হায় স্বাধীনতা !
নাই তোমার কোন সঠিক বারতা,
আমার দেশের কোন ইতিহাসের পাতায়-
কবে তুমি, কিভাবে উচ্চারিত হয়ে ছিলে,
কার সে কন্ঠ গলাইয়া উচ্চ নিনাদে।
খুঁজে ফিরি তারে, তোমার ঘোষকেরে,
তা, শুধু কেবলই আমাদের ইচ্ছার মত করে।
যখন যার হাতে থাকে ক্ষমতার চাবিখানি,
তখন শুধু তারই ইচ্ছার প্রতিধ্বনি শুধু শুনি,
আমাদের ইতিহাসের পরতে-পরতে,
পাতায়-পাতায়।
কে রচিবে আমার দেশের ইতিহাসেরে?
কাহার আছে এতবড় দুঃসাহস,
সাধ্য নাহি কাহারও ইতিহাস রচিবার,
ক্ষমতাসীনের আপন ইচ্ছার বাহিরে।
কথা তাহার একটিই মুক্তির ইতিহাস,
সে তো হবে কেবল তাহারই ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।
যেমন চাহিবেন তিনি, তেমন রচিত হইবে,
এটাই এদেশের ইতিহাসের ভাগ্যের লিখন।
তাইতো আমাদের ইতিহাস, যাহা আছে
নাই তাহাতে কোন সত্যি ইতিহাস।
পন্ডিত আর ঐতিহাসিক সব ফেলিয়া নিঃশ্বাস,
লিখে চলেছে সব ফরমায়েশি ইতিহাস।
আগে যাহা লিখা ছিল, এবারে তাহার নাই কিছু,
ভবিষ্যতে আবার যা লিখা হইবে, তাহাতে-
এবারের আর থাকিবে না কিছু।
শুধু কর্তার ইচ্ছা পূরন হচ্ছে আমাদের ইতিহাসে,
যা ঘটে নাই কভু, কখনও কোথাও এ দেশে,
তাই ছাপার অক্ষরে লিখা রবে আমাদের ইতিহাসে।
আর যা ঘটছে হেথায় এই সোনার বাংলাদেশে-
তা লিখা যাবে না এদেশের ইতিহাসে, অনায়াসে,
যদিও আমরা জানি, তাহাই সত্য সবাংশে।
কিছু দুর্বল-চিত্ত হীনমন্যতায় আক্রান্ত,
বিকৃত মস্তিস্ক পরজাতির পদলেহী পন্ডিত-
নাজুক হস্তে উম্মুক্ত কম লয়ে সদা ব্যস্ত,
আমার দেশের ঘটমান সত্যকে চাপা দিয়ে
অলীক কল্পনা প্রসূত ইতিহাস লিখবার তরে।
কিন্তু জানেনা তারা, ইতিহাস নিজেই রচে তার কাহিনী,
নিজ অন্তরে লয়ে তা, বেচে থাকে আপনি।
মন্তব্য (8)