www.tarunyo.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

এই আমি কতোবার

১.
বিয়ের উৎসব। বড় চাচাতো বোনের বিয়ে। চারিদিকে কাজের চাপ। এই সাজানো, গুছানো...। বরপক্ষ আসবে এই নিয়ে, সবার তাড়াহুড়ো। আমার চাচাতো বোন মানে কাজিন রিতা, আমার চেয়ে ৩ বছরের বড়। তার বিশ্যবিদ্যালয় লেখাপড়া শেষ, বাবার জবেই অংশিদার হয়েছে। এরমাঝে বিয়েটাও সেরে ফেলছে। তার বোন রিয়া আমার বয়সী। দু বোনের মধ্যে কোনো মিল নেই। একটা নরম প্রকৃতির আর রিয়ার নামটার মতোই হিংসুটে! তবে উপস্থিত বুদ্ধি একটু বেশি। আজ পর্যন্ত কোথাও হারতে দেখিনি। আমার সঙ্গে তর্ক লাগলে, আমি বলি তুই জিতে গেছো! আর তাতে আরো তুলকালাম!
যেহেতু বিয়ের অনুষ্ঠান, আমি একটু আড়ালে আড়ালেই থাকি। কাজ ফাঁকি দি, এই আর কি। রিতা আপুর কাছে আমি খুব প্রিয়। তার কোনো ভাই নেই। আর আমিও মা বাবার একমাত্র সন্তান। বলতে গেলে রিয়া, আমি, আর রিতা আপু একসাথেই বড় হয়েছি। আমি একটু আনন্দ প্রিয় এবং ফাঁকিবাজ। কোনো অনুষ্ঠানের সব আনন্দে অংশিদার হবো, কিন্তু কাজে নেই!
সব কিছু আয়োজন শুরু হওয়ায় বরপক্ষ এসে গেছে। আমি আছি এক প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে সকলের আড়ালে। নিরালয় খেতে আছি, আর উৎসব দেখতেছি কতো আয়োজন! একটা বিষয় আমার খুব ভালোলাগে, সব আত্মীয় স্বজনদের, একসাথে হওয়া হয়, এই বিয়ের উৎসবে।

