১২:২৬
পাশের রুম থেকে আলো আসছে।
কে যেন টুকটাক শব্দ করছে। জানালায়
উকি দেওয়া রাস্তার লেম্পপোস্ট
গুলোও আলো দিচ্ছে।
এত্তো আলো কেন?এডিসনের কি আর
কোনো কাজ ছিল না?
আমি যে আলোকে ভয় পাই।
অন্ধকারকে ভালবাসি। অথচ
যে মানুষটা অন্ধকারকে ভালবাসতে
শিখিয়েছিল সেই তো নেই।কি লাভ
আলোর ঝলকানিকে উপেক্ষা করে?
মনে হচ্ছে কেউ বোধহয় মাথায়
হাতুড়ি পেটাচ্ছে।কি যন্ত্রণা!
আলো বুঝি এতো খারাপ!
তখনও খানদের
তিনতলা বাড়িটা মাথা তুলে দাড়ায়
নি।নিজের অস্তিত্বের জানান
দিচ্ছে শুধু।পাশের আকাশ
ছোয়া সুপারি গাছটা তখনও ঠায়
দাড়িয়ে।স্পষ্ট মনে পড়ছে পেছনের
খালি জায়গা টায় সবুজ ঘাস
উকি দেওয়ার আগেই সবুরের খরগোশ
গুলো গায়েব করে দিত। আর আমি?
দাঁড়িয়ে থাকতাম কলেজের গেইটে।
কি জানি কিসের আশায়!প্রাণপ্রিয়
বন্ধুরা আমাকে বলত আঁতেল।আমার
নিঃসঙ্গতা দেখে হাসত।আমিও
হাসতাম, নিজেকে দেখে,উপহাসের
হাসি।মনে মনে ভাবতাম যেদিন
নিঃসঙ্গতা দূর হবে সেদিনের পর আর
কখনও ঐ শব্দটি উচ্চারণও করবনা।আমার
অবাক নিঃসঙ্গতা দূর হয়েছিল।এক
রমণী আগমনের মধ্য দিয়ে।রমণী!
তা বলা যায়।যে কোন উপমাই যে ওর
তুলনায় কম মনে হয়।
<2>
আষাঢ়ের মাঝামাঝি চলছে।
আকাশে মেঘের ঘনঘটা।কবিরা বলেন
এই সময়টা নাকি শুধু প্রেমিক-
প্রেমিকা যুগলের।কথাটা শুনেই
খানিকটা চমকে উঠল ও।ও
যে আমাকে প্রেমিক ভাবত না।
বয়সে ছোট কোনো ছেলে কি কখনও
প্রেমিক হতে পারে?
লোকে শুনলে না জানি কি ভাবে!
লোকলজ্জা বুঝি ওর একটু বেশীই ছিল।
তা নাহলে আপাদমস্তক ঢেকে কেউ
বাইরে যায়?কখন যে কি হয় ঠিক আছে!
ওর সাথে,নিলুর সাথে প্রায়সময়ই
উচুস্তরের কথাবার্তা হতো।
কথা বলতাম সাধারণের
কাঠি থেকে একধাপ উপরের মানুষের
ব্যাপারে। ভুল ধরতাম হূমায়ুন
আহমেদ,জীবনানন্দ
দাশ,পাবলো নেরুদার।হূমায়ুন সাহেব
কিন্তু 'দেয়াল' লিখে ভাল করেননি।
লোকে ভাববে রাজনীতে 'Involved'
হয়ে গেছেন।কি আশ্চর্য!আবার সেই
লোকলজ্জা।আমরা কথা বলতাম
আর্টসেল,One direction,
শিরোনামহীনকে নিয়ে।আর্টসেলের
উচিত আরেকটু 'hard metal' বাজানো।
এদিক দিয়ে অর্থহীন কিন্তু 'নিকৃষ্ট'-
তে ভাল কাজ করছে।
-আরে দেখছ নোবেলের
শান্তি পুরস্কারটা কে পাইছে?
-ওবামা নাকি পাইছে।ওকে দিল কেন
বুঝলাম না।
মন্তব্য (4)