বিশ্বময় উগ্রতার বিষবৃক্ষ
বিশ্বময় উগ্রতার ভাব তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে দেখা দিয়েছে এই সমষ্যা। আমরা যদি এটাকে ছোট করে দেখি তাহলে ভুল করা হবে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে কিন্তু গুটিকয়েক লোক ছাড়া সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দিন যাচ্ছে আর আমরা সেই স্বাধীনতার চিন্তা-চেতনা থেকে সরে আসছি। একটা সমাজের সভ্যতার মাপকাঠি নিরূপণ করা হয় সেখানকার আইনের শাসনের মাধ্যমে। জাতি-ধর্মের পাশাপাশি মানবতা একটা দেশের জন্য বড় জিনিস। দেশে একটা উগ্রতার ভাব দেখা যাচ্ছে। এটা কিভাবে অতিক্রম করা যায় সেটা চিন্তা করতে হবে। তবে শুধু এ দেশে নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটা রয়েছে। এটা কিন্তু শুধু বাংলাদেশে না। আমরা আজকে দেখি পাকিস্তানে। সেখানে কিন্তু ধর্মান্ধতা উগ্রবাদ আমাদের থেকে বেশি। আফগানিস্তানে যে সব এলাকা তালেবানদের দখলে আছে সেখানে তারা সমাজ সংস্কৃতি ধ্বংস করে। ইরাকে, সিরিয়াতে একই অবস্থা পাচ্ছি। ইসরাইলেও একই অবস্থা । এটা প্রায় সারা পৃথিবীব্যাপী। এ উগ্রতা পৃথিবীর এক প্রান্তে হলে এটা ক্রমে অন্য অঞ্চলে সংক্রমিত হয়। তাই আমাদের সজাগ থাকতে হবে এটা প্রতিহত করার জন্য। সংবিধানে মৌলিক অনুচ্ছেদ সবারই অধিকার সংরক্ষণ করা আছে। কিন্তু যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষ করে যারা অনুন্নত। কম শিক্ষিত তাদেরও স্বার্থ রক্ষিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, যতই দিন যাচ্ছে আমরা আমাদের স্বাধীনতার চিন্তা-চেতনা থেকে সরে আসছি। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কথাই নয়। এটা তো ধর্মের বিষয়। কিন্তু এ কয়েকটা সাঁওতাল পরিবার, এটা তো কেন ধর্মের বিষয় ছিল না। কেন আজকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হলো। আজকে যে অশান্তির বীজ বপন করছি, তা এখনই যদি দূর না করি, তাহলে এটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এটা প্রকট আকার ধারণ করবে। যারা সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করছে তাদের প্রতিহত করতে হবে। এখনই সময় এগিয়ে যাওয়ার। পিছন ফিরে তাকালে চলবে না। আসুন আমরা সবাই একত্বতা ঘোষণা করে সামনে এগিয়ে যাই।
Comments (6)