আজকাল দেখা যায় ছেলেরা বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি যত্ন নেয় না। সংগতি থাকা সত্বেও বৃদ্ধদের স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রমে, অথবা অনাদর-অবহেলায় তাদের জীবনের শেষদিনগুলি কাটে। বড়ই পরিতাপের বিষয় যে মা-বাবার প্রতি এমন ভাবে ছেলেরা কর্তব্যে অবেহেলা করে। ছোট বেলায় এই মা-বাবার যত্নে বেড়ে উঠেও বড় হয়ে  তাদের ভুলে থাকা বা যত্ন না করা শুধু অবহেলা নয়, এটি পাশবিক হৃদয়ের পরিচয় বহন করে।

কিন্তু কেন এমন হচ্ছে এখনকার দিনে? অর্থের অভাব নিশ্চয় নয়। যাদের অর্থ কম তার কিন্তু  বেশী মানবিক - সেসব ছেলেমেয়েরা মা-বাবার প্রতি বেশী  "সাপোর্টিভ" হয় থাকে - নিজেরা কষ্টে থাকলেও   মা-বাবার প্রতি তাদের ভালবাসার কমতি হয় না। ঘরে স্ত্রী এলে তার সাথে শ্বশুর-শাশুড়ীর বনিবনা হয় না প্রায় সময়ই। জীবনের একটা সময়ে যারা মা-বাবার আদরের ছিল তারা এই সময় স্ত্রীর পক্ষ নেয় এব্ং মা-বাবাকে অবহেলা করতে শুরু করে। মনে করে মা-বাবা আর কয় দিনই বা বাঁচবে - বা এই সময়ে মানুষের যে প্রয়োজন মা-বাবা কি তা আর মিটাতে পারে? তাই, বিয়ের পর ছেলেরা মা-বাবার পর হয়ে যায়।

অন্য একটি কারণ আধুনিক জীবনযাত্রা! বৃদ্ধ/বৃদ্ধারা সেকেলে - অভিজাত বন্ধু/বান্ধবীদের কাছে ছোট না হবার অভিপ্রায়ে অনেকেই নিজেদের মা-বাবাকে কাছে রাখতে চায় না। আগেরদিনের মত এখনার দিনে নাতি-নাতনীদেরও প্রয়োজন হয় না দাদীদের বা ঠাকুরমাদের - এখনকার ছেলে-মেয়েরা আগের দিনের মত তো আর ঘুমপাড়ানী রূপকথা বা গল্পের ঝুলির জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করে না!

তবে সব থেকে বড় হল বর্তমান সমাজের নৈতিক অবক্ষয়! মানুষের নৈতিক অবক্ষয় এত বেশী মাত্রায় পৌঁচেছে যে ছেলেদের মনে মা-বাবার কষ্ট বা তাদের ভাল-লাগা/মন্দ-লাগা নিয়ে কোন প্রকার কষ্টবোধ বা সহমর্ম্মিতা কাজ করে না। কিন্তু প্রশ্ন হল এই অবক্ষয় থেকে সমাজের মুক্তি  কি আর আসবে কখনো? আজকে যারা মা-বাবাদের অবহেল করছে তারাও একদিন বৃদ্ধ হবে এবং তারাও একদিন নিজেদের এই পাপ কর্মের ফল হাতে হাতে নিশ্চয় টের পাবে!