রনি দরিদ্র পরিবারের ছেলে, তাই পড়া-
লেখা করার সুঝোগ হয়নি। দরিদ্র মা-
বাবা ঠিকমত খাবার যোগার করতে
পারতনা তাই
সে গ্রাম থেকে শহরে যায় একটা কাজের
সন্ধানে, আর সে একটা রেস্টুরেন্টে কাজ
পেয়ে যায়। ভালভাবে দিন যাচ্ছিল
রনির, কিন্তু গরীবদের আবার কিসের
ভাল,
গরীবদের জন্ম হয়েছে মানুসের নির্যাতন
সহ্য করার জন্য।
ঈদের মাত্র ৫দিন বাকি তাই রনি গ্রামে
যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল, আর যে
টাকা গুলো ছিল তা দিয়ে মা- বাবার
জন্য কেনা-কাটা করার সিদ্ধান্ত নিল।
রেস্টুরেন্ট এর মালিক থেকে ছুটি নিয়ে
সে মার্কেট যাওয়ার জন্য সিটি বাসে
উঠল, কিন্তু তার জামা-কাপর বাসের
অন্য ১০জন যাত্রীর মত ছিলনা, বাসে খুব
বেশি যাত্রী ছিল তাই ভীরের মাঝে
দারাতে হল রনিকে, বাস চলতে থাকে
মার্কেটের দিকে আর মাঝে মাঝে
যাত্রী উঠা-নামা করে, কিছু যাত্রী
নামবে তাই বাস থামল আর যাত্রীগুলো
নামার সময় অন্য যাত্রীদের একটু
সরেদারাতে হয়েছিল আর রনি সরে
দারাতে গিয়ে তার ডান হাতটা একজন
দামি জামা-কাপর পরা ছেলের পেন্ট-এ
লাগে, আর সে ছেলেটি সাথে সাথে তুই
আমার পকেটে হাত দিলি কেন চোর এই
বলে মারতে লাগল রনিকে, রনি বলল
আমি চোর না, আমি কি করলাম কিন্তু
শুনলনা সে তবুও মারতে লাগল বাসে
দারিয়ে থাকা অন্য যাত্রীরা আর থেমে
থাকতে পারলনা তারাও রনিকে মারতে
শুরু করল, রনি বার বার জানতে ছেয়েছিল
কি করেছি আমি কেন সবাই আমাই
মারছেন? আমি চোর নয়, কিন্তু কে শুনে
ওর কথা সবাই ওই দামি কাপর পরা
ছেলেটার কথা শুনল। বাসে এতজন যাত্রী
ছিল কেউ বলেনি ওকে ছেরে দাও, সবার
মুখে একটি কথা ছিল আরো মার, আর
মারতে মারতে ছেলেটাকে বাস থেকে
মাটিতে ফেলে দেয় আর সেখানেও
মারতে থাকে, ছেলেটির আহাজারির
চিক্কার শুনেছিল সবাই, কিন্তু সবার মন
ছিল পাথর, কেউ সত্য জানতে ছাইনি আর
ছেলেটা সেখানে মারা যায়...। আর
ওইখানে শেষ হয়ে যায় একটা নিরীহ
জীবন।
আজ প্রতিনিয়ত এইভাবে অনেক অসহায়
মানুষকে জীবন হারাতে হচ্ছে, দামি
কাপর পরা মানুসের হাতে...।
আর আমরা খুব গর্ব করি কোথাও কাউকে
গনপিটুনি দিয়ে মারতে পারলে, আসলে
এইটা গর্ব নয় এইটা লজ্জা। যাকে
মারছেন সেও একজন মানুষ, আর সে আসলে
কি অপরাধী সেটাতো জানতে পারলেন
না, কেউ একজন একটা লাথি দিয়ে বলল
চোর আর সবাই মারতে মারতে মেরে
ফেল্লেন। হায়রে মানবতা, হায়রে
মানুষ।
সবার প্রতি আমার অনুরোধ কাউকে
মারতে ফেরে গর্ব না করে কাউকে মৃতূর
হাত থেকে রক্ষা করে গর্ব করতে
শিখুন....।
মন্তব্য (15)