সুরভী পিছন ফিরে দেখল, তার স্বামীর অফিসের কলিগ মৃদুল দু পাটি দাঁত বেড় করে হাসছে । চোখে প্রশ্নবোধক চিহ্নটা সম্পুর্ণ এঁকে উঠতে পারেনি সুরভী, তার আগেই মৃদুল হাত নেড়ে চোখ মুখের প্রচ্ছন্ন নরন চরন দিয়ে ভাষায় ও ব্যবহারে বুজানোর চেষ্টা করলেন যে, অনিন্দ্য মানে সুরভীর স্বামী যখন অফিস থেকে বেড়োচ্ছিল ঠিক তখনি অফিসের হেড অফ দি ডিপার্টমেন্ট গাড়ী নিয়ে এসে সোজা গাড়ীতে তোলে নিয়ে গেল, না বলার কোন সুযোগই পেল না, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ এটেন করতে হবে, তাই মৃদুলকে কোন রকমে ফোনে বুজিয়ে এখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন । এখন সুরভী ইচ্ছে করলে ডাক্তার দেখাতে পারেন নুতবা আগামীকালের এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে বাড়িতে চলে গেলেও পারে, উভয় ক্ষেত্রেই মৃদুল সাহায্যের জন্য প্রস্তুত । সুরভী প্রাথমিক রাগটাকে সামলে নিয়ে কিছুক্ষন ভাবল, তারপর আগামীকালের কথা মাথায় রেখেই বাড়ীর দিকে পা বাড়ায় । মৃদুল পিছু পিছু বাধ্য ছেলের মত হাঁটছে, ডাক্তারের চেম্বারটা যে গলিতে সেখানটা মৃদুলের অপরিচিত নয়, রোজ বিকেলের আড্ডা না হলেও প্রায়শঃই এই গলিটার মাথায় যেখানে অপরূপা বেকারীটা রয়েছে সেখানে আসা হয় বন্ধুদের সঙ্গে, সময় কাটাতে কিংবা এটা ওটা নিতে । মৃদুল সদ্য পঁচিশে পা দেওয়া অবিবাহিত যুবক সঙ্গে সদ্য বিবাহিতা অল্প বয়্স্কা সুন্দরী বৌ , কেউ কেউ যে তার দিকে চেয়ে চোখ নাচাবে না সেটা ভাবতে পারছে না মৃদুল, তাই যত তারাতারি সম্ভব মূল রাস্তায় এসে রিক্সা পাওয়া যায় কিনা সে জন্যেই পা চালিয়ে সামনে এগিয়ে আসছিল কিন্তু পাশ থেকে সুরভী ডাক দিল, "ও মৃদুলদা, চলুননা একটু বিগ বাজারে যেতে হবে ।" মৃদুল একটু আমতা আমতা করলেও কথা বেশী না বাড়িয়ে নুতন আর এম এস চৌমুহনী ধরে এগিয়ে যেতে থাকল । চলার পথে দু চার কথা, পাশাপাশি হাটা, মাঝে মধ্যে একে অপরের ডান বাঁ হাতের ষ্পর্শ চলছে ।
----চলবে ।
----চলবে ।
মন্তব্য (9)