বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রথম এবং প্রধান কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক দুরবস্থা। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ভরণপোষণ মিটিয়ে সন্তানের লেখাপড়া খরচ যোগান দেয়া আর সম্ভব হয় না। ফলে তাদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকেরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। এ পরিস্থিতিতে বয়সের কথা বিবেচনা না করে পিতার পেশায় বা অন্য কোন পেশায় সন্তান নিয়োজিত হয়ে আয় রোজগার করলে পিতামাতা একে লাভজনক মনে করে। অন্যদিকে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত বা ঝরে পড়া শিশু বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হয়ে পড়ে। শিশুদের স্বল্প মূল্যে দীর্ঘক্ষণ কাজে খাটানো যায় বলে নিয়োগকর্তা/ মালিক/ ম্যানেজার / কর্তৃপক্ষও শিশুদের কাজে নিয়োগ করার বিষয়ে বিশেষ উৎসাহী থাকে।
বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক দুরবস্থাও শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ। আমাদের সমাজে পরিবারের প্রধান তথা পিতার যদি মৃত্যু ঘটে তবে ঐ পরিবারের সদস্যদের লেখাপড়া তো দুরের কথা ভরণপোষণের ব্যবস্থা করাই দায় হয়ে পড়ে। পারিবারিক ভাঙ্গনে পিতামাতা যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তখন তাদের সন্তানদের খবর কেউ রাখে না। এ ছাড়া দরিদ্র পরিবাগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ না করার কারণে সন্তান-সন্ততির সংখ্যাধিক্য হওয়ায় এদের ভরণপোষণ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো ভীষণ অর্থকষ্টের সম্মুখীন হয়।
গ্রামে কাজের অপ্রতুল সুযোগ, সামাজিক অনিশ্চয়তা, মৌলিক চাহিদা পূরণের অভাব ইত্যাদি কারণে গ্রাম থেকে মানুষ শহরমূখী হচ্ছে। নদী ভাঙ্গন, বন্যা, খরা, জলোচ্ছাস ও ভূমিকম্পের মত প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে অহরহ। এ জাতীয় প্রতিটি ঘটনা দুর্ঘটনাই প্রতিনিয়ত শিশুদের ঠেলে দিচ্ছে কায়িক শ্রমের দিকে।
পিতামাতার স্বল্প শিক্ষা, দারিদ্র এবং অসচেতনতার কারণে তারা শিক্ষাকে একটি অলাভজনক কর্মকাণ্ড মনে করে। সন্তানদের ১০/১৫ বছর ধরে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাওয়ার ধৈর্য্য তখন তাদের থাকে না। শিক্ষা উপকরণ ও সুযোগের অভাব এবং শিশুশ্রমের কুফল সম্পর্কে অভিভাবকদের অসচেতনতা/ উদাসীনতায় শিশুশ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহর জীবনে গৃহস্থালি কাজে গৃহকর্মীর উপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীলতা, গতানুগতিক সংস্কৃতির কারণে গ্রামে লেখাপড়ায় মগ্ন শিশুটিকেও নিয়ে আসা হয় শহরে বাসার কাজের জন্য।
মন্তব্য (4)