সাম্প্রতিক সময়ে টেলিভিশন এবং জাতীয় পত্রিকাগুলোতে 'বিক্রয়.কম'-এর একটি বিজ্ঞাপন নিয়মিতই প্রচারিত হচ্ছে; যার কথাগুলো অনেকটা এমন- 'বেকার বসে ডিম পাড়ছিস; ডিম না পেড়ে ক্লিক কর, আর হাজারো চাকির ভিড় থেকে খুজে নিন পছন্দের চাকারি।' আমার আপত্তি এই কথাগুলোতেই। আসলে তারা 'বেকার বসে ডিম পাড়ছিস' কথাটি ধারা কি বুঝাতে চেয়েছে? আর চাকরি কি এতই সস্তা হয়ে গেছে যে ক্লিক করলেই পছন্দের চাকরিটি হয়ে যায় বা পাওয়া যায়? হাজারে নয়, লাখে এমন একটা ছেলে বা মেয়েকে দেখান যে গ্রেজুয়েশন শেষ করে কোন চেষ্টা ছাড়াই ইচ্ছাকৃত ভাবে বেকার বসে থাকে। বাংলাদেশের অর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে যে ছেলে বা মেয়েটা সদ্য গ্রেজুয়েশন শেষ করে বেকার উপাধিটা পেয়েছে সে কি পরিমান মানুষিক, পারিবারিক এবং সমাজিক চাপে থেকে তা ঐ ছেলেটি বা মেয়টি ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারে বলে মনে হয়না বা বুঝার কথাও না। আর বুঝলেও হয়তো সে ব্যাক্তটি বুঝে যার সদ্য বেকারত্বের অধ্যায়টি শেষ হয়ছে অথবা খুব নিকট অতীতেই ঐ পরিস্থিতিটি অতিক্রম করেছে। বেকার উপাধি ঘুচাতে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ছেলে বা মেয়েটির নীরব অশ্রুবিন্দুগুলো লোকচক্ষুর আড়ালে নিরবেই ঝরে। এজন্য তা কেউ দেখেনা এবং বেশির ভাগ সময় তা অতি আপনজনদের নজরেও আসে না। এভাবে সংগ্রাম চালাতে চালাতে হতশায় ডুবে এক সময় জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে এমন উদহারণ নিকট অতীতেই অনেক আছে। এমন একটি সার্বিক প্রেক্ষাপটে যেখানে দেশে বেকারত্বের হার চরম পর্যয়ে সেখানে এরপরও এমন একটি বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্দেশ্য কি? 'বেকার বসে ডিম পাড়ছিস' এমন কথা দিয়েও বা কি বুঝাতে চাইছে তারা? জাতীয় ভাবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেকারদের নিয়ে বিদ্রুপটা করার প্রয়োজনটাইবা কি? নাকি তারা চাইছে বেকারদের নিয়ে যে কেউ ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা উপহাস করতে পারে অথবা যে কেউ মাজা নিতে পারে এই মেসেজটি ঘরে-ঘরে পৌছে দিতে!? আর এর সাথে-সাথে বেকারত্বের অভিশাপে হতাশায় ডুবে থাকা ছেলে-মেয়েগুলোর জীবনযাপনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলতে???
জানিনা কি সেন্স থেকে এরা এমন একটি বিজ্ঞাপন তৈরি ও প্রচার করছে? অথবা এদের বোধদয় কবে হবে? বা বোধ বলে সত্যিই কিছু আছে কিনা!!?
মন্তব্য (5)