পিছন-দরজার লোকেরা
সাইয়িদ রফিকুল হক

ভদ্রলোক আর মানবসন্তানরা সবসময় যে-কারও বাড়িতে সামনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে থাকে। এটিই ভালোমানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করাটা সকলেই পছন্দ করে না। কিন্তু কারও-কারও কাছে এটি আবার খুব পছন্দের। বিশেষতঃ তস্করশ্রেণী এই পিছনের দরজাকে খুব পছন্দ করে থাকে। এখান দিয়ে তাদের গৃহস্থের সর্বনাশ করতে নাকি খুব সুবিধা হয়। আর কোনো কারণে যদি গৃহকর্তার অসাবধানতায় এই দরজাটি খোলা থাকে—তাহলে তো কথাই নেই—তাদের জন্য একেবারে পোয়াবারো। তারা আহ্লাদে একেবারে আটখানা আরকি।
বাংলাদেশে এইরকম একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো ১৯৭৫ সালে। সদ্যো-স্বাধীন দেশে নানারকম তস্করের তখন খুব উৎপাত। তবুও গৃহকর্তার সরলতায় ও অসতর্কতায় সেদিন বাড়ির পিছনের দরজা ছিল খোলা! আর সেই সুযোগে রাতের আঁধারে দেশী-বিদেশী চোর-ডাকাতেরা মিলেমিশে একেবারে ভাই-ভাই হয়ে হত্যা করলো গৃহকর্তাকে। আর তারা বাড়িঘর সবকিছু একরাতে দখল করে নিলো। সেই থেকে এরা এখনও পিছনের দরজাকে খুব ভালোবাসে। আর সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, দরজাটা এখনও কোনোভাবে একটু খোলা অবস্থায় পাওয়া যায় কিনা। কিন্তু এখন, বাড়ির পিছনের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন তস্করশ্রেণীর জন্য বাড়ির ভিতরে ঢোকা কঠিন। তবুও তাদের সেই দস্যুপনা-দস্যুবৃত্তি এখনও চলছে। এরা সুযোগের অপেক্ষায় ওঁত পেতে আছে।


সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।