এতো আড়ালে আছি, এরপর ও পাশ দিয়ে দেখে গেছে, ফাজিল রিয়া। আর মিষ্টি খাওয়া হলোনা! তদুপরি গিয়ে রিতা আপুর কাছে। কারন ও আবার কিনা বলে দেয়!
আপু জিগ্যেস করলো,
-মুহিন, এতো কাজের ফাঁকি দিস ক্যান?
-কই, আমি ত ছিলাম ওখানে! (একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে)
ওই ফাজিল টা এসে বললো,
- হ্যা, ছিলি ত এক প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে!
মেঝাঝটা গরম হয়ে গেলো। আপু ওকে যেতে বললো।আমাকে বললো,
-শোন, তোর দুলাভাই মি. আদনান বন্ধুদের সাথে বসে আছে। সেখানে গিয়ে আমার কথাটা বলে আস? (একটু কানে কানে বললো!)
আমি চলে গেলাম বলতে। দুলাভাই আমাকে চিনে। আমাকে সেও খুব স্নেহ করে। এইসবার স্নেহ পেলে, মনে হয় আমি খুব ছোট! সত্যি যদি হওয়া যেত!
দুলাভাই পাশে আমার বয়সী মেয়ে দেখলাম। বেয়াইন হবে। পরিচিত হলাম, নাম তার দিশারী। নাম টার দিশা ভালোনা, না জানি কেমন! যদিও সে দুলাভাইর কাজিন। আমার কাজ, আমি কথা বলে চলে আসলাম, আমার বেডরুমে। আমি বেডরুমের সামনে থেকে, মোবাইল টিপছি - এবং নিচতলায় সবার ব্যাস্ততা, আয়োজন, উৎসব দেখতেছি। এখন আর কেউ আমায় ফলো করেনা।
একটু পর আপুকে, দুলাভাইর পাশে নিয়ে বসানো হলো। ক্যামেরাম্যানরা সবাই ব্যস্ত ছবি তোলায়। তার উপরে রিয়া, দিশারী - তারাও তুলতেছে।
এমনিতে আমি খুব কৌতুহল পূর্ন মানুষ।
সবকিছু নিয়ে ভাবনায় চলে যাই। এরপর তা নিয়ে মজা করি। একটু নিচে নামলাম। একটা চেয়ারে বসলাম নবাবজাদার মতো! হাতে একটা খাতা এবং কলম নিলাম। কেউ কেউ দেখে ত কবি ভাবা শুরু করলো। দিশারী এক পলক তাকালো।
কি করি....!
মাথায় একটা ফাইযলামি বুদ্ধি আসলো। দিশারীর দিকে তাকিয়ে থাকলাম, অপলক দৃষ্টিতে। বিষয়টা দিশারীর খুব খারাপ লাগলো। তারপরে-ও কিছু মনে করলোনা, হয়তোবা খারাপ ভাবলো। আমি একটু কলম নিয়ে এমন ভাব করলাম, সবাই ভাবতেছে - আমি তাকে নিয়ে কিছু লিখতেছি। কি লিখতেছি তা কেউ দেখতেছেনা। রিতা আপুকে রিয়াকে পাঠালো দেখতে? আমি ঢেকে রাখলাম। অন্য একটা ভাব ধরলাম। ও দিকে দিশারী ত রাগে, চেহারা লাল হয়ে যাচ্ছে! কিছু লিখে আমি চলে গেলাম, তাকে একটা হাসি দিয়ে। ব্যাপারটা অনেকের কাছে রহস্যময় হয়ে গেলো।
আমি একটু দূরে সরে যাওয়ায় রিফাত ডাক দিলো। আমার ছোট, দুলাভাইর ছোট ভাই। বিষয়টা আমি বুঝেছি, দিশারী কথা বলবে। ত দিশারী আমাকে, জিগ্যেস করলো,
- আমার দিকে চেয়ে, কি লিখলেন?
- অনেক কিছু!
-সেই কিছুর নাম নেই?
-নেই!( মজা করে)
-ওহ! আপনি ত খুব বড় মাপের কবি। কাউকে দেখেই প্রেমে পড়ে যান। তার রূপ নিয়ে কবিতা লিখেন। (রাগান্বিত হয়ে)
- oh! no. (ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে)
তদুপরি চলে আসলাম। রিয়া আমার দিক চেয়ে মুখ বুঝে একটু হাসলো। ব্যাপারটা এই তিন জন ছাড়া, আর কেউ দেখেনি। আর আমি কি লিখেছিলাম, তা আমি ছাড়া কেউ জানেনা!
আপু কে নিয়ে যাওয়ার সময় হলো। আমি নিজেকে খুব অপমানিত বোধ করলাম দিশারীর কাছে। পুরো আয়োজন থেকে আমি আড়াল হয়ে গেলাম। মোবাইল টা বেডরুমে সাইলেন্ট করে রাখা। আমি একা ছাধে চলে আসলাম। কারন দিশারীকে দেখলেই, আমার অপমানিত বোধ লাগে। তার উপর রিয়ার বাজে হাসি। আমাকে রিতা আপু খোঁজ করলো। হঠাৎ করে অনুষ্ঠানে না পাওয়া একটা বিভ্রাট শুরু হলো। ফোন বেডরুমে দেখে, রিয়া ভাবলো - আমি কাছাকাছিই আছি । কিন্তু খোঁজ করে পেলোনা।আপু দিশারীর দিকে তাকিয়ে, বুঝতে পারলো - দিশারী মনে হয়, আমায় কিছু বলেছে। যদিও রিয়ার ব্যাপারটা থারাপ লাগলো। আমি যে কি লিখেছিলাম, এটা আবার আন্টি মানে রিয়ার মা দেখে ফেলেছিলো, আমি তা খেয়াল করিনি। সে রিতা আপুর কাছে বললো, আমি নাকি মজা করেছিলাম। দিশারীর দিকে তাকিয়ে " অ " "আ" লিখতে ছিলাম, বড় বড়!
এরপর আমি একটু পরই, চলে আসলাম সবার মাঝে - থমকে থাকা টা চলমান হয়ে গেলো। আমি আবার একটু নতুন বিষয় নিয়ে ভাবতেছি, মোবাইলটা নিয়ে বন্ধু সাফিন কে ফোন দিছি। ওর সঙ্গে আমার একটা ব্যাপার আছে!

বিয়ে প্রায় শেষ এই নিয়ে আমার তেমন কিছু নেই।
ওদিকে দিশারী সরি! বলে গিয়েছিলো। আমি তেমন কিছু ভাবিনি। পরে জানলাম সে আমার চেয়ে এক বছরের বড়, তাই একটু বেশিও কিছু ভাবিনি!

