ইট-কাঠের নগরীতে নান্দনিক সৌন্দর্য ও প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা বলতে এখন হাতিরঝিলকেই বোঝেন ঢাকাবাসী। এই হাতিরঝিলের আদলেই এবার রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের ওপর আটটি সেতু নির্মাণ হচ্ছে। নগরবাসীর বিনোদনের জায়গাটা আরও বড় হচ্ছে বটে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, বাড্ডা, শাহজাদপুর ও নিকেতন এলাকায় আটটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১০০ ফুট। রুট আটটি হলো, মহাখালী থেকে গুলশান-১, মহাখালী থেকে টি অ্যান্ড টি কলোনি, কাকলী থেকে গুলশান-২, কাকলী থেকে গুলশান-২ নম্বর, গুলশান-২ থেকে বারিধারা, গুলশান-২ থেকে বাড্ডা, গুলশান থেকে শাহজাদপুর ও গুলশান থেকে কাঁলাচাদপুর। এ প্রকল্পের আওতায় হাতিরঝিলের সঙ্গে পুরো গুলশান-বারিধারার একটি যোগাযোগ বা লিংক তৈরি হবে। ফলে ওয়াটার ট্যাক্সি হাতিরঝিল থেকে শুরু করে গুলশান ও বারিধারা পর্যন্ত চলতে পারবে। এতে কারওয়ান বাজার-মগবাজার-সাতরাস্তা-রামপুরা এলাকা থেকে নগরবাসী জলপথে হাতিরঝিল হয়ে বনানী-বারিধারা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবেন। এ প্রকল্পের আওতায় যেমন নান্দনিক সেতু তৈরি হবে, তেমনি জলাশয়ের পানির গুণগত মান বাড়াতে সোলার অ্যাকুয়েটিকস ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এর পাশাপাশি জলাশয়ের পাশের পার্ক ও খেলার মাঠও উন্নয়ন করা হবে। সেতুগুলো এমনভাবে নির্মিত হবে যাতে পুরো হাতিরঝিল, গুলশান ও বারিধারার মধ্যে একটি যোগাযোগ তৈরি হয়। প্রকল্প এলাকায় মানুষের হাঁটা-চলার ২৪ হাজার ৬২২ দশমিক ১৬ মিটার রানিং মিটার ওয়াকওয়ে এবং ১১ হাজার ৬৪ মিটার ড্রাইভওয়ে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া দেড় হাজার রানিং মিটার তীর সংরক্ষণ, ৬৯ হাজার ৬১ বর্গমিটার টার্ফিং ও ২ হাজার ৪৮০ মিটার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণ করা হবে। রোপণ করা হবে ৩ হাজার বৃক্ষ। বলা বাহুল্য যে, যোগাযোগ সহজ করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও নৈসর্গিক পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে ঢাকা শহরের চারিদিকে সৌন্দর্যবর্ধন করা এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।