www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

এলাকার রোমিও এবং তার জুলিয়েটহীন শ্রাবণী

পৌষ এর পর মাঘ মাস। কিন্তু সমেস্যা হলো, মাঘ এর পর আর শীত থাকেনা। আর শীত না থাকলে কিছু মেয়েরা আবার বেশি শালিনতা বজায় রেখে
চলা ফেরা করে! যাদের দিকে একবারের বেশি আবার তাকানো যায়না! পোশাক পরিচ্ছেদের যে হাল!

এমনিতেই এলাকার বড় ভাই হিসাবে অনেক ভালো মন্দ দেখতে হয়। গুনীজনদের কাছ থেকে কদর পাই, ছোটরা সম্মান করে। এইতো!
বয়স একবারে আমার বেশি না।
এলাকার এই যুবক ব্যাচের মধ্যে,
আমি ২৩ বছর ২ মাসের একটা বুইড়া পোলা!
বুইডা বলতে গেলে, মাইয়াগো কাছেই শুনি। ওদের
আবার একটু কলেজ যাওয়ার পথে,
কথা হয়তো! তবে সবাই আবার বড় ভাই ডাকে।
ফন্দি করে একবার ছোট গুলারে বলছিলাম, আমার
আজ থেকে নিউ নামে ডাকবি।
আর রমিজ ভাই নয়, এরপর থেকে রোমিও ভাই! যেই
বলা সেই কাজ।
রোমিও কথাটা শুনলে নিজের মধ্যে একটু অন্যরকম অনুভুতি আসে।
তার উপর যদি নিজেরি ডাকনাম হয়, তাহলে কি আর বলা লাগে!


এলাকায় শুনছি নতুন এক পরিবার আইছে। যারা এলাকারি মানুষ অনেক দিন যাবত দূরে ছিলো। একটা মেয়ে আছে তাদের। আমাদের কলেজেই ভর্তি করিয়েছে। মেয়েটাকে প্রথম দেখেই আমার পুরাতন অভ্যাসের মতো, ভালো লেগে গেছে, এই আর কি!
বেশি বাড়াবাড়ি করা বশত পরিচিত হইতে চাইলাম। তো ডাক দিলাম :
-এই যে, এদিক আসোতো?
কথা শুনলোনা। বিরুক্তি বোধ হইয়া জোড়ে হাটতে থাকলো। তো পিছু হেটে আমি আবার জিগ্যেস করলাম :
-তোমারে ডাকছি? তুমি শোন নাই?
মেয়ে উত্তর দিলো :
আপনার সমেস্যা কি?

মেয়েটার এমন কথায় আমি টাস্কি খাইলাম। এ জাতীয় ব্যবহার আমার সাথে কোনো মেয়ে এখন পর্যন্ত করেনি আর এই ব্যাতিক্রম সাহস দেইখা আমি আরেকটু শীতল হইলাম!
তার উত্তরে আমি বললাম :
না, আসলে আপনাকে এলাকায় নতুন দেখলাম তো?
সে বললো : তো?
আমি বললাম : আর যারা আছে, সবাই আমার সাথে পরিচিত তো? তাই আপনাকে...
সে বললো : তাই আমাকেও পরিচিত হতে হবে তাইনা! দেখুন এইগুলো কিন্তু ইবটিজিং এর ভিতর পরে। তাই মনে করি, আপনি আমাকে বিরক্ত করবেন না!
এই বলে সে চলে গেলো। আর আমি যেহেতু রোমিও তাই প্রেমে পড়ে গেলাম, এই রাগি জুলেয়েটের!

এরমধ্যে এলাকার কলেজ পড়ুয়া ছেলে গুলায় মেয়েটার পিছু লাগা শুরু করলো। দু তিন জনে নাকি প্রস্তাব দিয়েও ফেলছে ভালোবাসার। আমি একটু ওদের নেতাটাকে বলে দিলাম, ও মেয়েটার সঙ্গে আমার সমেস্যা আছে (!), তাই তোর বন্ধুদের কে নতুন কোনো সমেস্যা থেকে দূরে থাকতে বলিস! যেই বলা সেই কাজ। একটা রেসপেক্ট আছেনা!