২.
বাড়িটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে । মোবাইলটা নিয়ে একটু বসে আছি। রিতা আপু ফোন দিলো। কিছু রাগ বাজানো কথা বললো দিশারীকে নিয়ে। এরপর দিশারী কে ফোনটা ধরিয়ে দিলো, আমি আর তা বুঝিনি । আমি ও রাগ বেজে দিশারী সম্পর্কে বললাম, দিশাহীন, উল্টা পাল্টা!!
ফোনের ওপাশ থেকে আওয়াজ হলো, তারপর?
আমি ভাবলাম, এতো আপুনা?
-আপনি কে? (চিন্থিত হয়ে)
-আমি, দিশাহীন, বয়স্ক, বিশ্রি বেয়দব দিশারী!! (ভাবুক কন্ঠে)
- কথার বলার আগে ’ একটা নাম টা ত বলবেন?
-কথা বলার আগে ত নামটা বলেছি!!
- হুম! শোনার আগে বলেন নি!
-তো ?
- বোকারাম!!
ফোনের ওপাশ থেকে দুজনার হাসির আওয়াজ শুনলাম। আপুর উপর খুব রাগ হলো!
আর দিশারীর এই বুদ্ধিমত্তা দেখে, আমি পুরো টাস্কিত হলাম।
এরপর আবার পরদিন, অচেনা নম্বার থেকে ফোন দিল। ফোন রিসিভ করেই আমি বলছিলাম,
- কেমন আছেন?
- আমি দিশারী বলছি!
-হুম, তা আমি আগেও বুঝেছি!
-আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু শুনলাম, আপনার বোনের কাছে? খুব interesting!
-বড়ই দুঃখের বিষয়!
- ঠিকই, আপনার!
-আমাকে, তুমি করে বলতে পারেন? কারন আপনি আমার চেয়ে এক বছরের বড়?
- এরমধ্যে, জন্ম নিমন্ধন কার্ড টি চেক করা হয়ে গেছে!
- নাহ! তেমন, একটু জিগ্যেস করেছিলাম (লজ্জিত হয়ে)
-অনেক কিছু অগ্রিম ভেবে রাখেন, তাই না!
- তেমন না, তবে হঠাৎ করে কি মনে করে, ফোন দিলেন? একটা অচেনা নাম্বারে!
- নাম্বারটা একদিনের চেনা, আর মানুষটা ৫ দিনের!
- তাই তো!, আর কিছু?
- কোনো কিছু ত, হলোই না? কোনো কথা, কোনো গল্প না!!
- কি হওয়া যায়!
-বোকারাম!!
ফোনটা কেটে দিলো। এই নিয়ে পুরাই আমি চিন্থিত, তার উপরে রিতা আপুর হেল্প। না জানি গলায় বাধে কিনা!

৩.
বন্ধু সাফিনের সঙ্গে কথা। ও আমাকে একটা হেল্প করতে বলেছিলো। ব্যাপারটা ওর একটা নিউ জব নিয়ে। ওর খুব দরকারি, আমি চেষ্টা করেছি। যদিও অবশেষে একটা পেয়েছি। ওর সঙ্গে আরেকটা ব্যাপার নিয়েও ঘোলাটে আছে। সে হলো সপ্না নামের একটা মেয়ে নিয়ে। সে আমাদের একটা ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলো, তার সঙ্গে অনেক কিছু হয়ে গেছে, যা বলার নয়! যদিও তার বিয়ে হয়েছে, বছর খানেক হয়েও গেছে - তবু এ নিয়ে মাঝে মাঝে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হয়ে। পুরো বিষয়টা আমায় নিয়ে, একটা সম্পর্ক নিয়ে, কিন্তু শুধু শুধু আমার বন্ধুকে ঝড় সইতে হয়! কারন শুরুটা হয়েছিলো ওকে দিয়ে। এ ব্যাপারটা অনেকেই জানে,এমনকি রিয়াও।

এমনিতে আমি পরিবারের সাথে যেমন রূপেই থেকে, আমাকে দুই রকম ভাবে চিনে দুই বোন, রিতা, রিয়া। রিতা আপুর কাছে আমি খুব গল্প বলার, মজা করার, নম্র, লাজুক এবং অবুঝ প্রকৃতির। আর রিয়ার কাছে খুব কঠিন, তোয়াক্কা না করা, ডানপিটে, পাগল এবং একটু বোকা ধরনের মানুষ! সেই হিসাবে আমার পথ চলায়, অনেক কিছু দুজনেই জানে, সবচেয়ে বেশি জানে রিয়া। কারন ও আমার সমবয়সী, আর একটা বন্ধুও বটে। তার উপরে কিছু সম্পর্ক জনিত ঝামেলা, অনেক সময়তো অনেক কিছুই হলো!

