পাচার

গরীবের ঘরে জন্ম |
বাবা করেন মাটি কাটার কাজ |
মা সেবাদাসী |
কঠিন সংগ্রাম চলে: কপালে ঘামের বিন্দু, ভ্রুতে ভাঁজ |

ছেলে হলে ভালো হতো |
বাড়তো রোজগারের হাত |
কিন্তু মেয়েরাও রোজগার করতে পারে-
সেই সহজ সত্য মানতে কতই না সংঘাত!

নাম রাখল অভাগী |
প্রথম কন্যা খুব হাসি খুশি-
মনে হয় যেন সুখ এসেছে লক্ষ্মী রূপে |
অনাথ বাবু ও যমুনা জল ভরা চোখে কপালকে করে দোষী!

ঠিক এক বছর পর,
ঘর আলো করে এল অপার সুখ |
পুত্র সন্তান হল কিন্তু বিকলাঙ্গ-
আনন্দের মধ্যেই চোখের জল ফেলে দারুণ দুঃখ |

মেয়েটাই অপয়া-
ওর মুখ দেখাই পাপ |
ছেলেটা ভুগছে ওরই জন্য |
অভাগী একটা অভিশাপ!

ছেলের যত্ন নেয় যমুনা খুব |
অনাথ বাবু বলে, 'কী লাভ হবে'!
যমুনা কাঁদে, 'ছেলেটার করে খাওয়ার ক্ষমতা নেই,
আর মেয়েটা বসে বসে খাবে' |

(চলবে)