মেয়ের বাসায় চলে আসলাম। কোনো একটা ইস্যু ধরে, সবার সঙ্গে পরিচিত হলাম। সঙ্গে নিয়ে গেছিলাম বন্ধু মিঠুকে। তা ওর বাবার সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুব ভালোলাগলে। ওর বাবাকে বুঝালাম, আমি এলাকায় কেমন লোক এবং এলাকাটা কেমন। আর আমার উদ্দেশ্যই ছিলো, সবাই আমাকে চিনুক, বিশেষ করে মেয়েটা ও!
যাবার সময় সে তার মেয়েটার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দিলো। তাদের একমাত্র মেয়ে। নাম শ্রাবণী। এই কলেজে নতুন ভর্তি হয়েছে। খুবি নরম মেয়ে। বয়স মনে হয় ১৮ হবে!
সে যাইহোক পরিচিত হয়ে, বের হয়ে - কতোযে খুশি লাগছিলো! তা সিদ্ধান্ত এক খানা নিয়ে ফেলেছি, এই মেয়ের সাথে প্রেম করতে হইবে। দরকার হলে ওর পরিবারের সবাইকে পটাইতে হইবে। আর এলাকার মেয়েরা ত আমায় রেসপেক্ট করেই। ওরা ত আমায় সহযোগীতা করবোই।

শ্রাবণী বাড়ি থেকে বের হলেই, তদুপরি দেখা করে ফেলি। কলেজ খুব কাছে, তাই একটু বাড়তি বাড়াবাড়ি করি। এই জিগ্যাসা করি, কেউ ডিস্টার্ব করে কিনা? এলাকাটা কেমন? কলেজটা দেখতে কেমন? তার এসে কেমন লাগছে?? যতসব।
কিন্তু উত্তরে সে কোনো রকম অনিচ্ছায় কথা বলাই প্রকাশ পায়।

আমি একটু সাঝে নিজেকে পাল্টিয়ে ফেললাম! মাথার চুলে স্পাইক, একখানা সানগ্লাস, আর চেহারার উপর ফেয়ার & লাভলির ঘসা মাজার প্রাকটিসটা ভালো মত সম্পন্ন করেই বের হই। যদি তার একটু পছন্দ হয়ে যায়!

ইশ! ঘুমের ঘোরে কতো সপ্ন এসে বাড়াবাড়ি করে। কাল সন্ধা রাতে সত্যি সত্যিই রোমিওকে সপ্ন দেখলাম। কিন্তু জুলিয়েট কে দেখবো, তার বাড়ির সামনে রোমিও দাড়িয়ে আছে - ঠিক তখনি ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো!
বড্ড মন খারাপে আবার ঘুম দিলাম। কিন্তু সর্বনাশ! এরপর সপ্ন দেখলাম দেবদাসকে! যতই ঘুম ভাঙ্তে চাই, ঘুম আর ভাঙ্গেনা! ভোর বেলা মন খারাপে, চোখ বেয়ে কয়েক ফোটা জল ও নেমে গেলো! ভাবছি সপ্ন কে এইবার ছুটি দিয়ে দিবো! ভোর বেলা ছাড়া তার প্রবেশ নিষেধ। আর সরকারি নীতিমালার মতো, তাকেও সীমাবদ্ধ করে দিবো। রোমিও, জুলিয়েট ছাড়া কোনো বেয়দব যেন সপ্নের ভিতর না আসতে পারে!

দিনটা যেহেতু মন খারাপের তাই শ্রাবণীর সঙ্গে দেখা হলেও ভালো কিছু প্রাপ্তি নেই তা জানি। এমনিতে শ্রাবণী আমায় পাত্তা দেয়না। ইদানিং কালে মজা করাও শুরু করতেছে। খুব পরিচিত শেফালীকে জিগ্যেস করলাম, আমার সম্পর্কে কেউ ওর কাছে খারাপ কিছু বলছে কিনা? ও উত্তরে বললো, না।

সবাইতো আমাকে খারাপ জানেনা।
হয়তোবা আমি নিজের সম্পর্কে যেটুকো বুঝি, আমি পাগল প্রকৃতির হতে পারি কিন্তু কারো সঙ্গে খারাপ কিছু করিনি। কলেজ জীবনে একটা মারামারির স্মৃতি আছে, আর সেখান থেকেই আমার দাপট। অনেকে আমায় সেখান থেকেই ভয় পায়। যদিও সেইদিন আমার খুব রাগ হয়েছিলো, এর কারনের যা হওয়ার হয়েছিলো। পারলে সবার উপকার করি। বড়দের সম্মান দেই, ছোটদের স্নেহ করি। এলাকার ভালো মন্দ সবকিছু বন্ধু বান্ধব মিলে দেখাশুনা। সবসময়ই মনে করি, এলাকাটা তো আমাদেরি।