৪.
দিশারী মেয়েটা যতই বুদ্ধিমান হোক, আমার প্রতি দুর্বলতাটা, আমি ভালো করেই বুঝি। প্রতিদিনি ফোন দেয়ে, আমি কখনো রিসিভ করিনা আর কখনো কথা উলট পালট বলি। এর মাঝে চ্যাটিং ও আমি তেমন জবাব দেইনা। না জানি, এরপরও দূরত্ব হয়না।
আপু আর দুলাভাই বাড়িতে আসলো। সঙ্গে করে দিশারী নিয়ে। বিকেল বেলা এক সাথে সবাই বসলো। এই সময় আপু বললো,
-দিশারী, শুধু একজনার জন্য এসেছে!
আমি বললাম,
- কতো জন তো কতো জনার জন্যই আসে!
আপুর চেহারার মধ্যে রাগ ফুটে উঠলো। দিশারীকে তেমন প্রভাবিত হতে দেখলাম না।
সন্ধার পর দিশারীর সঙ্গে কথা,
-হঠাৎ করে, এমন মুখোমুখি?
-কেন, অস্বাভাবিক কিছু!
-না, তেমন? তবে একটা কথা জিগ্যেস করি? তোমাকে ইঙ্গিত করে কিছু বলি, যার প্রতিউত্তর হওয়ার কথা ঝাঝালো, ঠিক সেই বিয়ের দিনের মতো, রাগান্বিত মুডে! এইতো আপুর কথার উত্তরে যা বললাম, তাতে তোমার কোনো অনুভূতি দেখিনি!?
-নিজের কাছে অনেক কিছুই ত অনেক রকম মনে হয়!
-তা সত্যি!
-সেদিন ত , না বুঝেই যা হওয়ায় হয়েছিলো। আর তোমার ফাইযলামি ও বুঝতে পারিনি!
- আমার আবার কি, ফাইযলামি!
-কেন, ঐ যে আমার দিকে চেয়ে, তোমার কিছু লেখা। কি লিখছো বলবো? (একটু হেসে)
-না, বলার দরকার নেই! তুমি ছোট নও, আমার চেয়ে বড়!
-তাইতো, সবসময় শুনলাম!
এইতো কিছুক্ষণ এই সব, অপ্রসাঙ্গিক কথা বলে সময় পার।
পরদিন রাতে রিয়া আমাকে জানালো, তার এক সময়কার খুব কাছের ফ্রেন্ড বরষা ফোন দিয়েছে! এ কথা শুনেই খারাপ লাগলো। জিগ্যেস করলাম, কি বলছে?
-কি আর বলবে, তোর প্রতি রাগ ঝারছে!
আমার মাথা গরম হয়ে গেলো, সোজা ছাদে উঠলাম।
খুব বিষন্ন বিকেল। হিমেল বাতাসটা খুব উপভোগ্য। একা একা ভাবতেছি সব কিছুর সারংশটা কি হবে?
একদিকে দিশারী খুব কাছে, ও দিকে বরষার অভিসাপ, আর সপ্নার মনে পড়া! সব কিছু কেমন যেন, শহরটার মতো ঘোলাটে। সপ্নাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, তখন আমার সম্পর্ক করার ইচ্ছে ছিলোনা।
সপ্না আমার জন্য অপেক্ষা করতেছিলো, আমি ওকে আমার পথ থেকে দূরে সরাবার একটা বুদ্ধি এঁটেছি। সাহার্য্য নিলাম বন্ধু সাফিনের। তখনি বরষার সঙ্গে একটা ছোট খাট প্রেমের অভিনয় করে, ওর কাছে খারাপ হতে চাইলাম। খারাপ ঠিকই হয়েছি, খারাপ কথা ওর কাছ থেকে শুনেছি, তখন আবার বরষার আমার প্রতি দুর্বলতা। এরপর সপ্না আবার থেমে থাকলোনা ; আমি বরষাকে সরতে বলেছিলাম, পুরো বিষয় সপ্নার কাছে পরিস্কার হয়ে গেলো। মধ্যখানে আমার বন্ধু সাফিন চিরতরে শত্রু হয়ে গেলো, সপ্নার। এরপর সপ্না নিজের প্রতি অনুশোচনায়, এবং সাফিনের প্রতি ঘৃনায় - কষ্টের সাথে ভালোবেসে গেলো। আমি খুব যন্ত্রনায় পরে গেলাম। শত মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে, নিজেই মিথ্যে হতে লাগলাম। অনেক দূর সরে আসলাম, সপ্নার কাছ থেকে। সে কখনোই আমার সামনে আসেনি , কারন আমার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে, তাতে কারোই সামনে আসা সম্ভব না! বিয়ে হয়ে গেলো। ভাবলাম বেঁচে গেছি। কিন্তু তাতে দেখি, মাঝে মাঝে বন্ধুকে যেসব কথা বলে, তাতে ত বিষন্ন যায় সারাবেলা। আর বুঝিনা এ ভালোবাসা কি খেলা!
বরষা ত, রিয়ার মাধ্যমে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। তার উপর সম্পর্ক নামক নাটক, বন্ধুত্ব অনেক কিছুই জড়িয়ে। বরষা, একটা বিষয় উপলব্ধি করেছিলো, আমি কখনোই তার সঙ্গে মিলবোনা। তাই সহজ পথে ছেড়ে, অনেক কিছু পেতে চাইলো। বিষয়টা বড় কিছু ঝামেলা হতে শুরু করলো। রিয়ার ভাষ্য মতে, আমি ঠিকই পাগল টাইপের। তাই এমন সময় কিছু বলা, এমন ভাবে সরিয়ে দেওয়া, এমন কিছু করা - বলতে না বলতে দূরত্ব হলো, জোড় করে। তাতে কি? ওর মুখে অভিসাপ আর রিয়ার মাধ্যমে, আমায় পেইন দেওযা এটাই ওর কাজ। না জানি ওর বুকে দহন জ্বলে কেন, কিংবা স্বার্থ আছে কিনা জানা হয়না!!
তবু এই ছাদে একা একা বসে থাকায়, অনেক প্রশ্ন, অনেক ব্যাথা এসে জমে! মাঝে মাঝে মনে হয় যেন, আমি পাগল হয়ে গেছি!

