার (ওদের দেশে বলে ‘কাইফলা’) আঠার মত লেগে আছে। চার বন্ধুর পরিচয় - দ্য ফ্লাটবুশ ফোর। এদের একজন এখনো বিয়ে করেনি। সত্তুর বছরের সেই বন্ধু হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করবে। এবং বিয়ের অনুষ্ঠান হবে লাস ভেগাসে। চার পৌঢ় বন্ধু ভেগাসের ঝলমলে আলোয় উপস্থিত হয়। উদ্দেশ্য, ম্যারিড ব্যাচেলর পার্টি।
এক বন্ধুর চল্লিশ বছরের বিবাহিত জীবন, প্রচন্ড ভালবাসা দু’জনের - স্ত্রীর অতিপ্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আছেন। তো স্ত্রী তাকে বিদায় দিবার সময় হাতে একটা খাম দিয়ে বলে, ‘ভেগাস গিয়ে এটা খুলবে।’ বন্ধুটি খাম খুলে অবাক - একটা ভায়াগ্রা পিল আর কনডম। যাহোক, বন্ধুটি জীবনের প্রথম একজন হুকারের সাথে অন্তরঙ্গ হবে হবে অবস্থায়। হঠাৎই বলে উঠে, ‘whenever something spectacular happens to me, first thing I want to do is tell my wife about it, if I can't tell her about something wonderful that happened to me, it sort of stops being wonderful.’
হুকারটা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। চোখ জলে ভরে যায় মেয়েটির। অস্ফুটে বলে, ‘I understand. I really hope that I get to marry a guy like you one day. Lemme dressed up.’ সাদাফের চোখও ভিজে যায় সহসাই। এক প্রজাপতি কত স্মৃতি নিয়ে আসে। দুই দশকের বেশী পার হয়ে গেছে সেই কবেই। এখনো চোখে ভাসে সেই দিনটার কথা - দু’জন লাজুক তরুন-তরুনী খিলগাঁও কাজী অফিস থেকে বের হল।
সেসব কথা থাক। সাদাফ প্রজাপতিটা দেখছে এখনোও। গতবার যখন এসেছিল, শীতের রাত ছিল। অন্য দিনের তুলনায় ঠান্ডা ততটা না - হিমাংকের নীচে তিরিশ হবে। রাত্রি বেশ বড় এখানে। তাই দিনটা ফুড়–ৎ করে চলে যায়। তার মানে, রাত্রি দ্বিপ্রহর পার হয়ে আড়াইটা বোধ করি সর্বোচ্চ নিশুথী। সাদাফ বের হয়েছে ক্যাম্প থেকে, তেলকূপ এলাকায় যেতে হবে। জরুরী তলব, তেলের চাপটাপ বেড়ে গেছে আর কি। সাদাফের গাড়ি ধীরে ধীরে চলছে - ঘন্টায় তিরিশ কিলোমিটার বা তারও কম। জঙ্গল কেটে বরফ পিষে সদ্য বানানো অস্থায়ী রাস্তা। সরু - দু’টো গাড়ি পার হতে পারে এতটুকু প্রশস্ত। দু’ধারে ঘন জঙ্গল, গায়ের উপর এসে পড়ে প্রায়। চারিদিক প্লাবিত, বরফ-সাগরে প্লাবিত - সূর্য্যরে থেকে ধার করা চাঁদের কিরণে। বরফে প্রতিফলিত হয়ে কিরণ শতগুণ তখন। গভীর রাতেও একশ হাত দূরের জিনিস পরিস্কার দৃষ্টিগোচর। আচমকা প্রতিবর্তি ক্রিয়ায় গাড়ি ব্রেক করে সাদাফ। মাথা নাড়িয়ে একটা ক্যারিবু রাস্তা পার হচ্ছে হেলেদুলে।