শ্রাবণীর বাবার সঙ্গে বাজারে বসে দেখা হলে। এবার তিনিই আগে কথা বললেন। তিনি জিগ্যেস করলেন, দিনকাল কেমন যাচ্ছে?
আমি বললাম, ভালোই। সে একটু মজা করে জিগ্যেস করলো, এলাকার দাদাগিরির কি খবর?
আমি একটু লজ্জা পেয়ে বললাম, না, আমি দাদাগিরি তাদাগিরি করিনা!
সে বললো: তা বুঝছি, তবে তোমার জন্য একটা সুখবরি আছে। শ্রাবণীর একটা ভালো যায়গা থেকে প্রস্তাব এসেছে। দেখো, এলাকায় তো আমি তোমায় ভালো চিনি, তাই অগ্রিম তোমায় কিছু দায়িত্ব দিলাম, কিন্তু?
আমি বুঝলাম, আমার কাজ সারা! তাকে কোনো রকম একটু জবাব দিয়ে বিদায় হলাম!
আর ভাবছি আজকে রাতে তো সপ্নই দেখিনাই - তাহলে এমনটা হলো কেন?
খুব তাড়াতাড়ি কলেজের দিকে ছুড়লাম, শ্রাবণীর সঙ্গে দেখা করতে। গিয়ে দেখি শ্রাবণী ও তার বান্ধবী একাসাথে বসা। আমি একটু ওর বান্ধবী যেতে বললাম, ওর সঙ্গে একটু জরুরী কথা বলার জন্য। শ্রাবণী কিছু মনে করলেনা। ও যাওয়াতে জিগ্যেস করলো, কি বলবেন রমিজ ভাই?
আমি বললাম ভাই টাই ছাড়ো,তোমার জন্য একটা দুঃখের খবর আছে।
ও চিন্থিত হয়ে বললো, কি?
আমিঃ তোমার বাবা, তোমার জন্য বিয়ে ঠিক করতে যাচ্ছে।
শ্রাবণীঃ আপনি জানলেন কি করে?
আমিঃ সে আমাকে বলছে।
কারন এলাকার ভিতর ত আমার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক।
শ্রাবণীঃ তা বুঝছি, কিন্তু আপনি....?
আমিঃ আমারি ত সব।
শ্রাবণীঃ মানে??
আমিঃ মানে হলো, আমি যে তোমায় পছন্দ করি, সেটা তুমি জানো। যদিও তোমাকে ভালোবাসি, তা প্রকাশ্য এখন পর্যন্ত বলিনি!
এই কথায় শ্রাবণী খুব রাগ হয়ে, আমাকে তুচ্ছ উদ্দেশ্য করে বললো : যত্তসব!!

দুপুরের লাঞ্চ শেষে বিশ্রামে , বিছানায় বসে ভাবতেছি - না, হবেনা। ও মেয়ের যে মতিগতি, মা বাবার কথা মতোই বিয়ে করে ফেলবে। তার উপরে আমায়তো কোনো পাত্তাই দেয়না।

বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে হাটতেছি । এলাকারি রিতা, সনু ওদের সঙ্গে দেখা হতেই, আমায় বললো : রোমিও ভাইয়া, কেমন আছেন?
আমার মন খারাপ, তাই আমার বন্ধুরাই উত্তর দিলো : ভালো আছি? তোমাদের কি খবর? দেখাইতো যায়না?
ওরা বললো, একটু ঢং করে : আমদের একটু ব্যস্ত সময় যাচ্ছে !
আসিফ ভাইয়া তোমায় একটা কথা বলি?
আসিফ: বলো!
সনু: আমাদের কিন্তু একটা জুলিয়েট ভাবি চাই। এবং তা অতি শিগ্রই চাই!!
এইবার আর আমি বসলামনা, সনুকে ধরবার আগেই, হাসতে হাসতে দৌড়।