৫.
নিজের প্রতি নিজের খুব খারাপ লাগছে। দিশারীকে একটু ডাকলাম। দিশারী বুঝতে পারলোনা আমি কি বলবো। হয়তোবা আমার দিকে চেয়ে বুঝেছিলো, আমি সিরিয়াস কিছু বলতেছি।
-দিশারী, আমার জন্য একটা দিশা রেখে দিও! আমি জীবনের দিশা হারিয়ে ফেলেছি। এখন তুমি যে আমায় ভালোবাসতেছো, একটা সপ্নে ভাসছো! এটি একটা মিথ্যে। আমি উদ্দেশ্যহীন নিঃশেষ হয়ে যাবো, কারো দুঃখে, কারো অভিসাপে। এমনকি এই ভালোবাসার জীবন মৃত খেলায়। তুমি সরে যাও...! আমার থেকে অনেক দূরত্বে।
প্রতি উত্তরে একটা হাসি দিয়ে দিশারী বললো,
-আমি দিশারী! তোমায় একটা দিশা দিবো! কখনো বলিনি, ভালোবাসি। তুমি আজকে বলে দিলো, আমার হয়ে । তাই খুব কাছে রয়ে যাবে, নিঃশ্বাসে। কখনোই দূরত্ব হবোনা। আর তুমি অবাক হবে, তোমার অজস্র সপ্নের ভিড়ে! আর এটাই তোমার জন্য, আজ থেকে বেঁচে থাকা!
এমন উত্তরে, আমার মাথায় অতিরিক্ত পেইন, উঠলো। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম! এরপর ছাদে চলে গেলাম।
একটা বিষয় ভেবে পেলাম, যেখানে সমাধান দিতে চাই,সেখান আরো ঘিরে যাই। আরো ঘোলাটে হয়ে যায় সবকিছু। ভাবলাম, দিশারী কি সত্যিই আমায় আগে ভালোবাসতোনা, আজকে আমি বলেছি, তা থেকেই শুরু?
না, তা কি করে হয়! ওর দুর্বলতা ত, আমার চেয়েও বেশি!
রাতে ঘুমাবার সময়, একটা বিষয় আবিস্কার করলাম , আমি সবসময় আমার প্রতি কারো দুর্বলতাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। আমি নিজের দুর্বলতাকে ভাবিনা। ঠিক যেমন দিশারীর সঙ্গে অমিমাংসিত সম্পর্ক, এবং সপ্নার বেলায় যা হয়েছিলো। এ কথা আমায় সাফিন ও বলেছিলো, সপ্নার প্রতি আমার একটা দুর্বলতা ছিলো। যার জন্য সপ্না আমায় ঘিরে থেকেছে। আমি ভাবিনা এটা কেমন টান! তবে মনে হয়, প্রত্যেক কুমারেরি একটা মেয়ের প্রতি এ দুর্বলতা আছে!

