www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

থ্রিলার স্টোরিঃ জলিলের জীবন এবং পৃথিবী কেমন ভূবন। পর্ব ১

পর্ব: ধর্ষন মামলা

রেপ কেস মামলায় আদালতে বিচার চলছে। আসামী জলিল মাস্তান। তার পক্ষে আইনজীবি বিখ্যাত এন্টিভাইরাস খ্যাত লেডি s.t.w সুলতানা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি জনৈক হাবিবুল বাহার।

পুরো মামলাটার বিবরন হলো, প্রাইভেট থেকে বাসা ফেরার পথে মালিহা তাসনিম(২২) কে জোরপূর্বক ধর্ষন। এবং আদালতে যার মেডিকেল রিপোর্ট দিলেন তার আইনজীবি। মেডিকেল রিপোর্টে বলা আছে যে, মালিহার গায়ে চিণ্হ পাওয়া গেছে জলিলের স্পর্শের।
জেরা শুরু মালিহাকে। আসামী পক্ষের আইনজীবি মালিহাকে প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা আপনি কোন সময়ে প্রাইভেট  পড়াতে যেতেন?
-- সন্ধা ৭ টা।
--আপনি মূলত কাকে প্রাইভেট পড়াতেন মূলত সে কে?
--আমি  নয়নকে (১৯) ইংরেজী বিষয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে থাকি। এবং ৯ মাস ধরে, এমনি।
-- যেদিন আপনাকে রেপ করা হলো, মানে যেমনটা মামলা হয়েছে, সেদিন আপনি ঠিক কখোন যাচ্ছিলেন প্রাইভেট শেষ করে এবং  কাকতালীয় ভাবে কেমন করে জলিল সাহেবের সাথে দেখা হয়ে গেলো?  যেহেতু আমার মক্কেল জলিল সাহেব তিনি সর্বদাই ব্যস্ত থাকেন ব্যবসার কাজে। যেটা ভালো করেই বলতে পারেন তার ব্যবসায় শেয়ারের অংশিদার প্রবির মজুমদার সাহেব।

রাষ্টপক্ষের আইনজীবী অবজেকসন জানিয়ে বলতে লাগলেন যে,
--আমার ডিফেন্স ম্যাডাম খুব গল্প প্রেমিক মনে হয়, এ কারনে তিনি সব কিছুকে কাকতালীয় বলে থাকেন!  আসামী জলিল খুব পরিচিত মহল্লায় মাস্তান হিসাবেই। এবং সেদিন তিনি অপেক্ষা করেছিলেন  কখোন মালিহা প্রাইভেট শেষ করে আসবে? এরজন্য আমি তার কথিত ব্যবসায়ের অংশিদার প্রবির মজুমদারকে কাঠগড়া উপস্থিত করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি?
--আবেদন মঞ্জুর।
--মি. প্রবির মজুমদার আপনিতো খুব নামকরা ব্যবসায়ী। এবং দীর্ঘদিন ধরে আপনার সঙ্গে আছেন জলিল। আচ্ছা মাস খানেক আগে আপনার সাথে আড়ৎদার মধু শেখের বিরোধ হয়েছিলো। যদিও এর পরের দিন সে মারা যায় এবং দেখা যায় যে তাকে খুন করা হয়েছে!  
যাইহোক সেটা অন্যব্যাপার, কিন্তু এটা বলুন যে সেদিনতো আপনার সঙ্গে ব্যবসা বিষয়ক কাজে অথবা কোনো কাজে জলিল ছিলো কিনা? । এবং আপনার ফোন রেকর্ড  অনুযায়ী আপনি তাকে বলেছিলেন সে এখন কোথায় আছে?  এবং যার উত্তরে সে বলেছিলো, সে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে আছে!
এটা কী সত্যি?
--(নার্বাস স্বরে) জ্বী, জনাব।
--আসলে জলিল একটা কাজে ছিলো ঠিকই কিন্তু তা ছিলো কুকাজ, আর যার জন্যে আজকে সে এখানে।
ডিফেন্সকে উদ্দেশ্য করে বললো, আপনি জিগ্যাসা করবেন?
--না।