বিষন্ন মনে রাতে ভাবতেছি , সবার কাছে কেমন আকর্ষনিয় হয়ে আছি। অনেক ভাবনাই এখন খুব কাছে ঘুরেফিরে। আগের মতো অনুভব গুলোও হয়না। তবু রাতে ঘুম হয়ে যায়।
আজকে রাতে সপ্ন দেখলাম, গহীন বনে হরিণের পিছে ছুটছি। কোনো এক শিকারী বেশে হরিণ শিকার করছি।
সে যাইহোক ছোটখাটো পণ করলাম, বাসা থেকে আগের মতো বের হবোনা। পুরো এলাকায় টহল দেওয়ার অভ্যাসটা বাদ দিতে হবে।

ঠিক দুই দিন পর। শ্রাবণীর বাবা ফোন দিলো, আমাকে বিকেল বেলা আসতে বলেছে। আমার আসার কোনো ইচ্ছে ছিলোনা। তাকে একটা কাজের বাহানা দিলাম। আমি জানি শ্রাবণিকে দেখতে আসবে। আর মোটামোটি ভাবে পাকা হয়ে যাবে, তার বিয়ে ক্ষন।
দুপুরের খাবার পর, যখন একটু বসে ছিলাম - শ্রাবণীর বাবা আমার বাসায় আসলো। আব্বু, আম্মুর সঙ্গে পরিচিত হলো। আমি অবাক হলাম, আমাকে নিয়ে তার এতো গরজ দেখে। এমন ভাবে সে আমাকে নিতে আসলো, আমি না যেয়েও পারিনা।
তার সঙ্গে গেলাম। বাড়িতে গিয়েই ভাবছিলাম, শ্রাবণীর সঙ্গে দেখা হবে, কিন্তু ওকে আর দেখছিলামনা।
গিয়ে শ্রাবণীর মাকে ছালাম দিলাম, তার সঙ্গে কথা হলো।
এরমধ্যে চলে আসলো, যারা দেখতে আসবে। বাসার প্রথম দরজার রুমটায় সবকিছু সাজানো ছিলো। তারা সঙ্গে ৫ জন আসছিলো। এর মধ্যে একজন ছিলো ঘটক। সেও অবশ্য মধ্যবয়স্কা, তাকে দেখে বুঝা যায়না সে এমন কাজটা করেন!
যাইহোক পাত্রকে দেখে, আমার অবস্থা একটু কাহেল হইলো। পাত্র অনেক বয়স্ক। চেহারার মধ্যে বয়সের পুরা ছাপ।
পুরো চেহারার দিকে তাকালেই বুঝা যায়, কি যেন খারাপ কিছু লুকিয়ে আছে!
আমি ক্ষোভে বলছিনা, সত্যিই বলছি। শ্রাবণীর বাবার চেয়ে ২-১ বছরের ছোট হতে পারে। একদম সেভ করে আসছে, নতুন হয়ে। তাতে কি, যে মন্দ গোফ - তা দেখলে মন চায়, কতোক্ষণ ওরে মারি!
অতিথিদের আপ্যায়ন করার কাজটা পুরোপুরি না পরলেও, অল্প একটু এগিয়ে পিছিয়ে দেওয়া আমার কাজ। শ্রাবণীকে এরপর ডাক দিলো। আমি পরিচিত হয়েছিলাম,এই আতেল মার্কা পাত্রের সঙ্গে।
তবে মেয়ে দেখতে তারা বাদবাকি ৪ জনের ভিতর একজন মোটা মহিলা ছিলো। সে পাত্রের ভাবি।
শ্রাবণী এসে ওর বাবার পাশে বসলো। আর আমি ওর বাবার অন্য পাশে বসা। আমি একটু উঠে বসলাম।
যাইহোক দেখাদেখি ওদের হলো। আর আমার জীবনের অনিচ্ছার সবচেয়ে বড় দিনটাই ছিলো আজকে।
অতিথিরা ইতিবাচক প্রস্তাব দিয়েই বিদায় হলো। আমি শ্রাবণীর বাবার সঙ্গে কথা বললাম জামাইর বয়স নিয়ে, এবং কি করে। তবে শ্রাবণীর বাবা যা বললো, বয়সটা সে চাপিয়ে দিলো এবং তার অর্থ সম্পদের গুনেই সে ছিলো বিমুগ্ধিত!

