আমি একটি বটগাছ। ১০০ বছর আগে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার তুমিলিয়া মিশনে আমার জন্ম। আমার পাশ দিয়ে একটি বড় রাস্তা বীর দর্পে যেন অসীমে চলে গিয়েছে। আমি একটি বৃহৎ প্রকৃতির গাছ, বিশাল দেহ। আমার ডালপালা অনেক বিস্তর। আমার নীচে আলো নেই, তাই কোন গাছ আমার নীচে জন্মাতে পারে না। তাই আমার নীচে সাদা ফকফকা। আমার নীচে প্রতিদিন সকালে বাজার বসে। সপ্তাহে দুই দিন বিকালে হাট বসে। পথিকরা যখন আমার ছায়ায় একটু প্রশান্তি খোঁজে তখন আমার খুব ভালো লাগে। আমার ঢালে যখন পাখিরা বসে কিঁচির মিঁচির করে তখন আমার অনেক আনন্দ লাগে। আমার ছায়া তলে যখন খারাপ মানুষ আশ্রয় নেয় তখন আমার মন ভেঙ্গে যায়। আমি ধান্দাবাজ ও খারাপ মানুষদের সহ্য করতে পারি না। তাই আমার নীচে যে সকল খারাপ লোক আশ্রয় নেয় তাদের শাস্তি দেয়ার জন্য তাদের উপর জমানো পানি ফেলে দেই। হঠাৎ করে মাথায় পানি পরলে খারাপ লোক ভয়ে দৌঁড়ায়। আমি একটি ভালো গাছ, বড়ই পবিত্র। তাই আমার মধ্যে কোন শয়তান বাস করতে পারে না। শয়তানদের আমি কখনো প্রশ্রয় দেই না।
একদিন আমার ডালে ঝুলে আত্মহত্যা করার জন্য একজন গৃহবধু আসে। আমি তাঁকে দেখে রাগ হই। আমি তাঁকে বুঝিয়ে আত্মহত্যা থেকে ফিরিয়ে আনি। আমি তাঁকে বলি, আত্মহত্যা একটা অন্যায় কাজ। এই অন্যায় কাজ করলে সৃষ্টিকরতা মাফ করবেন না। জীবনে সব মানুষের কিছু কষ্ট থাকে। এই কষ্টের মানে জীবনকে শেষ করে দেয়া নয়। জীবন অনেক বড়, সীমাহীন। তিনি আমার কথায় আস্থা রেখে আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকেন। এরপর থেকে তিনি আমাকে অনেক সম্মান করা শুরু করে। প্রতিদিন আমার নীচে তিনি ধুঁপারতি করতে থাকে। তখন আমার দেহটা একেবারে পাক-পবিত্র হয়ে যায়।
একদিন হঠাৎ করে দুইজন ডাকাত প্রকৃতির লোক আমার দুটি ডাল কেটে ফেলে। আমি তখন অনেক কষ্ট পাই। মনটা একেবারে ভেঙ্গে যায়। আমি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি। তার পরেও নতুনভাবে বাঁচতে চেষ্টা করি। আশা করি অনেক দিন বাঁচবো। সবার কাছে আমি দোয়া চাই।
- স্বপন রোজারিও, মধুবাগ, ঢাকা, ১৩/৮/২০।
মন্তব্য (4)