আগুন! আগুন! ঢাকার নিউমার্কেটে ভয়াবহ আগুন।।

আমার মধুর চাকের মতো জমানো আলয় পুড়ে যাচ্ছে তুরুপের আগুনে। আমি চেয়ে চেয়ে দেখছি।
আমার চোখের উপর আগুনের রক্তিম প্রতিফলন ঘটছে ক্রমশ ; আমি তাকাতে পারছিনা।।

লেলিহান শিখা ও ধোয়ার উর্ধ্বগতির সঙ্গে উড়ে যাচ্ছে আমার সাফুয়ানের জন‍্য জমানো টাকা।
অগোচরে বুনা আয়েশার জন‍্য এতো এতো আয়োজন।।।।

রাস্তায় বসে বসে আমি কাদঁছি।
মানুষের কোলাহলে আমার চিৎকার কেউ শুনতে পাচ্ছে না, এমনকি ঈশ্বরও বোধহয় না।।।

একের পর এক কল বাজছে আমার ফোনে।
ভ্রম কাটিয়ে দেখি ৪৩টি মিসড কল দিয়ে রেখেছে আয়েশা।।

বিষন্ন হৃদয় নিয়ে বাড়িতে যাওয়া মাত্রই দেখি
আমার উপর অভিমান করে আয়েশার মায়াবী দেহখান মৃদু করে ঝুলছে পালঙ্কের উপরিভাগে এক রশির সঙ্গে।।

সমস্ত হারানোর পরও আমি নীড়ে ফিরেছিলাম
তোমার বেদুইন তরুণীর মতো দুই চোখের দিকে তাকিয়ে সব নতুন করে শুরু করব বলে।
অভিমানের সুবাদে কিংবা নিজের আক্রোশ মেটাতে আমার বুকের উপর যদি খঞ্জরও বিঁধে দিতে সীমারের মতো,
তাও না হয় মেনে নিতাম।

কিন্ত এ কি করলে তুমি আয়েশা?
দু কূলেই যদি হারানোর হয়, শূণ্যতার হয় তবে এ বোকা উদ্ভিদ যাবে কোথায়!
রাত্রির শেষ প্রহরে শুকতারা আসমানকে ফাঁকি দিয়ে
কেনই যে চলে যায় কেউই জানেনা।

আয়েশা?
অভিমানী আয়েশা।।।।

আচমকা আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ভেসে আসছে এক এলান
উঠুন! সেহেরির আর মাত্র ২ মিনিট বাকি। -----