চিংড়ি
আমরা জনা দশেকের একটা টিম ‘টপ-টেন’। না কোনো রাজনৈতিক দল বা অরাজনৈতিক সংগঠনের নয়, পরস্পর বন্ধু, একসঙ্গে গল্পগুজব করি, ঘুরতে বেড়াতে যাই। মনের বাঁধন আছে শক্তপোক্ত-একে অপরে। তাদের মধ্যে একজনের সঙ্গে আমার, কি একটা বিষয় নিয়ে তর্ক বাধে, এক কথা দু কথা হতে হতে চরমে। আর সবাই চেষ্টা করেও থামাতে পারেনি। আর সেই সূত্র ধরে দুজনের বাক্যালাপ বন্ধ। কিন্তু, টিমের আর সবাই যখন একসঙ্গে ঘুরতে যাচ্ছে-আমরাও সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছি। কিন্তু, দুজনের সঙ্গে কোনো কথা হয় না- তবুও। এক দুই করে করে প্রায় দশ-দশটা বছর পার। এখন,আর কি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল, তা ভুলে গেছি। কিন্তু, তার সঙ্গে যে কথা বলা যাবে না-সেটাই, মনে আছে-দুতরফে। অথচ, পাশাপাশি আমরা একই অনুষ্ঠানে খেয়েছি-ঘুরেছি,খেলা-সিনেমা-গান-নাটক বাদ যায় নি কিছুই।
আজ একটা বিয়েবাড়িতে নেমন্তন্ন,আমাদের সবার। আজ, হল কি তার আর আমার খাওয়ার সিটটা পাশাপাশি পড়েছে। না, কেউ বদমায়েশি করে বসিয়েছে -তা নয়। কারণ, টিমের আর কারোর মনেই নেই যে, আমরা পরস্পর কথা বলি না। যাই হোক, এড়াতে চেয়েও যখন এড়ানো গেলো না-অগত্যা, আমরা দুজন পাশাপাশি খেতে বসলাম। একে একে খাবার পরিবেশন হচ্ছিল, আমি নিজের মনে খাওয়ার দিকেই মনোনিবেশ করে আছি। হঠাৎ,নজর গেলো পাশে,তার প্লেটের দিকে-দেখি দুটো আস্ত চিংড়ি। গোটা চিংড়ির মাথা থেকে একটা টুথপিক দিয়ে আটকানো থাকে, যাতে চিংড়িটা বেঁকে না গিয়ে সোজা থাকে। কিন্তু, সে চিংড়ি খেতে পারছে না। বেশ কয়েক বছর আগে এরকম একটা বিয়েবাড়িতে,সে চিংড়ির টুথপিকটা খুলতে গিয়ে প্লেট উল্টিয়ে-একটা embarrassing situation-এ পড়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, সবাই খুব হাসাহাসি করেছিল। যদিও,আমি যথারীতি মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম-অন্যদিকে। আজ, দেখি দুটো চিংড়ি তার প্লেটে পড়ে আছে। যদিও,জানি সে চিংড়ি খেতে খুব ভালোবাসে তবুও, সে খেতে পারছে না- আগের ঘটনার কথা ভেবে। কি জানি, কি মনে হল জানি না। তার প্লেট থেকে চিংড়ি দুটো তুললাম, কোনো কথা না বলে। টুথপিক দুটো বের করে আবার রেখে দিলাম-তার প্লেটে। দেখলাম,পরম যত্নে চিংড়ি খাচ্ছে-সে।
খাওয়া শেষ। বিয়েবাড়ি থেকে বেরিয়ে, হাঁটতে শুরু করলাম আমরা–টিম ‘টপ-টেন’। আর সবাইয়ের শেষে আমরা দুজন হাত ধরাধরি করে চলেছি-দশ বছরের জমানো কথাগুলোর পরত একের পর এক খুলতে খুলতে-
মন্তব্য (13)