
বিচিত্র রঙে রঙিন মাতৃভূমির এই নিসর্গ
আমার আনন্দ বেদনার নিত্যসঙ্গী—
মধ্যরাতে যখন ঘুম ভেঙে যায়,
চেয়ে থাকি ধূসর আকাশে—
যেন শুভ্র নক্ষত্ররাজি হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।
মাঝে মাঝে জানি না কোন সুদূর হতে
ভেসে আসে বড় সকরুণ সুর—
আমি শুনতে পাই, পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া
সেইসব আপন মানুষের ক্রন্দন,
নক্ষত্রের ঠিকানায় এখন যাদের বসবাস ।
সূর্যের সোনালি স্পর্শে ভোর হয়ে যায় রাত—
নিস্তব্ধ শয়নগৃহে এক চিমটি রক্তিম আলো
আমার ঘুমন্ত চোখে এসে চুমু খায়
পিপাসার্ত নারীর মতন ।
জাগ্রত হয়ে বাইরে ছুটে আসি—
চারপাশজুড়ে সোনামাখা রৌদ্রের প্লাবন;
কচি কচুপাতার উপর হেসে আছে রুপোলি শিশির ।
দুপুরের তেজস্বী আলোয়
ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে শীতল মাটি;
হৃদয়ে আমার নেমে আসে অবসাদ—
যেন আমি এক ক্লান্ত নিঃসঙ্গ পথিক
দাঁড়িয়ে আছি মরুভূমির বুকে;
স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠল
এক ক্রোধার্ত প্রেমিকের অবসন্ন মুখচ্ছবি—
প্রেমিকার প্রবঞ্চনা সইতে না পেরে
যে ঝাঁপিয়ে পড়তে চেয়েছিল নদীর প্রবল তরঙ্গে ।
মূহর্তেই ঘন কালো মেঘে
অন্ধকারে নিমজ্জিত হল চারপাশ—
সেইসাথে বিকট শব্দে ডেকে উঠলো আকাশ;
আমার পিপাসার্ত নয়নে টুপ টপ করে ঝরে পড়া বৃষ্টি
প্রাণের গভীরে জাগিয়ে তুলল নির্মল প্রশান্তি—
যেন বৃষ্টির স্রোতে আমি ভেসে যাচ্ছি ঠিকানাবিহীন পথে
শুকনো পল্লবের মত ......
মন্তব্য (6)