(পরবর্তী অংশ)
লালনের অসংখ্য গানের সুর ও ভাব অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন গান রচনা করেছেন যা জনপ্রিয় হয়েছে শহুরে মধ্যবিত্তদের কাছে আর এভাবে লালনও পৌঁছে গিয়েছেন সেইসব মানুষদের কাছে।কেমন সেসব লালনগীতি আর রবীন্দ্রচেতনায় তার প্রকাশই বা কেমন তার কিছু উদাহরণ দেখা যাক।লালনগীতিতে আছে-"খ্যাপা তুই না জেনে তোর আপন ঘরে/যাবি কোথায়!/আপন ঘর না বুঝে বাইরে খুঁজে/পড়বি
যখন ধাঁধায়...."।রবীন্দ্রগানে এ তত্ত্ব ধ্বনিত হয়-"খ্যাপা তুই আছিস আপন খেয়াল ধরে/তুই কী খুঁজে ক্ষেপে বেড়াস জনম ভরে"।লালনের গান-"আপন খবর আপনার হয় না/একবার আপনারে চিনলে পরে/যায় অচেনারে চেনা"।রবীন্দ্রচেতনায় এই গান প্রকাশ পায়-"আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না।/এই জানারই সঙ্গে সঙ্গে তোমায় চেনা"।
কিন্তু যদি প্রশ্ন ওঠে যে রবীন্দ্রনাথ লোকায়ত দর্শনকে কতখানি হৃদয়োঙ্গম করতে পেরেছিলেন তবে দুটি গানের উল্লেখ করতেই হয়।একটি "যখন হারায় বন্ধ ঘরের তালা,অন্ধ নয়ন শ্রবণ কালা" ও অন্যটি "দেখেছি রূপসাগরে মনের মানুষ কাঁচাসোনা" সুরাবলম্বনে "ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে"।দ্বিতীয় গানটি বহুশ্রুত এবং বহু শিক্ষিত জনই এই গানটি সম্পর্কে বলেছেন যে রবীন্দ্রনাথ ছন্দমিল বজায় রাখতে তালার জায়গায় চাবি লিখেছেন,কিন্তু লোকায়ত দর্শনের বিচারে এই তথাকথিত ভ্রান্তিই আসলে রবীন্দ্রনাথের সার্থকতা। (ক্রমশ)