ছোটো বেলায় ইস্কুলে ভর্তির দিন আমায় প্রশ্ন করা হয়েছিলঃ

-"বাবু, বলোতো হাঁস কোথায় থাকে?"

এখন কেউ এরকম প্রশ্ন করলে হয়েতো মন ভরা সন্দেহ নিয়ে তাকে ধমকে উঠবো, "ইয়ার্কি হচ্ছে!!"

সবাই জানে হাঁস জলে থাকে।অন্ততঃ প্যাক্ প্যাক্ করতে জলেই নামতে হয় তাকে!!

যদিও তখনো হাঁস জলেই প্যাক্ প্যাক্ করতো, তবুও আমার উত্তর ছিলঃ

-"হাঁস!!.........বাপ্পাদার বাড়িতে হাঁস থাকে।"

উত্তর শুনে দিদিমণি হেসে উঠেছিলেন...। এতক্ষণে হয়েতো আপনারাও হেসে উঠেছেন... অথবা নতুন কোনো গল্প শোনার আশায় নড়ে চড়ে বসছেন।

নাহ... নতুন কিছু বলছি না। যা বলবো সবই খুব পুরানো আর চিরন্তন কথাঃ

আমরা বড্ড তাড়াতাড়ি বড় হয়ে গেছি!

ছোটবেলায় ইস্কুলের দিদিমণি বা স্যরকে করা আমাদের অভিযোগ গুলো মনে পড়ে?

-"দেখুন ম্যাম্, রাতুল আমার টিফিন খেয়ে নিল।" অথবা,
-"স্যর, ভল্টু আমার পাছায় চিমটি কেটে পালিয়ে গেল।"

এবং, সব থেকে সেরা অভিযোগ:

-"দিদিমণি, পটলা আমার দিকে তাকাচ্ছে!"

উত্তরে স্যর বা ম্যাডাম যেই থাকুক একটা কষিয়ে থাপ্পর মেরে তবে জিজ্ঞেস করতেনঃ "এ্যাই, পটলা টা কে রে?"

এমনই ছিল আমাদের সাধের "ইশকুলবেলা"!
কত সাদা সরল! কত নিষ্পাপ! পাখিরা আকাশে উড়লে হাঁ করে দেখতাম! বাড়ি ফেরার টাকা বাঁচিয়ে তা দিয়ে কুল বা তেঁতুলের আচার কিনে সারাটা পথ হেঁটে হেঁটে আসতাম! তাতেও শান্তি নেই , বাড়ি ফিরে সেই কুল বা তেঁতুলের দানা বাগানে গিয়ে পুঁতে আসতাম আর রোজ সকালে উঠে অপেক্ষায় থাকতাম, এই বুঝি গাছ বেরালো!

টিফিন টাইমে কেউ যখন খেলা নিত না, কী রাগ টাই না হতো!
এখন? এখন সবাই "Ego" দেখায় কেউ আর "রাগ" দেখায় না।

"Misunderstanding" এর তর্জমা করতে দিলে নিজের মতো
ভেঙ্গে নিতাম, "mis under standing" মানে মেয়েটি নিচে দাঁড়িয়ে আছে! তর্জমার উত্তর দিতে শেষে অভিভাবকের ডাক পড়তো।

"Misunderstanding" এর তর্জমা এখন আমরা "ভুল বোঝা" বুঝি!
ভুল বুঝি!

আর, মা বাবা...। যখন ছোটবেলায় কথা বলতে শিখিনি তখন না বলতেই ওনারা বুঝতে পারতেন কি বলতে চাই:

-" বাবু ছটফট করছে... নিশ্চয়ই হিসু করেছে বিছানায়!"
-" কৈগো... তোমার ছেলের বোধহয় ক্ষিদে পেয়েছে..."
-" সোনা আমার হাগু করেছে মনেহয়, একটু পাল্টে দাও তো কাঁথাটা..."

পূর্বাভাস সঠিক হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা যথাক্রমে মূত্রত্যাগ করে, ক্ষিদে পায় এবং বিছানায় পায়খানা করে থাকে!

আজ অবশ্য আমরা কথা বলতে পারি; তবু জানি না কেন মা- বাবা কে উদ্দেশ্য করে বলি,"ধুর, তোমরা কিচ্ছু বোঝো না..."।
সত্যিই কি তাই? ভাবতে অবাক লাগে, তাই না?

যাক আর কিছু বলব না... মনের গোড়া ভারী হয়ে আসছে!

তবে যাওয়ার আগে একটাই কথা বলে যেতে চাই... দেহের বয়েস বাড়বেই, বাড়ুক প্রকৃতির নিয়মে... মনের বয়েস যেন না বাড়ে, কারণ জীবন একটাই!

হ য ব র ল এর ভাষায় বলতে গেলেঃ
"... চল্লিশ বছর হলেই আমরা বয়েস ঘুরিয়ে দিই।তখন আর একচল্লিশ বেয়াল্লিশ হয় না-- উনচল্লিশ, আটত্রিশ, সাঁইত্রিশ করে বয়েস নামতে থাকে...... "

আমরা সময় ফিরিয়ে আনতে পারিনা ঠিকই...তবে, সুকুমার রায় এর দেখানো পথে বাঁচতে তো পারি!!

নাকি তাও পারি না?