এইবার আবারো জেরা, মালিহাকে আসামী পক্ষের আইনজীবির।
--মিস মালিহা, আপনারতো কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই!  যাইহোক সেদিন আপনার সাথে কী কী হয়েছিলো একটু বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ?
--সেদিন আমি বাসায় ফেরার পথে, জোর করে নিয়ে গিয়ে... (কেঁদে ফেললেন ফারিয়া)
--কাঁদলেতো হবেনা, বলুন কিভাবে কী হয়েছিলো এবং আপনি কী কিছু করেছিলেন!!?
আদালতে উপস্থিত সবাই একটু নড়েচড়ে বসলেন, কেউ কেউ একটু হাসসেও!
রাষ্টপক্ষের আইনজীবি বললেন যে, তাকে জোড় করে ধর্ষন করা হয়েছে। এবং মেডিকেল রিপোর্ট ও আছে, এরচেয়ে আর বড় কী প্রমান চাই?
এর উত্তরে ডিফেন্স বলতে লাগলেন যে,
--ইয়র অনার, এখন পর্যন্ত কিন্তু ডিএনএ টেস্ট করা হয়নি!  
আদালত থমকে গেলো, মালিহা মাথা জাগালো, জলিল একটু হাসির ভাব নিলো!
--যখন ডিএনএ টেস্ট করা হবে এবং এর রিপোর্ট পাওয়া যাবে তখনি পুরোপুরি মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া যাবে?  
আমি মালিহার ডিএনএ টেস্ট করানোর আবেদন জানাচ্ছি?
--আবেদন মঞ্জুর।

আদালত আজকের মতো শেষ। জলিল মালিহার দিকে একটু রোমান্টিক দৃষ্টিতে চেয়ে দেখলো!

পরদিন আদালত বসলো। মালিহার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া গেলো?  কিন্তু দেখা গেলো জলিলের ডিএনএ পাওয়া যায়নি কিন্তু অন্যকারোতা পাওয়া গেছে!
কেঁচো খুড়তে সাপ বের হয়ে যাচ্ছে!
এখন প্রশ্ন হলো সেই কে?  মালিহা উত্তর দিচ্ছেনা!  কিন্তু এটা বলছে যে, তাকে জলিল রেপ করেছে!
রাষ্টপক্ষের আইনজীবি বললেন যে, জলিল রেপ করেছে!  এবং সে অত্যন্ত বৃদ্ধিসহিত  ডটেট ব্যবহার করেছে, যাতে প্রমান না থাকে!  
মালিহাকে জিগ্যাস করায়, সেও বললো হ্যা!
এইবার ডিফেন্স আইনজীবি মজা করতে শুরু করলেন!
সে বললেন যে,
--পৃথিবীতে মনে হয় এই প্রথম, ধর্ষনকারীর ডটেট ব্যবহার করার খবর শোনা গেলো!  সে একটু হেসে বললেন!
বিচারক ও হাসতেছে!  আদালত কক্ষে হাসাহাসির ধুম পড়ে গেলো!!  
তখনি, অর্ডার...  অর্ডার....
কোর্ট সাইলেন্ট প্লিজ!
--আমার মনে হয়, মাননীয় রাষ্টপক্ষের আইনজীবিকে জেরা করা উচিত!  কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী বাদিকেই করতে হবে..!
আচ্ছা মিস মালিহা, আপনাকে জিগ্যাসা করেছিলাম কিভাবে কী হয়েছে বা করেছে আমার মক্কেল জলিল সাহেব।
যাইহোক সেতো করেনি (!), তবে আসল ঘটনাটি একটু বলবেন!?
--(রাগাস্বরে)  ঐ জানোয়ারটায় আমায় রেপ করেছে। এবং সে ডটেড ব্যবহার করেছে!
আবার আদালতে হাসাহাসি শুরু!!

