আইডেন্টিটি কার্ড
যাক বাবা! তিন্নির মুডটা ঠিক আছে, আজ। বেরোনোর সময় রোজ এইসময় যা জ্বালাতন করে! “মা, আজ অফিস যেওনা বলে।”
আজকাল খুব বুঝতে শিখেছে। খেলনা, ক্যাডবেরি কিছুতেই ভোলানো যায়না তাকে! আমিও, একদম রেডি শুধু আইডেন্টিটি কার্ডটা গলায় ঝুলিয়ে নেব। একটা দিন অন্তত বসের কাছে লেটের জন্যে জবাবদিহি করতে হবেনা। ভেবে বেশ ভালো লাগছে! কিন্তু, কার্ডটা গেলো কোথায়! না, পার্সেওতো নেই। বালিশের নিচে বোধ হয়! না, তাও তো নেই! কিন্তু, গেলো কোথায়! কপালটাই খারাপ! রোজ রোজ, কিছু না কিছুতেই দেরি একেবারে বাঁধা! না, কার্ড ছাড়াই বেরিয়ে পড়ি। হয়তো, কালকে অফিসেই ফেলে এসেছি! তবে, চলি রে তিন্নি, টা টা। এই যাবো আর আসবো। লক্ষ্মীমেয়ে হয়ে থাকবি। দুষ্টুমি করবি না। বায়না করবি না খাওয়া নিয়ে। আর হ্যাঁ, আন্টি যা দেবে সবটুকু খেয়ে নিবি।
“মা, তুমি আর অফিসে যেতেই পারবে না!
-কেন? ওহো! তুইই লুকিয়ে রেখেছিস কার্ডটা! দে মা, বড্ড দেরি হয়ে যাচ্ছে!
-ওটা তো কুচি কুচি করে ফেলে দিয়েছি ডাস্টবিনে!
অনেকবার ফোন এসেছে অফিস থেকে। ধরিনি। সারাদিন আজ আদরে আদরে ভরিয়ে দেবো আমার পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আইডেন্টিটি কার্ডটাকে।
Comments (6)