আমরা দুজন একেবারে ছোটবেলার বন্ধু,এক পাড়ায় জন্ম , বেড়ে উঠা! এক সকুল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ...একই রাজ্নৈতিক দলে সক্রিয় ...বাইরের সবাই তারপরও আমাদের দুজনকে ভিন্ন মানুষ হিসাবে জানে ...সাবাব তো বিদেশ থেকেও একটা ডিগ্রী নিয়ে এলো ...আমি সবসময় কিভাবে যেনো সাবাবের থেকে পিছিয়ে পড়ি কোথায় যেনো ভাগ্য দেবতা আমার উপর অপ্রসন্ন ...সাবাবের একাডেমিক রেজাল্ট বরাবরের মতো আমার থেকে ভালো ...অনেক থিওরী আমার থেকে বুঝে নিয়ে ও এতো চমতকারভাবে প্রেজেন্ট করতো ...আমার শুধু বড় বড় চোখে তাকিয়ে ছাড়া গতি থাকতো না ...ও যে কতো গার্লফ্রেন্ড বদলালো ...আর মেয়েরাও না অদ্ভূত...এমনকি রাজনীতির কথা ধরুন ও কেমন করে করে যেনো ধাপে ধাপে উপরে উঠেই যাচ্ছে ...আমি ঠিক মেলাতে পারিনা ...আপনারা এতোক্ষনে আমাকে ঈর্ষাকাতর একজন ভাবছেন ...না আসলে ঠিক তেমনটা নয় ...এই যেমন ধরুন আমার স্ত্রীকে সাবাব একদিন পচা ফলের মতো ছুঁড়ে ফেলে গেছিলো ...আমার স্ত্রীর নাম রীতু ...আমাদের কমন ফ্রেন্ডের আদরের ছোটবোন ...আমরা সবাই এক রাজনীতি করি একসাথে বেড়ে উঠছি ...সতেরো-আঠারো বছরের একটা ছোট মেয়েকে আমি দোষ দেইনে...রীতু যখন আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিলো ...আমার মা রীতুকে ভীষন ভালোবাসতেন ...মা ওকে বাঁচালেন...যদিও রীতুকে একান্তই আমার ভাবতে আমার অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সমুদ্র পাড়ি দিতে হয়েছে ...আমি একটা বেসরকারী কলেজের প্রিন্সিপাল ...আমার বাবার রেখে যাওয়া কিছু সম্পদ আমাকে এখনো ছায়া দেয় ...শাবাব বিয়ে করেছে এডুকেটেড এন্ড রীচ মেয়েকে ...পার্টিতে ওর উত্তোরত্তর ভালো অবস্থান ...একদিন মিডিয়ার লোকেরা আমাদেরকে মুখোমূখি দাঁড় করালো ...সাবাব অনর্গল অশ্লীলভাবে একটা মিথ্যেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেই চলেছে ...সে মানুষের পশুত্বের উপর বার বার তীর্যক আলো ফেলে মানুষের অর্যিত মনুষ্যত্বকে কবরে মাটি চাপা দিতে চাচ্ছে  যুক্তির কুটিল প্যাঁচে ...লক্ষ লক্ষ দর্শক অধীর আগ্রহে এই ভণ্ড গুণীর যূক্তিতে বশীভূত হয়ে যাচ্ছে  ...আমি রীতুকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছি ...অগনন মানুষকে আজ আমার বাঁচাতেই হবে ...আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ...সাবাবকে কি আমি ঈর্র্ষা করি ...নাকি অন্য কোনো দায় আমাকে আজন্ম তাড়া করে বেড়ায় ...আমি প্শুত্বকে অস্বীকার করতে চাই ...আমার এই পশুত্বের উত্তরাধীকারকে  ...