গরু-হরিণের মত কিছু কিছু প্রাণী এই শীতেও মাঝে মাঝে দেখা যায় এখানে। এদের দেখে একটু ভয়ও লাগে সাদাফের। এখন আরো বেশী লাগছে। নিñিদ্র একাকীত্বে ভয়টা বেশী করে জেকে বসে। ফকফকে জ্যোৎ¯œায় রিয়ার ভিউ মিররে দেখা যায়। প্রথম দেখায় একটু ধন্ধ। এরপর কয়েকবার চোখ চলে যায়। তারপরই ভয়ের একটা শীতল স্রোত বয়ে যায় শরীর জুড়ে। স্টিয়ারিং এর উপরে হাত কাঁপতে শুরু করে একটু একটু। আবারও তাকায় সাদাফ। জলজ্যান্ত একটা মুর্তি বসে আছে যেন গাড়ির পিছনের সিটে। অবয়বটা পরিস্কার ধরা পড়ছে। কালো মুখমন্ডল স্পষ্ট। অথচ ও একা গাড়িতে। মানবমুর্তি এলো কোত্থেকে? পাথরের মত ভারী হয়ে গেছে সাদাফের শরীর। এক্সেলেটরে পা বসে গেছে যেন। গাড়ি থামাতেও পারছে না। চিৎকার করার শক্তি অনেক আগেই শেষ।
অ্যাড্রেনালিন বের হয়েছে অবশ্যই, কোন সন্দেহ নেই। হৃৎপিন্ড অকস্মাৎ আদেশায়িত হয়ে ব্লাড পাম্পিং বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। স্পর্শ ছাড়াই স্পষ্টত দৃশ্যমান - আর্টারি-ভেইন দিয়ে রক্তের ত্রস্ত পরিভ্রমন। ফুসফুস বড় হয়ে যাওয়ায় বর্ধিত শ্বাস-প্রশ্বাস, ফোঁসফোঁস। আশ্চর্য! ওর চোখের মনি বড় হয়ে আকাশের তারার আকার ধারণ করে ফেলেছে। যেন যুদ্ধ-কবলিত বিস্মিত-ভয়ার্ত শিশুর পোস্টারের মুখ। সাফাতের হাত-পা কাঁপছে নিয়ন্ত্রণহীন। ভয় বিষয়টা বড্ড এরকমই - স্তব্ধ করে দেয় সহসাই।
কোন সাড়াশব্দ নাই কোথাও। নিñিদ্র জঙ্গলের মাঝে বরফ-সাদা রাস্তায় সাদাফ একা। ধীর গতিতে গাড়ি এগিয়ে চলছে। পিছনের সিটে বসে আছে নিশ্চিত ভুত। ছোটকাল থেকে শিখে নেওয়া সকল দোয়া-দুরুদ পড়ে ফেলেছে এরি মধ্যে। একটা বিশেষ দোয়া ছোটবেলায় শিখেছিল, ভয় পাওয়ার সময় বলতে হয়। নিঃশব্দে আউড়ে যায় সাদাফ। কতক্ষণ হয়েছে ঠিক জানে না ও। একসময় গাড়ি তেলকূপের কাছে চলে আসে। অবশ পায়ে গাড়ির ব্রেকে চাপ দেয়। ট্রান্সমিশন পার্কিং এ রেখে ভয়ার্ত চোখে পিছনে তাকায়। আরে! কোথাও কিছু নেই। সিট খালি। ভয়ের পাথর সরিয়ে পুরো বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করে। ওহ! এই কথা - সামনের সিটে জিনিসপত্র এমন করে সাজানো যে তার ছায়া পড়েছে পিছনের সিটে। একেবারে মানুষের অবয়ব ধরে। কী বোকা রে, মনে মনে বলে সাদাফ।
প্রজাপতিটা হাতে নিয়েই চারিদিকে তাকায় সাদাফ। উঁচুনীচু পাহাড়ে সয়লাব। বিখ্যাত রকি মাউন্টেনের ছিটে-ফোঁটা অবশ্য এদিকে সেই। তবে উত্তর আমেরিকা মহাদেশ গঠনের সাথে এই পাহাড়ের যোগসূত্র আছে। উত্তর আমেরিকা মহাদেশের গঠনটা কিন্তু অদ্ভুত! সেই সাথে আরো বিচিত্র, নয়নাভিরাম রকি মাউন্টেন তৈরী হওয়া। পৃথিবীর শুরুর দিকে সবগুলো মহাদেশ একসাথে ছিল সুখে-দুঃখে - যেন একান্নবর্তী পরিবার। অতঃপর যা হবার তাই। কেউ কাউরে মানে না, ভাগ হয়ে গেল একে একে। খন্ড খন্ড ছড়িয়ে গেল যত্রতত্র। এক খন্ড ভাসতে ভাসতে এখানে - যার নাম উত্তর আমেরিকা। মহাদেশটি ভালই ছিল গায়ে-গতরে - সরু কোমর আর প্রশস্ত বুকের ছাতি। কিন্তু স্বভাবে খাই খাই। আরো দেও, আরো চাই - এরটা-ওরটা সব। স্বভাব যেমন, পেয়েও গেল তাই। পশ্চিম দিক থেকে কেমনে কেমনে জানি আসতে থাকে আরো আরো ভুখন্ড। আসে আর উত্তর আমেরিকার সাথে ধাক্কা দিয়েই লেগে যায় ঠিক আঠার মত। ফুলে ফেঁপে উঠে, আবেশে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে উত্তর আমেরিকা।