৬.
দিশারীর কাছ থেকে যতই দূরে সরে যাই, সে আরো কাছে আসে।

আমাদের একটা কাজিন সিডনিতে থাকে। রিতা আপুর বিয়েতে দেশে আসছিলো। কিছু দিন থেকে যাচ্ছে। আমি ভাবছি তার সঙ্গে আমি বিদেশ চলে যাবো কিনা। তাহলে এই যন্ত্রনা গুলো থেকে মুক্তি পেতাম!
হঠাৎ সাফিন ফোন দিলো। সে জানালো, সপ্না সঙ্গে নাকি তার হাজবেন্ড এর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছেনা। আমি জিগ্যেস করলাম,
- তোকে সপ্না বলেছে?
- হ্যা।
- আর কি কি বলেছে?
- কি আর বলবে, তোকে নিয়ে অজস্র আবেগ ব্যাক্ত করলো! এখনো নিজের ভুল ভেবে নিজেকে কষ্ট দেয়।
- ওর ত কোনো ভুল ছিলোনা! তবে এখন তো যা হওয়ার গেছে, এই নিয়ে এতো পাগলামি করার কি আছে!
- তাই তো বুঝিনা (হতাশার সাথে, বললো)
-শোন, আমি কাজিনের সাথে সিডনি চলে যেতে পারি।
-হঠাৎ!!
- চারিদিকে এতো পেইন ঘিরে রাখে, তাই ভাবছি আড়াল হয়ে যাবো।
-তোর, যা খুশি।
এরপর ফোনটা রাখলো।
পরদিন সবার সঙ্গে আলোচনা করলাম, যাবার বিষয়ে। দিশারী আমাদের বাড়িতেই ছিলো। এ কথা শুনে রিতা আপুর, রাগে মুখটা কালো হয়ে গেলো! দিশারী কোনো অনুভূতি দেখলামনা।
একটুপর দিশারীর সঙ্গেতে কথা। আমি ভাবছিলাম দিশারী এই যাওয়া সম্পর্কে জিগ্যেস করবে? কেন যাচ্ছি? এরুপ। কিন্তু দিশারী আমায় জিগ্যেস করলো,
- তুমি কখনো অনেক মানুষের সঙ্গে, একসাথে আনন্দে মেতেছো?
আমি অবাক হলাম এমন প্রশ্নে? বললাম,
-অনেক মানুষের সঙ্গে আমার থাকা একটু কম হয়। আর সবাইকে ফাকি দিতে পছন্দ করি। তবু বেশির ভাগে আনন্দের সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে গিয়েছে। বলতে গেলে, এই বন্ধু দু য়েকজন আর পরিবারের সদস্যরা, আর বাদ বাকি সময় নিঃসঙ্গ একা একা ভাবনায়।
-একা থাকলে মানুষকে নিয়ে ভাবা যায় , কিন্তু নিজেকে বোঝা যায় না! (একটু হেসে)
আমি বুঝতে পারলামনা, সে কি বলতে চাচ্ছে। একটা অদ্ভুত উত্তর দিলাম,
-হয়তোবা।
-মানুষ নিজেকে ভুলে যেতে পারে খুব সহজে?
-কেন?
-নিজেকে আড়াল করেই ভাবে, আমি দূর হয়েছি!
-সেটাইতো সত্য
-হুম, তাতো নিজের কাছে!
-আমি ত চলে যাবো, এ নিয়ে তোমার কি মন্তব্য!
-(একটু হেসে) মন্তব্যহীন!
-অদ্ভুত!
-সব কিছুই।
-তুমি একটু ভিন্যরকম!
-অনেক কে দেখা হয়েছে, তাই না!

(ফেসে গেলাম) একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে,
-না তেমন!
-তাহলে বুঝলে কি করে, (একটু হেসে)
-কেন তা ছাড়া কি বুঝা যায়না!
-জানিনা!
-তোমার কথা গুলো খুব, জ্ঞানী!
-কথা, আবার জ্ঞানের ও হয়!(হেসে)
আমি একটু অন্য কিছু বললাম,
-আচ্ছা, আমি যে চলে যাবো, তাতে তোমার কেমন লাগবে? (বোকার মতো জিগ্যেস করলাম)
কোনো উত্তর নেই। সে যাইহোক, আমি আবার জিগ্যেস করলাম,
-তুমি কখনো, কারো সঙ্গে সম্পর্ক করেছো?
-হুম!
-কয়জনের সাথে!
-অনেকের সাথে!
-তো, আমি কতো নম্বার?
-শেষ নম্বার!
- interesting! , আসলে প্রথম কে ছিলো!?
-বলবোনা!
আমি একটু হাসলাম।
সে জিগ্যেস করলো,
-কবে যাচ্ছেন?
-এইতো দেখি!
আমি আবার জিগ্যেস করলাম,
-এরপর ২য় সম্পর্কটি?
-বলবোনা?
-আচ্ছা, আমি কতো নম্বারে?
-১০০!!
আমি খুব হেসে,
-মজা নিচ্ছো, তাই না!
-জি, না!
-তাহলে, তুমি কি আমায় ভালোবাসো?
-হয়তোবা!
হঠাৎ রিয়া এখানে আসলো। শুরু করলো, আমার সঙ্গে ঝগড়া। দিশারী ব্যাপারটা উপভোগ করেছিলো!
পরদিন, খুব সকালে কাজিনের সঙ্গে কথা বলছি, যাওয়া নিয়ে। ঐ পাশে দিশারী ছিলো আন্টির সঙ্গে। আমরা কি বলছি, তা শুনতে ছিলো। দিন ঠিক হয়ে গেলো, আমরা ৩ দিন পর যাচ্ছি।