আসলে আজকাল মা বাবারাই এমন হয়। ভাবে জামাইর টাকা পয়সা থাকলেই মেয়ে সুখে থাকবে। এরজন্য তারা অন্য কিছু আর ভাবে না।

শ্রাবণী আমার সঙ্গে একটু আলাদা কথা বলতে চাইলে। শ্রাবণীর সঙ্গে আমার যা হোক আর না হোক, আমি সাভাবিকই ছিলাম। কারন ভালোবাসার ক্ষেত্রে কেউ কেউকে ফিরিয়ে দিলে সেটা মনে রাখতে নেই!
শ্রাবণী আমায় প্রথম জিগ্যেস করলো, আমি কেমন আছি?
আমি উত্তর না দিয়ে, তাকে জিগ্যেস করলাম, পাত্রকে কি তোমার পছন্দ হয়েছে?
শ্রাবণী: আমারটা আগে answer দিবেন?
আমি: হুম, ভালো আছি।
শ্রাবণী: আপনি আসতে চাইছেলেন না, বাবা আপনাকে জোড় করে নিয়ে আসছে তাইনা!
আমি: হুম, তাই। এখন তোমাকে যা বলছি, তার Answer দাও?
শ্রাবণী: আসলে পাত্র আমায় দেখেছে, আমিতো পাত্রকে দেখিনি!
আমি: তার মানে তোমার কি পাত্রকে অপছন্দ। তাহলে তুমি তোমার বাবাকে বলতে পারো। আমি মনে করি, ঐ বয়স্ক ব্যাক্তি তোমার যোগ্য না!
শ্রাবণীঃ কে আমার যোগ্য, কে আমার যোগ্য নয়, তা আমি ভালো বুঝি। আর আমি বলছি আমি পাত্রকে দেখেনি, তাকে অপছন্দ করি তা বলিনি । আর বিয়ে ঠিক করেছে বাবা, তাই তিনিই সব বুঝবেন।
আমিঃ তাহলে ত সব ঠিকই আছে, আমি যেতে পারি..
শ্রাবণীঃ যাবেন তো! আপনার সঙ্গে কথা আছে?
আমিঃ যা বলার, বলেন?
শ্রাবণীঃ হঠাৎ, আপনি হয়ে গেলাম - তাইনা!
যাইহোক, দুয়েক দিন ধরে আপনাকে দেখা যাচ্ছেনা!
আমিঃ এইতো ব্যস্ত ছিলাম তাই।
শ্রাবণীঃ শুনেছি কখনো আপনি ব্যস্ত থাকেন না?
আমিঃ হ্যা, তবে এখন থেকে ব্যস্ত থাকা হবে।
শ্রাবণীঃ সেদিন কলেজে আমায় কি যেন বলছিলেন!?
আমিঃ এ গুলোর কোনো মানে হয়না!
শ্রাবণীঃ সত্যিই! যাইহোক বাবা আপনাকে খুব পছন্দ করে?
আমিঃ হুম, নিজের বড় ছেলের মতো ভাবে!
শ্রাবণীঃ Actually তা নয়, কারন আমার বাবা খুব বুদ্ধিমান মানুষ। আপনি আমাকে পছন্দ করেন, তা তিনি জানে। কিন্তু তিনি এও জানেন,আমি আপনাকে পছন্দ করিনা। হয়তোবা তিনি এলাকায় আপনার একটু পরিচিতি জেনে, আপনাকে পছন্দ করে।
আমিঃ Ok. আমি যাই।
শ্রাবণীঃ ঠিক আছে, যাবেন। সন্ধা ত হয়ে গেছে। রাতের দিনারটা করে যাবেন।
আমিঃ তা আর দরকার নেই।

আমি বাসায় চলে গেলাম। রাতে ঘুম আসছিলোনা। ঠিক তখনি কে যেন ফোন দিলো। রিসিভ করেই শুনি শ্রাবণী। আমি ফোন কেটে দিলাম। ও যতই ফোন দিউক, আমি ফোন রিসিভই করিনা।
শেষ রাতে একটু ঘুমাতে পেরেছিলাম, তাও ভয়ঙ্কর সপ্ন দেখেছি!