রাষ্টপক্ষের আইনজীবি ক্ষিপ্তস্বরে বলতে লাগলেন যে, মহমান্য আদালত -
ধর্ষিতার সাক্ষ অনুযায়ী, এবং তার গায়ে জলিলের টাচ পাওয়ার চিন্হ অনুযায় এতোটুকো বিশ্বাস তো সবাইর হয়, জলিল তাকে ধরেছে?
--হ্যা ছুয়েছে!  এই যেমন আমিও আপনাকে ছুয়েছি ...!
ডিফেন্স সবার সামনে ছুয়ে দেখালো!
এই বার ডিফেন্স প্রশ্নটাকে গভীর করলেন যে, কার ডিএনএ পাওয়া গেছে এবং সে কে?  যেহেতু তার কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই!
এইবার মালিহা উত্তর দিলোযে, তার বয়ফ্রেন্ড আছে!
প্রশ্ন হলো, সে কে?
কিন্তু উত্তর দিচ্ছেনা মালিহা (?)
এইবার রাষ্টপক্ষের আইনজীবি মালিহার কাছে অনুরোধ করলো,
--প্লিজ আপনার বয়ফ্রেন্ড  কে বলুন এবং তাতে ঝটলাটা কমে যায়!
মালিহা উত্তর দিচ্ছে না!
এইবার বিচারক নিজেই জোড়ালো প্রশ্ন করলো, সে কে?
মালিহা ভ্যাবাচেকা খেয়ে
--আমার কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই!
--তাহলে কী সেক্স বয়!
--তাও নয়। আমার এ সম্পর্কটা...
--এ সম্পর্কটা, কী?
--এ সম্পর্কটা আমার চেয়ে একটা ছোট ছেলের সাথে!!
হুট বলে বসলেন মিস s.t.w সুলতানা -
"সে নিশ্চয়ইই আপনার স্টুডেন্ট!? "
মালিহা মাথা নিচু করেদিলো।
রাষ্টপক্ষের আইনজীবি লজ্জায় আর কিছু বলতে পাচ্ছেনা!
আদালতের পরিস্থিতি একটু ঘৃন্যা সূচক গরম হলো।
এই বার কয়েকটা প্রশ্নের জন্য ডাকা হলো মালিহার সেই স্টুডেন্ট নয়নকে।
--আচ্ছা নয়ন, তোমার বয়স কতো?
--২০
--ওহ! এক বছর বেশি বললে!  যাইহোক, তোমাকে কী জোড়করা হতো এমন কাজে?
--না। দুজনেই দায়ী।
পরিবারে পক্ষ থেকে আবদার জানানো হলো। এই বিষয়ে (!) এরপর জেরা শেষ, নয়ন এবং মালিহার দৈহিক সম্পর্ক বিষয়!
কেস আসামী জলিলের পক্ষে চলে আসলো। কিন্তু এরপর রয়ে গেলো আসামী জেরা, রাষ্টপক্ষের!
আদালত আজকের মতোও মুলতবি।

নেক্সট আদালতে একটা অদ্ভুত তথ্য নিয়ে আসলেন রাষ্টপক্ষের আইনজীবি! জলিলের ব্যবসার অংশিদার প্রবির মজুমদারের বউয়ের সাথে জলিলের সম্পর্ক!  প্রবিরের বউ  সর্নালী জলিলের সাথে পরকীয়ায় মত্ত। এ খবর প্রবির জানেন না। তাছাড়াও জলিলের বয়স ২৭ বছর, এখন পর্যন্ত সেও বিয়ে করেনি! আদালতে সর্নালীকে প্রমান জেরা করায় সে বলে দিলো। ঘটনাটা এমন যে, প্রবির ব্যাবসায় কাজে ব্যস্ত থাকে আর জলিল তারি ঘরে তার বউয়ের সাথে থাকে!  যদিও সে শুধু ব্যবসায়ের অংশিদার ছিলো!
ডিফেন্স এখানে এরুপ কিছুকে উড়িয়েই দিয়ে প্রবির মজুমদারকে কে কাঠকড়ায় ডাকলো (/)। সে বললো, এতে তার কোনো আপত্তি নেই!!
কিন্তু রেপকেসের কী হলো...??

আদালতে এই মামলায় দুইও পক্ষ এই পর্যন্ত পৌছালো যে -
রাষ্টপক্ষের কাছে, জলিল মূলত ধর্ষনকারী। সে নিজের প্রমান না রাখার জন্য ডটেড ব্যবহার করেছে যা ধর্ষিতা নিজেই সাক্ষ দিয়েছে। তার শরীরে চিন্হ পাওয়া গেছে, জলিলের টাচের...
আসামী পক্ষের কাছে, জলিল সাহেব মোটেও অপরাধী নন। ডিএনএ তে তার কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি। তার উপর এরকম ভিত্তিহীন এমন মামলা দেওয়ায়, তিনি বাদীর শাস্তির আবেদন করছেন। এবং প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ডিফেন্সের প্রতি সচেতন হিসাবে একটা অনুরোধ যে -এমন মেয়ের পক্ষে না লড়ে(যে নিজের ছাত্রের সাথে) নিজের ছেলে মেয়ের প্রতি খেয়াল রাখবেন যে তারা কোথায় পড়ছে, কিরুপ আছে!

