আমাদের দেশে বেকারত্বের জ্বালা এক সাংঘাতিক জ্বালা।কবি মধু সূদনের কথায় বলতে গেলে বলতে হয় :-"কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিশে দংশেনি যারে"।আমাদের পাড়ায় থাকতো এমনই এক বেকার ছেলে যার নাম কেলো।তার আর একটা পরিচয় হল, সে প্রচন্ড রকমের নারী-বিদ্বেষী।তার এক কথা,"সারাটা জেবন বেহ্মচারী থাকতে হয় থাকুম তবু মাইয়া মানুষ ঘরে তুলুম না।"তো এহেন কেলোর  আশা সে মিলিটারি হবে।ফিটনেস পরীক্ষায় পাশও করলো,বাকি কেবল ইন্টারভিঊ।বেশ ভদ্র-সদ্র পোশাক পরে যথা সময়ে ইন্টারভিঊ বোর্ডের সামনে হাজির হলো কেলো।প্রশ্নকর্তা তাকে প্রশ্ন করার আগেই কেলো তাঁকে প্রশ্ন করে,--আইচ্ছা সার,মিলিটারি হইলে যুদ্ধে তো আমাকে যাইতেই হইবো,তা সেই যুদ্ধ দ্যাশের মাটিতে হইবো না বিদ্যাশের মাটিতে হইবো?যদি দ্যাশের মাটিতে হয় তা হইলে কোনো কথা নাই কিন্তু বিদ্যাশের মাটিতে হইলে দুই খান কথা আছে।
প্রশ্নক্র্তা বলেন---বিদেশের মাটিতেই হবে।
---আইচ্ছা বেশ,্সেই যুদ্ধে যদি আমি মারা যাই তা হইলে আমাকে  কবর দেওয়া হইবো না পোড়ানো হইবো?যদি পোড়ানো হয় তা হইলে কোনো কথা নাই,কিন্তু কবর দেওয়া হইলে দুইখান কথা আছে।
---মাটি দেওয়াই হবে।
---আইচ্ছা বেশ,সেডা কৃষি জমিতে হইবে না অকৃষি জমিতে হইবে?যদি
অকৃষি জমিতে হয় কোনো কথা নাই,কিন্তু কৃষি জমিতে হইলে দুই খান কথা আছে।
---কৃষি জমিতেই হবে।
---আইচ্ছা বেশ,তো সেই জমি লাঙল দিয়া চষা হইবে না ট্রাক্টর দিয়া চষা হইবে, যদি ট্রাক্টর দিয়া চষা হয় কোনো কথা নাই,কিন্তু লাঙল দিয়া চষা হইলে দুই খান কথা আছে।
---লাঙল দিয়েই চষা হবে।(একটু গলা চড়িয়েই বললেন প্রশ্নকর্তা)
---আইচ্ছা বেশ,তো সেই লাঙলের ফলায় আমার যে হাড় উইঠ্যা আইবো সেই হাড় দিয়া কাগজ তৈরি হইবো না সার তৈরি হইবো,যদি সার তৈরি হয় কোনো কথা নাই কিন্তু কাগজ তৈরি হইলে দুই খান কথা আছে।
---কাগজই তৈরি হবে(আরও গলা চড়িয়ে)
---আইচ্ছা বেশ,্তো সেই কাগজ টিসু পেপার হইবো না রাইটিং পেপার হইবো, যদি রাইটিং পেপার হয় কোনো কথা নাই,কিন্তু টিসু পেপার হইলে দুই খান কথা আছে।
---টিসু পেপারই হবে।(প্রশ্নকর্তা রাগে থর থর করে কাঁপছেন)
---আইচ্ছা বেশ,্সেই টিসু পেপার পুরুষেরা ব্যবহার করুম না মাইয়ারা ব্যবহার করুম,্যদি পুরুষেরা ব্যবহার করে কোনো কথা নাই,কিন্তু মাইয়ারা বাবহার করলে দুই খান কথা আছে।
প্রশ্নকর্তা আরও রেগে গিয়ে চিৎকার করে বলেন
---মহিলারাই ব্যবহার করবে।
কেলো খুব শান্ত গলায় বলে,"তা হইলে হালা যুদ্ধেই যামু না।"