এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা সামনের বছরগুলোয় বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। পাশাপাশি নির্বাচনের বছর হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে জিডিপি কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে না। ফলে ঝুঁকির মধ্য দিয়েই চলমান সময় পার করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি- মনে করে বিশ্বব্যাংক।
হরতাল-অবরোধে সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া ব্যবসায়ীরা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ‘হরতালবিরোধী সমাবেশ’ করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল-অবরোধ করবে না- এমন প্রতিশ্রুতি আদায়ের জন্য এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীরা তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে দৌড়াদৌড়ি করেছেন। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি দলগুলো। পরে হরতাল নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়নের দাবি তোলেন ব্যবসায়ীরা। আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ বিভিন্ন মন্ত্রী তাতে সম্মতি জানালেও সরকার সে উদ্যোগ নেয়নি।০১৩ সালের টানা হরতাল-অবরোধের সময় পুলিশ পাহারায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুট চালু রাখার চেষ্টা করে সরকার। তা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের লোকসানের অন্ত ছিল না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের হিসাবে, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮০ দিনের মধ্যে ৫৫ দিন হরতাল-অবরোধ হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে ৪৯ হাজার কোটি টাকা। গত এক বছর রাজনীতিতে অস্থিরতা ছিল না। বছর ধরে সেই ক্ষতি পোষানোর চেষ্টা করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ২০১৩ সালের ক্ষত যে এখনো শুকিয়ে যায়নি, তার চিত্র মেলে ব্যাংক খাতের বিপুল খেলাপি ঋণের দিকে তাকালে। গেল বছর খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ কমে যাওয়া মূলত ২০১৩ সালের হরতাল-অবরোধেরই বিলম্বিত ফলাফল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ধীরগতির প্রবৃদ্ধি দিয়েই চলতি অর্থবছর শুরু করেছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। আর অর্থবছরের এ সময়টা বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে কার্যাদেশ পাওয়ার মৌসুম হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে অস্থিরতা চলতে থাকলে বিদেশি যেসব ক্রেতা কাজ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন তাঁরা ফিরে যাবেন। আর এ সুযোগ নেবে এ খাতের প্রতিযোগী দেশগুলো।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি।সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা আর বিরোধী জোটের টানা হরতাল, অবরোধসহ ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য।কোন পথে যাছে বাংলাদেশের অর্থনীতি উভয় দলকেই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আভিন্ন স্বার্থে দেশের কথা । চিন্তা না করলে । অচিরেই পঙ্গুত্ব বরন করবে দেশের অর্থনীতি । সামগ্রিক পেক্ষাপট রুপ নিবে করুন পরিনতী,দেশ হবে সংকটাপন্ন ।
Comments (1)