স্বভাব যায় না ম’লে। তাই আরো চায়। আবার ভুখন্ড আসে, আবার লাগে। ক্রমশঃ বড় হয় মহাদেশ, একসময় রূপ নেয় বর্তমান সৌন্দর্যের। এদিকে ধাক্কাধাক্কির কারণে মহাদেশের পশ্চিম পাশ উঁচু হতে থাকে। ধাক্কা লাগে আর উঁচু হয় - অনেক উঁচু। আবার ধাক্কা - আবার উঁচু। উঁচু হওয়া যেন থামে না উত্তর আমেরিকার সারা পশ্চিম উপকূল ধরে, দক্ষিণ থেকে উত্তরে সুদূর আলাস্কা পর্যন্ত। আর এমনি করেই গ্রেট রকি পর্বতমালা দাঁড়িয়ে যায় মাথা উচু করে বীর দর্পে ভুবনমোহিনী রূপ ছড়িয়ে। অথচ রকির অভ্যন্তরে আছে উপরের জিনিস নীচে, নীচের জিনিস উপরেসহ যত সব ওলোট-পালট বিতিকিচ্ছিরি কান্ড।
বাংলাদেশের বিত্তবানদের দিকে তাকালে সাদাফের কমবেশী যেন এরকমই মনে হয়। ভীষণ অর্থলোলুপ এই জনগোষ্ঠী। শুধু খাই খাই স্বভাব, এরটা-ওরটা বৈধ-অবৈধ পথে কেড়ে নিয়ে বিত্তের পাহাড় গড়ে। সেই অবৈধ অর্থ দিয়ে সৌন্দর্যের রকি বানায় - দেদার খরচ করে। এসব বিত্তবানদের কারো কারো খোলসে আধুনিকতার চকমকে আচকান। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে ভিতরে নরকের অন্ধকার - মানষিকভাবে ভীষণ কুৎসিত আর নপুংশতার ছড়াছড়ি।
প্রজাপতিটা যেমন উড়ে, সাদাফেরও উড়তে ভাল লাগে। ভাল লাগে চরতে। লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে কাজে আসতে হয়। আসার পথে আঁকাবাকা সর্পিল গতিতে বয়ে চলা আথাবাস্কা নদী। প্রশস্ত না তেমন তবে গঠনে মিয়ান্ডারিং রিভার। ভূতত্ত্ব, ভূগোল পড়েছেন যারা তাদের কাছে পরিচিত এই মিয়ান্ডারিং রিভার। এক ধরনের নদীর গঠন। সবচেয়ে ভাল ব্যাখ্যা ঐ গানটাতেই আছে, ‘এ কূল ভেঙ্গে ও কূল তুমি গড়ো’। আদতেও তাই; এই নদীর শুধু কূল ভাঙ্গা-গড়ার বাসনা। যে জায়গা ঢালু পায়, আর নরম-দূর্বল - নদী সর্বনাশী হয়ে ক্ষয়ে-ভেঙ্গে-গুড়িয়ে দিয়ে যায়। নাগিনীর মত ফুঁসে ফুঁসে সর্পিল গতিতে, নিজের ইচ্ছেমত। দূর্বলের সাথে এই যে মরণখেলা - নদীর চিরন্তন। অথচ শক্তকে ঠিকই পাশ কাটিয়ে যায়। আশার কথা, সব নদীই কিন্তু এরকম না। ব্রেইডেড রিভার যেমন। এরা কালনাগিনীর মত সর্প-পথ মাড়ায় না। সোজা পথে চলে - কলকল করে, ঝরণার গান গেয়ে।
নদী ও নারী - কত কথা কত সাহিত্য! এরা কি একই? ‘এখানে রমনীগুলো নদীর মতন/ নদীও নারীর মত কথা কয়।’ বোধ হয় সত্যি। দূর্বল পেলেই আগ্রাসী ছোবল - নারীও অনেকটা তাই। এরপর এগিয়ে যায় কালনাগিনীর মত লকলকে জিহ্বা বের করে, পরবর্তী শিকারের দিকে। ভুলে যায় সব, রেখে যাওয়া নিঃস্ব-ভালবাসাকে। হাসে প্রেতের হাসি খক খক, মৃত্যু দেখে - দূর্বলের ভালবাসার মৃত্যু দেখে।
