(প্রথম)
অবনী, উত্ফুল্ল, ঝড়ঝড়ে এক তরুণ কবি
সাইড ব্যাগে নোট বই,খাতা,কলম,সস্তা বিড়ি, দেশলাই
সারাদিন এদিক-সেদিক কাজের সন্ধাণ,একটা কাজ যা হোক্,
কবিতা লেখে চরম অবক্ষয়,নীতিহীনতার,অরাজগতার,বাস্তবের,
পার্টি,মিটিংয়ে উপস্থাপনায় বিদ্রোহী হয় কিছু দর্শক।
যদিও--সাময়িক।
(দ্বিতীয়)
দাদা,ভাই সরকারী চাকুরে আড়চোখ ঘৃণা কুলাঙ্গার,
একটা চাকরীর জন্য হন্যে হয়েছে প্রায় বছর দশেক
নেতা বলেছে রাজ্য কমিটি,রাজ্য শ্রম বিভাগে,বিভাগ মন্ত্রীকে
সকলের এক উক্তি, দায়িত্ব ওদের নয়-সরকারের,
কিন্তু কে সরকার,কাদের সংগঠন,কাদের ভোটবক্স,
জানা যায় না কোনোদিন,তেরোর ব্যাচের রফিক-
জয়েন করেছে বছর দুই,শোনা যায় সরকারী প্রথা-
ডিগ্রী কম তবুও,অবনীকে ব্যাঙ্গ করে-
"ছোঃ পাশ করেছো কি সত্যি??"
ক্ষয়ে যাওয়া অবনী,আদর্শবান অবনীর হৃত্পীন্ড ক্ষয়ালু
ফুসফুস সংক্রমণ মারণ রোগ -
কলেজ গন্ডী শেষে রাজনীতি,লেখালেখি,বক্তৃতা,মিটিং-মিছিল
ব্রিলিয়্যন্ট মেধার কদর পেয়েছে যদিও, মৃদুভাষী অবনী-
অনিশ্চিতের মধ্য আজও,রুগ্ন শরীর,ব্যর্থ অপবাদ-
বিড়ির সুখটান ধোঁওয়ার কুন্ডলি প্রত্যক্ষ কত পরিণাম
মায়ের তিরস্কার,দাদার নিষ্ঠুরতা,ভাইয়ের তাছ্ছিল্য,উপহাস
পাড়ার এক চায়ের দোকান--
অবনী নিয়মিত, চা-বিড়ি,ওমলেটে ফেলে আসা-
অফিস ভাতের ব্যস্ততার প্রাতঃরাশ।
(তৃতীয়)
মিলি,প্রেয়সী মিলি, গেল বছর কথা দিয়েছিলো ভোটের আগেই-
চাকরীটা হয়ে গেলে,তারপর.........
মাসছয় পর ধুমধাম উচ্চ আয় জামাই এল ঘরে,
গতকালই এসেছে সে এ পথেই যাবে,ঝলকের দ্যাখা
মিলিও তাকায় না আর,অবজ্ঞা বেকার,
ঝকঝকে বরের হাতে হাত গটমট এগিয়ে যাবার তারা
অবনীর গালে শুধুই কালের প্রহার,
মনে হয় চীত্কার করে ডেকে বলে,
মিলি আর বেশীদিন নেই আমি,বুকের কষ্টটা বেড়েছে
একবার দ্যাখো এই মুখ, একবার চোখে চোখ রাখো -
হাত রাখো এই পান্ডুর হাতে......ঝাপসা দৃষ্টি ঝড়ুক,
(৪র্থ)
"অবনী না?? না না দূরেই থাকো,
শুনেছি কি এক মারণ রোগ...
হবেই তো।যা বিড়ি খাও।"
মিলির মন্তব্য শেষ মার মারে বেকার অবনীর
ধমনী,ঘিলু,মস্তিষ্ক কোষে।
মন্তব্য (15)