সরকার অকুতভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। দেশের অন্যান্য জেলার মতো সিলেটের ৬২ জন মুক্তিযোদ্ধা পেয়েছেন সরকারি উপহার হিসেবে নির্মাণ করা রাষ্ট্রীয় বাড়ি। ‘বীর নিবাস’ শিরোনামের রাষ্ট্রের নির্মিত বাড়ীগুলোর নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে। প্রতিটি বাড়িকে লাল সবুজ রঙে রাঙানো হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে জাতীয় পতাকা। লাল সবুজের পতাকার জন্য একাত্তরের রণাঙ্গণে জীবন বাজি ধরেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। পাক হানাদার বাহিনীর বুলেট আর কামানকে তুচ্ছ করে লড়েছেন তারা। রণাঙ্গণে লড়ে যাওয়া সেইসব বীর সেনানীদের অনেকেই আজ মানবেতর দিনযাপন করছেন। জীবনের শেষ অংশে এসে এখনও অনেকে খুঁজে পাননি ভবিষ্যত জীবনের দিশা। তাদের মধ্যে থেকে অস্বচ্ছল ও ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালে শুরু হয় ‘বীর নিবাস’ প্রকল্প। প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে আগামী বছরের জুন মাসে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে নির্মিত এসব বাসস্থানে রয়েছে- দুটি শয়ন কক্ষ, একটি বসার কক্ষ, একটি রান্না ঘর এবং একটি বারান্দা। সব মিলিয়ে ফ্লোর এরিয়ার আয়তন ৫০০ বর্গফুট। এছাড়া, বাসস্থানের বাইরের দিকে রান্না ঘর সংলগ্ন একটি পাকা উঠান, টিউবওয়েল, টয়লেট, লাইভস্টক-শেড এবং পোল্ট্রি শেডেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি নিবাসের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ৯ লাখ ২৫ হাজার ৫৬ টাকা। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০১৭ সালের জুন মাসে। এটা ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার। আর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতিটি বাসগৃহের নাম রাখা হয়েছে ‘বীর নিবাস’।