www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

শরতের শ্রাবণধারা

শরৎ এর শেষ বিকেলে গৌধূলীর দিগন্তজুড়ে সাতরঙা হাসি দিয়ে ফুটে ওঠে রংধনু।অপূর্ব রঙের মেলা,মায়াবী রঙিন ভুবন।আবার নীল আকাশে সাদা মেঘ মালা উড়ে উড়ে,হুরমুর করে এখনই নামবে শ্রাবণধারা।থমকে আছে সব নিরব নির্জন নিঃশব্দ।।নির্জনতা মাঝে মাঝে সংস্কার হয়,সুখ-দু্ঃখ ভাগ করে দেয়।কখনও নির্জনতা মঙ্গলের বার্তা বয়ে চলে,কখনও অথই দুঃখের সাগরের বেলায় বাসিয়ে দেয়।রমনা পার্কের লেকের পাড়ের বেঞ্চীতে বসে শরতের প্রাণবন্ত বিকেলের বিলাসে হারিয়ে গেছে আবীর আর অনি।চার পাশে কোথায় কি ঘটে যাচ্ছে তার কোন খেয়াল নেই।ভালবাসার সুপ্ত দিঘল বাড়ীতে অনবরত পদচারনায় দুমনের বাঁধন।আলপনার তুলিতে সুখের নীড় একে আদি অনন্তের পথে নির্জন নিঃস্তব্দ মায়া।

আজ দু-তিন দিন মনটা ভাল নেই আবীরের কি যেন একটা বিস্তার চিন্তার বোঝা মাথায় নিয়ে এলোমেলো ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।
রমনা পার্কের লেকের পাড়ের বেঞ্চীতে একা একা বসে থাকে।মাঝে মাঝে অনবরত গুনগুনিয়ে গান গায়।লেকের জলে সাতার কাটে কিছু মানাব-মানবী এ দৃশ্যগুলো উপভোগ করে প্রতিনিয়ত।মনে মনে ভাবে এ মানুষ গুলোর তো কোন নিজস্ব যায়গা নেই,রাতে মাথা গোজার ঠাই নাই।সারাদিন কাজ করে শহরেরে আনাছে কানাছে, সন্ধ্যালগ্নে এসে পার্কের লেকের জলে স্নান করে নিরে ফিরে যায়।অনবরত শ্রমিক শ্রেনীর লোকদের জীবনের সংগ্রাম চলে।ভাবতে ভাবতে আবীরের দুচোখ আশ্রু সিক্ত হয়ে যায়।কখন যে সন্ধ্যা গরীয়ে রাত হয়ে গেছে আবিরেরে কোন খেয়াল নেই।
অন্য দিনের মতো আজও আবীর লেকের বেঞ্চীতে বসে আছে,মনের মাঝে শরতের রঙ নেই,উল্লাস নেই।একটা সিগেরেট জালিয়ে নেশা খোরের মতো টেনে যাচ্ছে জীবনের হিসাবের খাতা খুলে।
হঠাৎ আবীরের মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো নাম্বার টা অপরিচিত তাই প্রথম বার রিসিভ করলনা।আরো তিন চার বার রিং বেজে গেল আবীরের ফোনের প্রতি কোন খেয়াল নেই।আবারও বেজে উঠলো মোবাইল ফোন আবীর ফোন রিসিভ করলোঃ হ্যালো,হ্যালো।
অপর প্রান্তে তখনও নিরবতা।আবীর হ্যালো হ্যলো করে ফোনটা কেটে দিল।
আবারও মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো তার করুণ সুরে আবীরের হৃদয়ের বেদনার সুর হয়ে। হ্যলোঃঅপর প্রান্তে পরিচিত একটি মেয়ে কন্ঠে সজ্ঞা ফিরে আশে আবীরের মুহুর্তের মধ্যেই প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠে আবীর।

