শীতকাল মানেই সুন্দর একটা সকাল উপভোগের সুবর্ণ সুযোগ।। নাফিসা হলের দুতালা বেয়ে গ্রিলের ভিতর
ঢুকে পড়ছে ফজরের স্নিগ্ধ কুয়াশা।।।
আয়েশার চিত্ত আকুল মনে ধীর পায়ে বারান্দার এপাশ হতে ওপাশ হেটে অবগাহন করছে কুয়াশাকে।।
আহ কি সুন্দর দৃশ্য, এদিকে হলের মেয়েরা এখনো ঘুমুচ্ছে।।।
কালো কাফতানের উপর কাশ্মীরি শালের আবরণে
আয়েশা মাঠের দিকে তাকিয়ে দেখে শুধু ধুম্রজালের মতো কুয়াশার আস্তরণ।। আশেপাশে কিচ্ছুরির অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে না।।
এককাপ চা হলে বেশ জমে যেতো।।।।
আবরণীর অগোচরে কিছু এলোচুল বেড়িয়ে পড়ছে তার গ্রীবাদেশ হতে। ধানের মঞ্জরির উপর যেমন শিশির বিন্দুর আস্তরণ পড়ে তেমনি আয়েশার এই খানিক প্রাতভ্রমণে তার এলোচুলগুলির উপরও কুয়াশার আবরণ পড়েছে।
আগমনী এই শীতেই সহস্র ক্রোশ পথ পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখি আসবে সুদূর পাশ্চাত্য দেশ থেকে স্বচ্ছ সোমেশ্বরীতে।।
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাকে ক্রসফায়ার করা হতে পারে কিংবা খোদার নামে উৎসর্গ করা হবে যে প্রাণীটাকে তার মতো করে দানাপানি দিয়ে কদিন তাকে বেঁচে থাকার সার্থকতা বুঝানো হবে ।।।।
পৌষের শেষ হবে আর ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটবে আয়েশার নতুন সৌন্দর্য উপভোগের জন্য।।
আমি কার জন্য অপেক্ষা করবো!
ঋতুরাজ বসন্তের জন্য, না আয়েশার জন্য?
নাকি ওই অতিথি পাখিটার জন্য যে আর ফেরত যাবে না তার নিজ দেশে।
সূর্য উকি দিচ্ছে একপলক ঝিলিক নিয়ে
অপেক্ষার প্রহর ফুরায় না আয়েশা!
আয়েশা!
Comments (10)