হাতে বসা প্রজাপতিটির দিকে তাকিয়ে আজ ভাবনায় পেয়েছে সাদাফকে। ভাবে ‘পরিবেশ’ কতকটা পণ্যের মত হয়ে উঠছে এখন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ ক’টি বিষয় আছে এই ডিসিপ্লিনে। ডিগ্রিধারীরা মোটা বেতনে চাকরি করেন, এখানে-ওখানে সেমিনারে-সিম্পজিয়ামে ভারী ভারী বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান। পরিবেশ-প্রকৃতির কথা বলেন, ফসিল ফুয়েলের বিরুদ্ধে বলেন। আশ্চর্য! সেমিনারে যাবার জন্য ফসিল-ফুয়েল-চালিত প্লেনে উঠা বন্ধ করেন না। হোটেল থেকে নেওয়া ট্যাক্সিটা তেল-চালিত সেটা কিন্তু তারা জানে। প্লাস্টিকের কফি মেশিন থেকে ধোয়া-উঠা কফি নিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন, সেটাও হাইড্রোকার্বনের। সুদৃশ্য কাঠের ওয়ারড্রোবে পোশাক রাখেন, সে ঐ পরিবেশ ধ্বংস করা বৃক্ষের। যে বাড়িতে থাকা হয়, সেখানে একসময় মনোরম প্রকৃতি ছিল - যা নগর দখল করেছে। পশ্চিমে তিনটি বিষয় বোধ করি টেকসই পণ্য হয়ে গেছে অধিক মুনাফার জন্য - পরিবেশ, হালাল আর অরগানিক। পণ্যে এদের ছাপ মারা থাকলেই দ্বিগুণ, নিদেনপক্ষে দেড়গুণ মূল্য অবশ্যই।
গরুর দুধেতো বাছুরের হক, মানুষ কেন তা গ্রাস করছে? মুরগী ডিম পাড়ে বাচ্চা দিবার জন্য, নিশ্চয় মানুষের খাবার জন্য নয়। মুরগী কী জানে তাদের প্রিয় সন্তান আমরা খেয়ে ফেলছি প্রতিনিয়ত। গরু-মুরগী প্রাকৃতিক ফুড-চেইনের অংশ, তাই বলে দুধ-ডিমও? প্রকৃতিবাদীরা কিছু বলে না, এখানে। গরুকে কৃত্রিম উপায়ে দৈনিক শ’য়ে শ’য়ে লিটার দুধ দেয়ার গবেষণা করা নিশ্চয় প্রকৃতি-বান্ধব নয়। কতক-জিনিস কেমন ভন্ডামী ভন্ডামী লাগে সাদাফের কাছে।
জ্বালানী তেলের জন্য প্রকৃতি ধ্বংস সেই কবে শুরু হয়েছে! পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় প্রকৃতি নামক চমৎকার সত্ত্বাটিকে। ক্ষতবিক্ষত করা হয় প্রকৃতির সুন্দর দেহখানি। কানাডাও এর ব্যতিক্রম নয় কোনভাবেই। বনের গাছপালা কেটে বন্যপ্রাণীর আবাসভূমিকে ধ্বংস করে অর্থলোলুপ লুটেরারা একেকটা তেলকূপ বানায়। শুষে নেয় যা কিছু সম্পদ আছে মাটির নীচে। শেষ হওয়া মাত্রই ছুড়ে ফেলে দেয় এ অঞ্চল। খুঁজতে থাকে নতুন তেলক্ষেত্র, আরো অর্থ কীভাবে আসবে। এদের অর্থলিপ্সা অফুরন্ত যেন সূর্য্যের আলোর মতই সত্য।
অনেকদিন থেকেই লক্ষ্য করছে সাদাফ। নিস্তব্ধ প্রকৃতি এখানে খান খান। যন্ত্রের শব্দে আর বিদ্যুতের তীব্র আলোতে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যহত অনেকটাই। রাতের নিস্তব্ধতাকে ভ্রুকুটি করে সারি সারি যানবাহন চলে যায় বিকট শব্দ করে হাইওয়ে ধরে। নিশ্চয় অদূরে থাকা বন্যপ্রাণী অসহায়ভাবে দেখে মানুষ নামক এই জীবটির ক্ষতিকর কর্মকান্ড। সাদাফ ব্যথিত হৃদয়ে প্রকৃতির এই করুণ মৃত্যু দেখে। প্রাণীকূলের অসহায়ত্ব ওকে ভীষণভাবে কাঁদায়।
