রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।  রবীন্দ্র বাণিজ্য ভবনের পূর্বপাশের প্রবেশদ্বার। বিজনেজ অনুষদের জুনিয়রদের সমাবেশ- (পরীক্ষা পদ্ধতি) সেমিষ্টারের দাবিতে। মাইক এনে তোড়েজোড়ে চলছে আন্দোলনের মহড়া। ক্যাম্পাসে সকাল থেকে কানাঘুষা চলছে সিনিয়র ভাইরা ( যারা ইয়ারলী পরীক্ষার পক্ষে, কেননা ইতোমধ‌্যে তারা এখানে এসে সেশনযটে বিয়ের বয়স পার করে ফেলেছে।) জুনিয়রদের উত্তম-মধ্যম দেবে। এ নিয়ে মোটামুটি টেনশনে ক্যাম্পাস! শহীদুল্লাহ কলাভবনের ৪র্থ তলায় বসে ক্লাস করছিলাম। হাঠাত টুকিটাকির দিক থেকে হৈচৈ শুনতে পাই। সাটার মারা শব্দ, চিত্কার চিল্লা-ফাল্লা।
ঘটনা হল- সমাবেশে বড়দের আগমন হবে এই আশঙকায় আমাদের মহান পুলিস বাহিনী অতি উত্সাহী হয়ে জুনিয়রদের লাঠিপেটা করে গেইট থেকে তাড়িয়ে দিলে শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। শুরু হয় ছাত্র-পুলিশ ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া। আমরা কলা ভবন থেকে পরম মমতায় (ছাত্রদের প্রতি অন্যায় আক্রমণের প্রতিবাদে) পুলিশদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকি। বাণিজ্য অনুষদের জুনিয়র-সিনিয়র ছাত্ররা শহীদুল্লাহ কলাভবনে এসে আশ্রয় নিলে লড়াই বাঁধে কলা ভবনের ছাত্রদের সাথে পুলিসের। এক পর্যায়ে এক পুলিসের মাথা ফেটে গেলে পুলিস ফাকা গুলি আর টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে থাকে। মূহুর্তে পরিস্থিতি পাল্টে যায়, জুনিয়র-সিনিয়র ইস্যু ভুলে ঘটনা দাঁড়ায় ছাত্র-পুলিস লড়াই। পরদিন প্রতিটি জাতীয় দৈনিকের হেডলাইন-" রাবিতে রণক্ষেত্র"ছাত্র,পুলিসসহ ৫০জন আহত। "ছাত্র-পুলিসের লড়াইয়ে নতুন ডিনস ভবন, কলা ভবন, আর নতুন বাস ভাঙ্চুর। ক্যাম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা।"

এই আমাদের দেশ! এই আমাদের রঙ্গিলা ক্যাম্পাস!! সেলুকাস!!! ঘটনার পটভুমিকা ছিল কী বিষয়ে আর কারা ছিল কুশিলব। আর ঘটল কী?? দিনশেষে কারা কুশিলব। সেলুকাস ক্যাম্পাস!!