শ্রাবণীর বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করলো। আমি ভাবছিলাম, কয়দিন এলাকা থেকে একটু চলে যাব। কিন্তু মা বাবার আদেশ মতো আমার আর যাওয়া হলোনা।

বেশ ১ সপ্তাহ পর। কালকে শ্রাবণীর বিয়ে। আমার মা বাবা সহ সবাই শ্রাবণীর বাসায়। আমার না যাওয়ার শত ইচ্ছার পর ও যাওয়া হইলো। শ্রাবণী গেটে অপেক্ষা ছিলো, আমি কখোন আসবো। আমি জানিনা এদিক কি হয়েছে। তবে কালকে যেহেকু বিয়ে আজকে শ্রাবণীর মন খারাপ থাকা সাভাবিক। আমায় একটু বুঝাতে বললো, ওর বাবা। শ্রাবণী হয়তো পাগলামী করেছে, ওই লোকটাকে বিয়ে করবেনা।
আমি বেশি কথা না বলে, শ্রাবণীকে বুঝাবার কাজটাই নিলাম। যদিও আমার ফোনে শ্রাবণীর নাম্বারটা ব্লাকলিস্টে আছে!
ওর বেডরুমেই চলে গেলাম। আসলে অনেকটা অধিকার পেয়ে গেছি। আমি প্রথমে শ্রাবণীকে বুঝালাম, তুমি বাবার কাছে যেমন রাজকন্যা হয়ে আছো, স্বামীর কাছেও অনুরুপ রাজরানী হয়ে থাকবে। এরচেয়ে বড় পাওয়া আর কি চাই।
শ্রাবণী আমায় বললো, তার পাত্রর বাহ্যিক গুনাবলী সহ। তিনি যা করে থাকেন, এবং তার চরিত্রের কিছু বর্ণনা! আমি সর্টকাটে একটু আহাম্মক হইলেও পজিটিভ কিছু বলার আর সাহস পাচ্ছিনা।
আমি প্রথম দেখেই বুঝেছিলাম, এই পাত্র ততোটা সু ব্যাক্তি নয়! কিন্তু শ্রাবণী ও ত আর একটা ঝামেলা। আমার সঙ্গে যে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলো, তাতে আমি ভালো বলেই ওর বিয়েয় হেল্প করতেছি।
আমি শুধু ওকে বলতেছি, ওর বাবাও ত অনেক কিছু জানে, তিনি কিভাবে বিয়ে দিচ্ছেন। আমার না হয় সাময়িক রোমিও হওয়া হলোনা, কিন্তু শ্রাবণীর কেন জুলিয়েট হওয়া হলোনা। যদিও শ্রাবণীর নামটার ভিতরে অশ্রু লুকিয়ে আছে!

আমার মনে হয়, শ্রাবণীর বাবা বেশি পণ্ডিতি করতে গিয়ে, ফেসেই গেছেন।
এখন মেয়েটাকে কালো চষমা পড়ে বলি দিচ্ছেন।
সে যাইহোক আমার আর কি করা আছে। আমি শ্রাবণীর নাম্বারটা ব্লাকলিস্ট থেকে সরালাম। কারন আর কয়েক ঘন্টাই তো আছে। যা হবার হয়ে যাবে!

প্রায় রাত অনেক হয়েছে। বিয়ে বাড়ির অনেক কাজ শেষ। আমার মন ভালো নেই একা বসে। হঠাৎ খুব শীতল অনুভব পেলাম। বসন্ত বাতাসের অনুভবটায় অনেক কিছু যেন পূর্নতা আছে।
কিন্তু এটা কি!
শ্রাবণী আমার হাতে হাত দিয়ে, পাশে এসে দাড়ালো। আমি অবাক চোখে ওর দিকে তাকিয়ে, দেখি অশ্রু ঝরতেছে, সেই সপ্নে দেখা তীরবিদ্ধ হরিণটার মতো।
আমি ভাষাহীন হয়ে গেছিলাম। চারপাশে কেউ নেই। এখন আমি কি করবো, তাও ভেবে পাচ্ছিনা। শুধু এটুকো বুঝি, সব কিছুই এখন আমার!
শ্রাবণীকে আরেকটু সহানুভূতি দিতেই, ও আমাকে জড়িয়ে ধরলো। খুব কেঁদে ফেললো। এই কাঁদার মাঝে শুধু একটা কথা বললো,
"সেদিন উত্তর দিতে পারিনি, কারন ভাবার সময় ছিলোনা। আর যখন ভেবে ফেলেছিলাম, তখন আর তুমি সময় দেওনি। আর আজ শেষ সময়ই বললাম, ভীষন ভালোবাসি...! "

