বহুদিন পর সন্ধ‍্যায় মাঠভর্তি মানুষ।
নাফিসা হলের মেয়েদের গুনগুন আওয়াজ জানান দিচ্ছে যে, সবাই ফিরে এসেছে ক্রমশ।

আয়েশার এসেই অপরাজিতা গাছটার সাথে সাক্ষাৎ। পছন্দের মানুষটার বিলম্ব আগমনে তরুণীরা যে অভিমান চাহনী করে রাখে, অপরাজিতা ফুলগুলোও আয়েশার ঠিক উল্টোদিকে অভিমানী পাখির মতো মুখ ঘুরিয়ে আছে।

আচমকা আয়েশার চিলতে হাসিতে মূহুর্তেই যেন
সেই অভিমান কোথায় উবে গেল।। জীবনানন্দের মতো করে যেন এক বোকা উদ্ভিদ বলছে তাকে, "এইতো পেয়েছি, এতোদিন কোথায় ছিলেন।"

মানুষের প্রতি যে শুধু আমাদের মায়া জন্মায় তা না শুধু। সেটা হতে পারে একটা পেন্সিল, ভাঙা স্কেল, কিংবা অযত্নে বেড়ে উঠা ক‍্যাম্পাসের দুর্বাফুল।

আর হাসি সে তো যে মারাত্মক ঔষধী তাহা তরুণীরা বেশ ভালোই জানে। নীল অপরাজিতার সঙ্গে অভিমানের পর্ব ফুরালো তার অবশেষে।

আয়েশার পরীক্ষা সামনে, পড়াশোনা তেমন হচ্ছে না। বই নিয়ে বসলেই মাথা প্রচন্ড ব‍্যথা করে ক্রমশ, ঘুম চলে আসে, নিশ্চয়ই বইয়ের কালিতে ঘুমের ঔষধ মেশানো; নাহলে এমন হবে কেন শুনি।

চোখ মেলে দেখে, আয়েশা টেবিলে কখন জানি ঘুমিয়ে পড়েছিল।
রুমমেইটরা ডাকছে, রাতের মিল নিয়ে আসতে।
আয়েশা! আয়েশা! এই আয়েশা, মিল নিয়ে আয়, কখন থেকে ডাকতেছি।

মনে হচ্ছে দামেস্কের সুন্দরী জয়নাব জাফরানের সুঘ্রাণে মগ্ন ছিল কয়েকপ্রহর, খোলাচুঁল গুলো টেবিলের নিচে দুলছিলো বাতাসে।
কে যেন ভুল করে নিদ্রাভঙ্গ করে ডাকিল তারে হঠাৎ, ""আয়েশা!!"' আয়েশা🌸