অনি চার দিন পর আজ ফোন দিলো।এ চার দিন কোন যোগাযোগ ছিল না আবীর ও অনির।কোথায় তুমি জানতে চাইলো অনি।রমনা পার্কের লেকের পাড়ে বলতেই মোবাইল ফোনটা কেটে দিল অনি।আবীর কল ব্যাক করলো সাথে সাথে রিসিভ করলনা অনি।পিছন পিরতেই অনি কে দেখে চমকে গেলো আবীর।কিছু বল্লনা।অন্যদিকে মুখ পিরিয়ে দারিয়ে রইলো।অনি প্রথমে আবীরের হাতে দরলো,আবীর হাত ছারিয়ে নিতে চাইলো।অনির শক্ত হাতের বাঁধন টেনে ছারাতে পাড়লো না আবীর।দু-চোখ বেয়ে অশ্রু বেয়ে পরলো অনির।আবীর অনির চোখা চোখি হলো আবীর বল্ল এমন করলে কেন তুমি।এ চার দিন একটি বারের জন্যও খোঁজ নাওনি তুমি।মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখলে।অনির অশ্রুসিক্ত নয়নে মুক্তজল গরীয়ে যাচ্ছে তখনও।অনি বল্ল আবীর আমি দুঃখিত তোমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য।আমি তোমার ভালবাসা পরিমাপ করতে চেয়েছিলাম,আমিও অনেক কষ্ট পেয়েছি।তুমি আমাকে এতো ভালবাস।আমার জন্য তুমি প্রতিনিয়ত পার্কের জলের সাথে অশ্রুজল ভাসিয়ে সত্যিই তোমার কাছে হেরে গেলাম।আবীর বল্ল অনি ভালাবাসার মানুষকে কাছে পেয়ে হারানোর অনেক ভয় হয়।তোমাকে হারানোর ভয় অনবরত আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।এ চার দিন আমার চার হাজার বছরেরে মতো কেটেছে।অনি বল্ল চল বেঞ্চীটাতে বসি, প্রতিদিনের মতো আবীর অনির বুকে মাথা রাখলো।

অনি আবীরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বল্ল তোমাকে নিয়ে বাকী জীবনটা এমন করে কাটিয়ে দিতে চাই সুখের নৌক করে।আবীর অনিকে আরো শক্ত করে জরিয়ে দরলো,অনি খেয়াল করলো বির বির করে আবীর কি যেন বলে গেল,অনি কিছুই বুজতে পারলোনা।শরতের গৌধুলির আলো অনেক আগেই হারিয়েছে সন্ধ্যালগ্নে।চার পাশ অন্ধকার হয়ে এলো,মেঘের গর্জন থেমেই সাথে বিজলী হনহন করে এখনই শ্রাবনধারা নামবে মনে হয়।অনি একটি কবিতা গুন গুন করে আবৃত্তি করলো।
তুমি শুভ্রতা মেখে উড়ো উড়ো
ভালোবাসা হয়ে ঝড়ে পড়।
শ্রাবণধারায়।
তোমাতে ধুয়ে মুছে যাক
হৃদয়ের কালিমা।
শূন্যে হারিয়ে যাক বেদনা
এলোমেলো এ লগণ বর্ষণে
ঝরে পড় শ্রাবণধারায়।
শ্রাবণের অজর ধারা ঝরে পরলো আবীর অনির চোখে।দুজন দুজনকে জরীয়ে দরলো।এমন করে আগে কখনও কেহ কাওকে এত আপন করে পায়নি।আজ শ্রাবণেরর বৃষ্টিজলে ভিজে সিক্ত দুই প্রেমিক যুগল হারাল ভালবাসার দ্বিতীয় আধ্যায়।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৯৬ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০২/০৭/২০১৯

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

  • valo legece
  • ভাষার শব্দচয়নে আমি বাকরুদ্ধ , বিস্মিত !
  • SOUMEN KUMAR CHOUDHURI ০৮/০৭/২০১৯
    অসাধারণ...
  • অসাধারণ লেখনি।
  • জসিম বিন ইদ্রিস ০৪/০৭/২০১৯
    ঋতুর মতই মানুষের জীবন। ভিজতে থাকুন উন্মুক্ত ঝরণা ধারায়।
  • বেশ!
  • শামিম ইশতিয়াক ০২/০৭/২০১৯
    ভালো লাগলো
 
Quantcast