সফেদ লেবাস আর অমৃত ভাষণ
হ্যামলিনের বাঁশির মতো এতদিন
তোমাকে করেছে তার অনুসারী।
আজও কি কাটেনি তোমার সে আচ্ছন্নতা!
মায়া চোখের ছায়া সরিয়ে দেখো--
কালো পোশাকটাই এতদিন সাদা লেগেছে
তোমার চোখে।

এক কুশলী যাদুকর অথবা
এক মায়াবী রাক্ষস
দিনের আলোয় যার ভুবন-মোহিনী রূপ
মানুষকে কাছে টানে,
তার বচনামৃত শুনে জ্ঞানী-গুণীরাও
বাহবা দেয়।
রাতের অন্ধকারে তারই আদেশে
নর রাক্ষসেরা কৃষকের শিরোশ্ছেদ করে,
কৃষক রমণীর ইজ্জত নেয়,শিশুদের
দু পা ধরে চিরে পাশবিক উল্লাসে মেতে ওঠে।

তুমি টিভির পর্দায় সেই নৃশংসতার দৃশ্য দেখো
অথবা সংবাদপত্রে তার বিবরণ পড়ো।
গরিবের মসিহাঁর হাতে গরিবের এই লাঞ্ছনায়
তুমি ব্যথিত হও যতটা, বিস্মিত হও আরও বেশি।
কিন্তু ভেবে দেখো,এতে বিস্ময়ের কিছু নেই
তুমিই এতদিন তাকে উজাড় করে দিয়েছো ক্ষমতা
তোমারই দেওয়া সেই ক্ষমতার এহেন প্রয়োগ।

তাই আজ আর নীরব দর্শক অথবা
নীরব পাঠক হয়ে থাকা নয়,এসো প্রতিবাদ করি।
তুমিতো জানো ,হিংস্রতার বিরুদ্ধে
জোটবদ্ধ প্রতিরোধই একদিন মানুষের
উত্তরণ ঘটিয়েছিল আদিমতা থেকে মানবতায়।
তাই আজ আর মুমূর্ষু রোগীর মতো
নলবাহিত অক্সিজেন নয়,এসো
খোলা আকাশের নিচে দাঁড়াই,
ফুসফুস ভরে গ্রহণ করি মুক্ত বাতাস।

আজ আর কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো
বিচ্ছিন্ন মতবাদে নিজেকে বন্দি রাখা নয়,
ই্জমের বাধকতা থেকে বেরিয়ে,
এসো মানবতাবাদে দীক্ষা নিই;
আজ আর কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ নয়,
ছোটো ছোটো স্বার্থ-বাসনা জলাঞ্জলি দিয়ে
এসো রুখে দাঁড়াই।
উলঙ্গ রাজার সেই সাহসী শিশুটির মতো
আসল রূপটা টেনে বার করি।
আজ আর কোনো নেতা-নেত্রী বা
গুরু-পীরের ডাকে নয়,
এসো বিবেকের ডাকে সাড়া দিই।