কবিতা ১৩
ভাগ্যবিপর্যয়
সাইয়িদ রফিকুল হক
ভাগ্যাকাশে যখন বিদ্যুৎ চমকায়
আর মাঝেমাঝে হয় বজ্রপাত
তখন কেউ আসে না কাছে,
তখন কেউ দাঁড়ায় না পাশে,
দূর থেকে দেখে সবাই একটু উঁকি দিয়ে,
তারপর আর কাউকে পাওয়া যায় না খুঁজে।
যাদের সঙ্গে ছিল একদিন খুব মাখামাখি
তারা আর চেনে না কিংবা চিনলেও
আর পরিচয় দিতে চায় না কিংবা অনেকে আবার
না-চেনার ভান করে খুব আবোলতাবোল বকে!
কারও ভাগ্যাকাশে হঠাৎ মেঘ জমতে দেখে
একঝটকায় সরে যায় কতদিনের ইয়ার বকশি,
শুকিয়ে যায় প্রেমযমুনার অথই জলরাশি হঠাৎ করে!
বিপদে পড়লে বন্ধু চেনা যায়,
কে আপন আর কে পর আর কে শত্রু
তা যেন বেরিয়ে আসে মেঘেঢাকা সূর্যের মতো!
মানুষ শত চেষ্টা করেও তার ভণ্ডামি লুকাতে পারে না,
মানুষের সাধ্য নাই তার পাশবিকতাকে আড়াল করার,
মানুষের ক্ষমতা নাই তার মনের দীনতা ঢেকে রাখার।
ভাগ্যবিপর্যয় হলে তুমি চিনতে পারবে মানুষকে,
তার আগে কখনো বুঝতে পারবে না
কারও আসল চেহারা কিংবা মনের খবর।
মানুষের বুকে দারুণ ব্যাধি আজ কুরে-কুরে খাচ্ছে
আমাদের ভালোবাসার পারিজাতকে!
কবে মানুষ ফুটবে আসল পারিজাত হয়ে?
সাইয়িদ রফিকুল হক
২১/০১/২০২১
মন্তব্য (7)