আমি ওর অনুভূতি গুলোকে স্পর্শ করেছিলাম। আর এটুকো বুঝিছি, একটা মানুষের জীবন এখন আমার হাতে , তাই সে জীবনটা বাঁচাতেই হবে।
শ্রাবণী আমাকে জড়িয়ে ধরা। খুব শীতল হয়ে যাচ্ছে। আমি ওর কানে কানে বললাম, চলো। রাত ১ টা। বাড়ি থেকে দুজনেই বের হয়ে যাচ্ছি। ও একটু সাধারন সাজেই ছিলো, সাথে একটা চাঁদর ও ছিলো।
দু জনে বেশ কিছু হাটলাম। সামনেই বাসস্টপেজ। ওখান থেকে বাস ছাড়বে । আমার সঙ্গে টাকা ছিলো। শ্রাবণী ও একটা চাদরের সাথে, ওর ব্যাগটাও নিয়ে ছিলো। ঐ রাতে বাসের টিকিট কেটে, রওয়ানা দিলাম, আমার খুব পরিচিত এক আত্মীয়র বাড়ি। বাসে অনেক যাত্রীও ছিলো। আমরা পাশাপাশি বসা। শ্রাবণীর আমার কাধে হেলান দিয়ে, চোখ বন্ধু করে আছে।আমি জেগে আছি।
মাত্র ৪ ঘন্টা সময় লাগবে যেতে। যার কাছে যাবো, তাকে আগে ফোন দেইনি। তবে শ্রাবণীকে দেখেছিলাম, সে মনে হয়, ভালোবাসি বলার সাথে নিজেকেও দিয়ে দিয়েছে। সারাপথ কোনো কথাই বলছেনা।

ভোর ৬টায়, আত্মীয় বড় মামাতো ভাই সাদি ভাইয়ের বাসায় নক করলাম। কেউ খুলেতেছেনা। আবার নক করলাম। আমাদের দুজনারি ফোন বন্ধ।
ভাবি দুয়ার খুললো।
প্রথমে আমায় দেখেই, এক কদম পিছে গিয়েই চোখটা মোছা দিলো। সে বারবার চোখটা মোছা দিতে লাগলো। এবং বললো, ধুর! কি দেখতেছি!
আমি খুব ক্লান্তি চোখেই, বললাম সত্যিই!
ভাবি বললো:
রমিজ! তুই এখন!! এইসময়!! হঠাৎ!
আমার পিছনে লুকিয়ে ছিলো, শ্রাবণী। আমি শ্রাবণীকে ভাবির হাতে তুলে দিলাম, এই নাও!
ভাবি বললো, হুম! উপহার বুঝি!!
সাদি ভাই তদুপরি ঘুম থেকে উঠেই আমায়, আদুরে মাইর দেওয়া শুরু করলো।

শ্রাবণীর কাছে আমার যে কর্তব্যরত অঙ্গিকার হয়ে গেছিলো, তা ধীরে ধীরে পূরন হওয়া শুরু করলো।

বাড়িতে জানি হট্টগোল। তার উপরে বিড়ালের কাছে মাছ পাহারা দেওয়া! কিন্তু এখন পর্যন্ত যে কি হয়ে গেলো, তা আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা।
শুনেছি শক্তির বড্ড রুপ দেখিয়ে দেছে, ওর সেই বুড়ো পাত্র। তবে যাই দেখাক, কিছু ত করার নেই! আমার শশুর অনেক ভোগান্তি সইলেও, এরচেয়ে তিনি ভালো কখনোই পেতেন না।

১ দিন, ২ দিন, ৩ দিনে বাড়ির সকল ঝামেলা কমপ্লিট। আমার পাওয়ারফুল বন্ধুরা ত আছেই! শুধু ঝড়টা বইলো, বেচারা শশুরের উপর!!

১ সপ্তাহ পর বাড়ি।
১ মাস পর এলাকায়, আর তেমন পরিচিত নাই।
১ বছর পর। নিজের পতিচ্ছবির সাথে কথা বলছি, "এলাকায় আমার অনেক দাপট ছিলো...! আমার অনেক বন্ধু ছিলো....!! কিন্তু হঠাৎ এক সুখের ঝড়ে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো....!!

------------০-------------
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৪০৯ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৪/০২/২০১৫

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast