বর্তমান বাংলাদেশের জনগনের কাছে বহুল আলোচিত এক নাম হলো "পেট্রোল বোমা।কেবল আলোচিতই নয় আতংকেরও বটে।রাস্তায় বেরুলেই প্রতিটি মানুষের মাঝে আতংক এই বুঝি দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা ছোড়ল। মুহূর্তেই জীবন্ত মানুষটাকে পুড়ে ছাই করে দেয় রাক্ষুসী এই পেট্রোল বোমা।
কিন্তু কি এই পেট্রোল বোমা? কবে, কোথায় প্রথম ব্যবহৃত হয় এটি? আজ এই প্রশ্নগুলো অনেকের মনে দানা বেধে উঠেছে। তাই চলুন প্রথমেই জেনে নেই পেট্রোল বোমার ইতিকথা।
ককটেল এর ইংরেজি অর্থ হল "এলকোহল জাতীয় দুই বা ততোধিক দ্রবণ মিশিয়ে নতুন কিছু একটা আকর্ষনীয় পানীয় তৈরী করা।"
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময় ১৯৩৯ সালে ফিনল্যান্ডবাসীরা অভিযোগ তোলে যে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের উপর বিশাল বিশাল ক্লাস্টার বোমার মাধ্যমে আক্রমন করছে। অপর দিকে তৎকালীন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী মলটভ এক রেডিও বার্তার মাধ্যমে ব্যাপারটি অস্বীকার করে বলেন যে "শত্রুরা যেটা বোমা বলে প্রচার চালাচ্ছে তা আসলে বোমা নয়, তার সরকার আকাশপথে ক্ষুর্ধাত ফিনল্যান্ডবাসীর জন্যে খাবারের ঝুড়ি ফেলছে যা অনেকটা বোমার মতই দেখতে।"
পরবর্তীতে এই ক্লাস্টার বোমাগুলো মলটভ ব্রেড বাস্কেট নামে পরিচিতি পায়।
সোভিয়েতদের এমন কান্ডের পাল্টা জবাবে ফিনিশরা ঠিক করল তারাও এমন কিছু উপহার দিবে যা হবে ব্রেড বাস্কেট বা রুটির ঝুড়িগুলোর মতই অপরিহার্য এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেজন্যেই ফিনিশিরা তখন সোভিয়েত ট্যাংকগুলোর উপর মলটভ ককটেল ছোড়া শুরু করে।
এই মলটভ ককটেলই হলো এ যুগের পেট্রোল বোমা।
মন্তব্য (3)