শীতের কনকনে রাত। গ্রামের বুকে ঘুমের আঁধার নেমে এসেছে। ঝিঁঝি পোকার ডাক, কুকুরের কর্কশ আওয়াজ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই।

অসীম, এক তরুণ, ঘুমাতে পারছে না। তার মনে অস্থিরতা, এক অজানা ভয়। কারণ, আজ রাত গ্রামে ভয়ঙ্কর এক ঘটনা ঘটেছে।

সন্ধ্যার আলো ম্লান হতেই, গ্রামের পূর্ব দিকে অবস্থিত পুরনো, জীর্ণ বাড়ি থেকে ভেসে এসেছে আতঙ্কজনক চিৎকার। গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিন্তু ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা কিছু ভাঙা কাচের টুকরো আর রক্তের দাগ।

ঘটনার রহস্য উন্মোচন হতে পারেনি। গ্রামবাসীরা আতঙ্কে থর থর কাঁপছে। অনেকেই মনে করছেন, পুরনো বাড়িতে কোন অশুভ আত্মা বাস করে।

অশীমও এই ভয় ভাগ করে নেয়। সে ছোটবেলা থেকেই এই বাড়ির প্রতি একধরণের ভীতি অনুভব করে। বড়রা বলতেন, অনেক বছর আগে এই বাড়িতে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল।

রাত গভীর হতেই, অশীমের ঘুম ভেঙে গেল। হঠাৎ, সে তার জানালার পাশে একটা কালো ছায়া দেখতে পেল। কে যেন তার জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

ভয়ে অশীমের হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেল। সে সাহস করে জানালা খুলে বাইরে তাকালো। কিন্তু বাইরে কাউকেই দেখতে পেল না। শুধুমাত্র ঠান্ডা বাতাস তার মুখে লাগলো।

কিছুক্ষণ পর, আবারো সে একই কালো ছায়াটি দেখতে পেল। এবার সে স্পষ্টভাবে দেখতে পেল, ছায়াটির চোখ দুটো জ্বলছে যেন আগুন।

ভয়ে চিৎকার করে উঠলো অশীম। তার চিৎকারে সারা বাড়ি জেগে উঠলো। তার মা-বাবা ছুটে এসে জিজ্ঞেস করলো, "কী হয়েছে বাবা?"

অশীম সব ঘটনা তাদের বলে শোনালো। তার বাবা বললেন, "ভয় পেয়ো না বাবা। হয়তো তুমি ভুল দেখেছো।"

কিন্তু অশীম জানে, সে ভুল দেখেনি। সে জানে, রাত এখনো শেষ হয়নি। ভয়ঙ্কর কিছু এখনো ঘটতে বাকি।

সারা রাত অশীম আর ঘুমাতে পারেনি। ভয়ে তার শরীর কাঁপছে। প্রতি মুহূর্ত তার মনে হচ্ছে, কে যেন তাকে দেখছে।

ভোরের আলো ফুটতেই, অশীম ঘুম থেকে উঠে ছুটে গেল গ্রামের প্রধানের বাড়িতে। সবকিছু খুলে বললো তাকে।