প্রায় দশ বছর আগে যখন প্রথম হোস্টেল উঠলাম। ক্লাস থ্রিতে পড়ি। বছরে মাত্র তিনটা ছুটি পেতাম। ছুটির আগের দিন রাতে ঘুম হতো না। উত্তেজনায় নাকি আনন্দে ঠিক বলতে পারবো না।
সাধারনত দেখা যেত যেদিন ছুটি হবে সেদিন একটা পরীক্ষা আছে। পরীক্ষা দিয়ে তারপর বাসায়। আমি ওই শেষ পরীক্ষাটা সবচে দ্রুত শেষ করতাম। আর রেজাল্ট দিলে অবাক হয়ে দেখতাম ওই সাবজেক্টেই সবচে কম নম্বর পেয়েছি। যদিও কোন সাবজেক্টেই খুব ভালো মার্কস পাওয়ার অভ্যাস ছিল না।
এই গল্পটুকু সব হাউসবয় রেমিয়ানদের(তবে ভালো মার্কস পাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই ছিল)। পরের অংশটুকু আমার। হয়তো এটাও সব হাউসবয় রেমিয়ানদে...(ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্রদের ডাক নাম রেমিয়ান)
পরীক্ষা শেষ করে শুরু হতো অপেক্ষা। কখন আব্বু আসবে। আব্বু আমার ছুটির দিন সকালে শরীয়তপুর থেকে রওনা করতো। ফলাফল কলেজের হোস্টেলে আসতে আসতে বিকাল। ততক্ষনে হোস্টেল প্রায় ফাঁকা। খুব কান্না পেত তখন। ওয়াশরুমে গিয়ে কাঁদতাম। হোস্টেল লাইফে বাসার জন্য কান্নাকাটি করতে আমাকে কেউই দেখেনি। কান্নাকাটির ইতিহাসও খুব সমৃদ্ধ নয়। তবে ছুটির দিনটায় আব্বু দেরি করলে আর আটকে রাখা সম্ভব হতো না।
তারপর যখন আব্বু আসতো আর আব্বুর হাত ধরে বাসে উঠতাম তখনও কান্না পেত। আনন্দে।
আজ অনেকদিন পর বাড়ি যাচ্ছি। বাসে বসে আছি। অনুভুতিটা সেই ক্লাস থ্রি'র। তখন জানালা দিয়ে বাইরে তাঁকিয়ে থাকতাম। এখন কালো সানগ্লাস পড়ে ফেলি।
৩০ ডিসেম্বর, ২০১৪
মন্তব্য (4)