এসব ভাবতে ভাবতে একদিন গাড়িতে করে যাচ্ছে বন বিদীর্ণ করে যাওয়া রাস্তা ধরে। হাইওয়ে-৮৮১ দিয়ে একশ দশ কিলোমিটার গতিতে তখন ফোর্ড-১৫০ ট্রাক। পাঁচ মিনিটের পথ মাত্র। ক্যাম্পে যেয়েই বিছানায় টান টান হবে। সকাল ছয়টা ছুঁয়েছে সময় তখন। অবশ্য সূর্য্য উঠে গেছে সেই কখন। চারটার আগেই আলো ফুটতে শুরু করে এ সময়টাতে। তবুও ভোরের মনোরোম আবহ রয়ে গেছে একটু একটু। দুপাশে ঘন জঙ্গল, পপলার আর পাইনে ভরা। সাথে জুনিপার আর হ্যাজেলনাটের ঝোপ। আলোছায়ার নির্বাক চলচিত্র গাড়ির ড্যাশবোর্ডে। চনমনে সাদাফ এখন, আচমকা দুম করে গতিরোধ। গাড়ির গতি একশ দশ থেকে শূন্যতে আসতে সেকেন্ড কয়েক উৎরে যায় নিশ্চয়। তবে নির্বিঘেœ যথাস্থানে থেমে যায়। সাদাফের মনে হয় যেন গান শুনছে, গভীর মনোযোগে।
লাফাতে লাফতে সুন্দর দর্শন একটা হরিণ ঠিক রাস্তার মধ্যিখানে, চোখ থেকে চোখ দেখা যায় দূরত্বে। থেমে পড়ে হরিণটি, আচমকা। তত বড় না - দুনিয়া বোধ হয় অতটা দেখেনি প্রাণীটি। বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে গাড়িসহ সাদাফের দিকে। গলা একটু বাঁকায়, নীচু করে আবার সোজা করে। পিছনের জঙ্গলের দিকে চায়, বোধ করি সামনেও। দুপা এগোয় গাড়ির দিকে, থেমে যায় আবার। সাদাফ নিশ্চল - স্টিয়ারিংএ দু’হাত। চারিদিক নিস্তব্ধ; যেন পাশের বাড়ির টিভির আওয়াজও শোনা যাবে, বা মোড়ের কাছে নিঃসঙ্গ কুকুরের ঘেউ ঘেউও পরিস্কার শোনা যাবে। এমনকি নিজের হৃদ-চলাচলও গানস্ এন রোজেসের হেভি বিটের মত লাগছে।
তখনই চট করে সংগীতটা কানে আসে সাদাফের। সুরটা অপরিচিত। হরিণটি মায়াময় চোখে অভিমানের সুরে গাইছে, ‘কে হে আগুন্তুক তুমি? আমার বাসস্থান চিড়ে চলে যাচ্ছ। নিঃস্তব্ধতাকে খান খান করে কর্কশ শব্দ করে। জান না আমি মুদিত চোখে মায়ের ওমে ছিলাম। তোমরা কারা হে? আমার জঙ্গলে, আমার বাড়িতে ঢুকে আমাদের শান্তি নষ্ট করছ। তুমি চলে যাও। আর এসো না।’ ধীর পায়ে রাস্তা থেকে নেমে যায় সে। রেখে যায় করুণ সুর, অধিকারের।
প্রজাপতিটা উড়ে গেছে ততক্ষণে। সাদাফ আবার ল্যাবে ফেরত আসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। স্যাম্পল এসেছে, টেস্ট করতে হবে।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৪৩৯ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৬/১১/২০১৭

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • অরণ্য আহমেদ ০৪/১২/২০১৭
    চমৎকার লিখেছেন...
  • সন্দীপন পাল ২৭/১১/২০১৭
    ভালো থাকার সবগুলো উপাদান রয়েছে
  • আবুল খায়ের ১৯/১১/২০১৭
    darun
  • গালিব আফসারী ১৭/১১/২০১৭
    অনেক ভালো লাগলো প্রিয়।
  • সুজয় সরকার ১৬/১১/২০১৭
    আপনার গদ্য পদ্যের মত সুন্দর।
  • মধু মঙ্গল সিনহা ১৬/১১/২০১৭
    ভালো লাগলো লেখক বন্ধু।
  • আপনার লেখাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়া হয়।খুব ভাল লেখেন আপনি।
  • সোলাইমান ১৬/১১/২০১৭
    খুব ভালো-
    অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
 
Quantcast