গ্যালন গ্যালন মদ গিলে ছেলেটা । আরো নানা রকম নেশা তার ।ওর শরীরটাই মনে হয় একটা মদের পিপে হয়ে গেছে ।আজকের মাত্রাটা মনে হয় আরো বেশী হয়ে গেছে ।চোখে এখন সর্ষে ফুল ছাড়া কিছু যেন নেই আর ।

আচ্ছা এখন কি দিন না রাত ? মাথাটা নেড়ে চেড়ে চোখদুটোকে জোর করে মেলতে চাইল সে । কিন্তু না-হ কিছু দেখছে না ।
দুলে দুলে পড়ে গেল সে ।গা'টা ভেজা ভেজা লাগছে ।রাস্তা নাকি ড্রেন নাকি বৃষ্টি ভাজা শহরের রাস্তা কি জানি !
মা আর ছোট ভাইয়ের ব্যাথিত মুখটা মনে পড়ছে খুব আজ ।একসময় এসব ভেবে মন খারাপ হতো । আজকাল আর হয় না ।

মোটা থলথলে শরীরের লোকটা রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ২৫ বছরের যুবকটির দিকে দেখলেন ।ছেলেটার সেন্স আছে নাকি নেই তিনি একটু নেড়েচেড়ে দেখলেন ।এই রাস্তাটা নির্জন - ধূর কে ঝামেলা করে ! তিনি সরে আসলেন ।

ছিপছিপে সুন্দরী মেয়েটাও ছেলেটাকে দেখলো । সে আরো ভীতু ।সেও দূরে থেকে দেখে আরো দ্রুত হেঁটে জায়গাটা পার হল ।
আজকে মারুফের সাথে দেখা হবার কথা ।মারুফকে কি কি বলবে এটা সে ভাবতে লাগলো আনমনে !

অনেকগুলো কাক এখন ছেলেটার পাশে ।কাকেরা কি মৃত্যুগন্ধ পেলে ছুটে আসে ?
পিঁপড়েরাও দল বেঁধে সারি সারি এগিয়ে আসছে ছেলেটার কাছে অনেকটা মিলিটারি কায়দায় ।

একজন মায়ের বুক খাঁ খাঁ করছে ।জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে শরীর মন - না বসে শান্তি না শুয়ে শান্তি , মুখে রুচছে না কিছু ।আজ যে কেন সব মাটি মাটি লাগছে ! বড় ছেলেটাকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারেন নি ।বিত্ত , বৈভবের অভাব নেই ।তবু ছেলেটা যে কেন এতো হতাশ থাকে !কেন যে সর্বনাশা নেশা তার !

একঝাঁক কাকের কা কা বলে কর্কশ ডাকে তাঁর বুকটা ছ্যাঁত করে উঠে ।হিম হয়ে আসে তাঁর শরীর ।
আহহ কেনযে এই কাকগুলো এভাবে ডাকে !!