৭.
একা ছাদে বসে। রিয়া চলে আসলো। আমি আগে প্রায়শই রিয়ার সঙ্গে অনেক কথা আলোচনা করতাম। সেই ধারাবাহিকতায় আজকেও, যাওয়া বিষয় নিয়ে কিছু বলছিলাম। রিয়ার সঙ্গে আমার কথা হলো, প্রত্যেকটা সম্পর্ক নিয়ে। বেশি হয়েছিলো বরষার ব্যাপার নিয়ে। এক পর্যায়ে কথার কাটাকাটি নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলো। রাগ হয়ে দুজন চলে গেলাম।
এরপর মাত্র দু দিন আছে, আমার সিডনি যাওয়ার। সবকিছু রেডি করে রেখেছি।
রিতা আপুর সঙ্গে কথা, দিশারীকে নিয়ে। দিশারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে। যেখানে দিশারী আমাকে ভালোবাসে, এবং আমিও যে একদম ভালোবাসিনা তা নয়! আপু আমার কিছু সিরিয়াস কথা বললো। আমি কোনো মূল্য দিলাম না।
পরদিন, সকালে আন্টি আমায় ডাকলো । আমি ভাবলাম, হঠাৎ করে কি আর বলবে। এমনিতে আমি সিডনিতে যাবো, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তাই বাড়ি আসার আমার ইচ্ছা নেই। যেই ভয়, সেই কথাই বলতেছে! দিশারীকে নিয়ে। আমি খুব জোরে স্বরে বিদ্রুপ করে চলে গেলাম। বিষয়টা অনেকেই খেয়াল করলো, তবে দিশারীকে দেখিনি।
এরপর সবার সামনে আমায় ডাকলো রিতা আপু। আমি বুঝেছি, কি বলবে। কিন্তু রিতা আপু আমায় জিগ্যেস করলো, আমি কেন যাচ্ছি? এবং কি সে কারন, যার কারনে হঠাৎ করে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য চলে যাচ্ছি। যে আমি দূরে বেড়াতে, বেশি যেতামনা - সে হঠাৎ করে বিদেশ চলে যাচ্ছি! দিশারী দিকে আমি একবার তাকিয়ে, বললাম সবার সামনে একটা মিথ্যে,
-আমিতো বেড়াতে যাচ্ছি!
রিয়া জোরেস্বরে বলে উঠলো,
-না, তাইতো যাচ্ছো - ওখানকার মেয়েরা কেমন? তাদের সঙ্গে সম্পর্ক করলে কেমন হবে! তা দেখতে?
ওদিকে অনেক কিছুই বলে দিলো, রিতার আপুর কাছে । সপ্না, বরষা এবং দিশারীর কথাও!
ওর সঙ্গে তাল মিলিয়ে রিতা আপু বললো,
-মেয়েদের মন নিয়ে খেলতে খুব পছন্দ করো তাইনা?
রিয়া: বরষা এখনো কাঁদে। সপ্নার সব সপ্নই মিথ্যে করে দিলে। এখন দিশারীকে দিশাহীন করার বৈ, বাকি আর ত কিছু নয়!
সবার কথায় অতিরিক্ত রাগে, আমি একটু পাথর হয়ে গেলাম। দিশারী কিছু বলতে চাচ্ছিলো, কিন্তু ওদের সামনে সাহস পাইনি। রিয়ার একের পর এক বদনাম বলতেই আছে। আমি সোফায় বসে, দুহাত দিয়ে মাথায় - ভাবতে লাগলাম,সত্যি ওদের ক্ষোভ এতোটা তাহলে - তাহলে সপ্না, বরষা, দিশারীর! আমি দিশারীর দিকে একবার তাকালাম, ওর চোখে না পড়া কিছু অবুঝ অশ্রু আমি বুঝতে পেরেছি। হয়তোবা ও জানে , আমি এতোটা খারাপ নই। আর আমার ঐ সময়টা এলেমেলো। হয়তোবা ও আমায় পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে ভাবেনা। কিন্তু ও ভাবে আমি আজ সবার চোখে কতোটা ঘৃনিত হয়ে থাকছি। হয়তোবা কেউ কেউ এতোদিন আড়াল রেখেছে। হয়তোবা কেউ আমায় ছোটর মতো প্রশ্রয় দিয়েছে। অথচ আমার বয়স ২১ বছর! অনেক মানুষিক ব্যাপার ব্যাপার আমি একসাথে মাথায় নিচ্ছি। অবশেষে আমার মা বাবার উদ্যোগ দেখলাম। কেমন যেন এক ফোটা জল, চোখ বেয়ে পড়ে গেলো। দিশারী তা দেখে ফেলে, চলে গেলো তার রুমে। সে হয়তো বুঝেছি, একটা ছেলে কখনো অনেক কষ্ট না পেলে, চোখ থেকে জল পড়েনা। না জানি ওর অনুভব টা কেমন ছিলো।
পরদিন যাওয়ার কথা। আমি যাইনি । কাজিন চলে গেলো। রিতা আপু, দিশারী সবাই চলে গেলো। মোবাইলটার সিম বদলি করে ফেললাম। আমি বাড়ি থেকে চলে গেলাম, কাউকে না বলে। চলে আসলাম সাফিনের কাছে। ওকে এসব বললাম না,কি হয়েছে। খুবি খারাপ অনুভুতি ছিলো। দিশারীর কথা ভাবতে ছিলাম। ওর সঙ্গে কথা বলা ছিলো জরুরী। নতুন নাম্বার দিয়ে ওকে ফোন দিলাম। ফোন রিসিভ করেই জিগ্যেস করলো,
-কেমন আছেন!
-কেমন থাকতে পারি!
-দেখা করা হবে!
-খুব দরকার ছিলো।
-কোথায়...?
এরপর দিশারীর সঙ্গে দেখা করলাম। ওর চোখে দিকে তাকিয়ে একটা ভালোবাসা দেখলাম. ...
যাতে ইচ্ছে করেছিলো, ওকে জড়িয়ে ধরি! এরপর ও অনেক কিছু জিগ্যেস করলো, সপ্ন, বরষা সম্পর্কে। আমি খুব আবেগী সুরে,সব কিছু ওকে খুলে বলেছি। ও সব শুনে আমাকে বললো, যা হবার তা হয়ে যাবে।
আমি আমার নতুন অনুভূতি গুলো নিয়ে ভাবতেছিলাম। আমি তো এমন ছিলাম না! এইতো সেদিনের চিন্তা ভাবনা, আর আজকে আমি কতোটা পার্থক্য। আমি দিশারীকে একটা কথা বলেছি,
-জীবনে হয়তো কারো প্রতি বেশি, মায়ায় পড়িনি। কিন্তু আজকে অনুভব করেছি জ্বলে পুড়ে!
দিশারী বললো,
-জীবনে প্রথম যাকে ভালোবেসেছি, তাকে আজ পুরোপুরি পেয়ে গেছি!
আমি অবাক হলাম। সেদিন যে বলেছিলে, তোমার প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা। আর আজকে উত্তর দিয়ে দিলে, অপ্রত্যাশিত! কখনো বুঝিনি ভালোবাসার অনুভুতি কেমন, আর আজকে নিজের মাঝে মিশিয়ে দিলে ।
এইতো কাছাকাছি, আমার কাধে মাথা দিয়ে বসে আছে দিশারী। ভাবলাম বাসায় জানোনা যাবেনা যে, আমি দিশারীকে সত্যি ভালোবেসেছি, এবং তাকে জীবনসঙ্গী হিসাবে বেছে নিবো। দুজনে আবার একটা মজার বুদ্ধি আটলাম। এরপর আমি চলে গেলাম, সাফিনের কাছে।
দিশারীকে বাসায়, রিতা আপু জিগ্যেস করেছিলো, আমার কথা। ও মিথ্যে বলেছে!
তবে ব্যাপারটা অনেকেই ধরে নিয়েছিলো, কেন আমি যাইনি। আর এতোই বা অভিমান কিসের সবার উপর। তার উপর রিয়া ত আসার সঙ্গে কখনোই কথা বলতে পারবেনা।
কিন্তু আমার খোজ নিতে, রিয়াকে পাঠালো। আর রিয়াও এতো বুদ্ধিমান, দিশারীর মাধ্যমে সব কিছুর সমাধান দিয়ে গেলো!

৮.

১ বছর পর। রিয়ার বিয়ের আয়োজন। ভাই হিসাবে আমার উপর কাজের চাপ বেশিই পড়েছে। ফাকিবাজি অভ্যেসটা আর ছাড়তে পারিনি। সবাইকে ফাকি দিয়ে, এক প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে খুব আরামচে খাওয়ার চিন্তা করেছি! কিন্তু তাতে আবার আরেকজন ভাগ বসালো।
চারিদিক আমাদের না দেখে, রিয়া বুঝতে পারলো - কোথাও পালিয়ে আছে।
দুজনে মজা করে করে খাচ্ছি। হঠাৎ সমানে রিয়া এসে দুজনার কান ধরে নিয়ে গেলো। এবারো সেই পুরনো দোষ, আমি আর দিশারী নাকি সবাইকে ফাকি দিয়ে মিষ্টি খাচ্ছি! আমি রিতা আপু, দুলাভাই, আন্টিকে বুঝাতে চেষ্টা করলাম যে, আমরা ফাকি দিয়ে মিষ্টি খাইনি। কারন একা খেলেই তো ফাঁকি দেওয়া হতো!!, তাইনা? ?
বিষয়শ্রেণী: গল্প
ব্লগটি ৫৩৮ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৭/০১/২০১৫

মন্তব্য যোগ করুন

এই লেখার উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

 
Quantcast