চলন্ত বাইকে, ট্রেনের ছাদে, পাহাড়ের চূড়ায়, ঝরনার পানিতে, হাঁটতে, চলতে এখন সেলফি তোলার নেশা। যত্রতত্র শোনা যায় সেলফির ক্লিক ক্লিক শব্দ। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় দর্শনীয় স্থানগুলোতে। বিশেষ করে রাজধানীর হাতিরঝিল এখন হয়ে ওঠেছে সেলফি স্পট হিসেবে।

উইকিপিডিয়া'তে বলা হয়েছে- সেলফি হলো আত্ম-প্রতিকৃতি আলোকচিত্র বা দল আলোকচিত্র, যা সাধারণত হাতে-ধরা ডিজিটাল ক্যামেরা বা ক্যামেরা ফোন ব্যবহার করে নেয়া হয়। সেলফি শব্দটি প্রথম এসেছে ইংরেজি সেলফিশ থেকে। ২০১২ সালের শেষের দিকে টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে ‘সেলফি’ শব্দটি বছরের আলোচিত সেরা দশ শব্দের অন্যতম শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়। স্মার্টফোন এবং ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এর জরিপ প্রতিবেদন বলছেঃ ১৮-২৪ বছর বয়েসি মানুষের তোলা ছবির ৩০% ই সেলফি।

গবেষকেরা দাবি করেছেন, অতিরিক্ত নিজের ছবি তোলার প্রবণতা এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে দেওয়ার এই মানসিক সমস্যার নাম ‘সেলফিটিস’। ধেয়ে আসা ট্রেন বা বিষধর সাপের সামনে গিয়েও সেলফি তুলতে চান অনেকে। আর এমন বেপরোয়া আচরণের সূত্রে ঘটছে মৃত্যুবরণের ঘটনা। সেলফি তুলতে গিয়ে যাতে অকালে প্রাণ হারাতে না হয় কাউকে সে জন্য ভারতের মুম্বাই শহর ও সমুদ্র উপকূলের ১৫ স্থানে সেলফি তোলা নিষিদ্ধ করেছে দেশটির পুলিশ।

গত বছর সারা বিশ্বে সেলফি তুলতে গিয়ে কমপক্ষে ২৭টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার অর্ধেকের বেশিই ঘটেছে ভারতে। অবশ্যই আপনি সেলফি তুলবেন, কারণ সময়কে ধরে রাখতে এর জুড়ি নেই। তবে তা তুলতে হবে নিজের নিরাপত্তা ঠিক রেখে, অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়ে। জীবনের জন্য সেলফি, সেলফির জন্য জীবন নয়; এটা সবসময় মনে রাখতে হবে।