আদালত কোনো শক্ত প্রমান না পাওয়ায় জলিল কে মুক্তি দেওয়া হলো এবং মালিহাকে জরিমানা করা হলো।
জলিল আদালত থেকে বের হবার সময়, মালিহার কাছে গিয়ে চুপিসারে কানে কানে বললো, " ভাগ্যিস ব্যবহার করেছিলাম, না হয়তো এইডস ও হতে পারতো..! "
কাঁটা গায়ে নুনের ছিটা!

জলিল তার উকিলের সাথে আলাপে বসলেন, যিনি হলেন s.t.w সুলতানা। তার ভার্সিটি লাইফে একটা ছেলে তারসাথে ব্রেকআপ করায়, তিনি ঘুসি দিয়ে তার দাত ভেঙ্গে দিয়েছিলেন..!  
যাইহোক, জলিল প্রসংশা করে বলে উঠলো -
--ম্যাডাম, আপনি আসলেই একখান জিনিষ!
ম্যাডাম হাসলো।
--তা ম্যাডাম, আপনি কিভাবে হুট করে বুঝলেন যে, ঐ মেয়েটা এ রকম (!)
--ঐ মেয়েটাকে জাস্ট আমার সন্দেহ হয়েছিলো। তাই বের করতে চাইছিলাম তার কোনো স্কান্ডাল, আর তা দিয়ে এইটা ফিনিশিং...
তোমাকে বলেছিলাম না, আমি আছি চিন্তা করোনা...!
-মেয়েটা যে এমন, তা জানলে ওর দিক চাইতামই না..!
তা ম্যাডাম আপনি, এমনটা(!) সন্দেহ করলেন কিভাবে?
--আসলে আমি ও অনেক সময় পার করে আসছি...। আর আমার জামাইও আমার চেয়ে ৪ বছরের ছোট!!
--আল্লাহ বাঁচাইছে ....
--কেন?  কেন?
--আসি ম্যাডাম। ভালো থাইকেন ।
--তা কেন বললেনা যে!?

জলিল হাটতেছে আর ভাবতেছে, ইশ! শিক্ষিত মানুষ কতো খারাপ!

জলিল ও তার বন্ধু আক্কাস এইসব নিয়া আলোচনা করতেছে। আক্কাস বলে, ধূর এইগুলো দু য়েকটা বিচ্ছিন্য ঘটনা..
--বিচ্ছিন্য ঘটনা নারে পাগলা, সবি রিয়াল...!

এদিকে পরকীয়া ফাস হবার পর  ইচ্ছাকৃত দ্বন্দ্ব লাগালেন প্রবির মজুমদার। ব্যবসায় অংশিদারিত্ব থেকে আলাদা হয়ে গেলো। তাদের দুজনার কিছু চোরাকারবারি আন্ডার ওয়াল্ডের তাও বন্ধ হয়ে গেলো। জলিল অনুভব করিতে লাগিলো, সর্নালীর শূন্যতা। যাতে করে দ্বন্দ্ব দিন দিন বাড়তেই ছিলো, জলিল এবং প্রবিরের সাথে...!

পরের পর্ব: কে খুনি?

নোট: মূলত পুরো পর্বটাই সেক্স ক্রাইম নিয়ে। দেখা যায় একটা অপরাধকে আরেকটা অপরাধ দিয়ে চাপা দেওয়া, এবং অপরাধীকে বাঁচানো। বড় বড় অপরাধ যেখানে অজানাই থাকে, সেখানে ছোট ছোট অপরাধের বিচার। আর বিচারের নামে প্রহসণ। তবে নেক্সট পর্ব থেকে মার্ডার ক্রাইম, এবং আন্ডার ওয়াল্ড ব্যবসায়, দুর্নিতি এবং রহস্য।
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৫২১ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৯/০৫/২০১৫

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast