রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলাম।হঠাৎ একটা বাচ্চা ছেলের সাথে ধাক্কা লাগল।তার হাতে থাকা টিনের বাটিটা পড়ে গেল।বাটির ভিতরে থাকা খুচরো পয়সা আর কয়েনগুলো মাটিতে পড়ল শব্দ করে।আমি চেয়ে দেখলাম ৭-৮ বছরের একটা বাচ্চা।গায়ে ছেঁড়া জামা,পায়ে জুতো নেই।ছেলেটা দৌড়ে এসে খামচে খামচে পাগলের মতো পয়সাগুলি বাটিতে তুলল।আমি ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলাম,নাম কি তোমার?সে কোনো উত্তর দিলনা।আমার দিকে চোখ ডাঁট করে তাকিয়ে আছে।এমনিতে প্রচুর রোদ্দুর।চারিদিকে প্রচন্ড গরম।আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম নাম কি তোমার?সে মাথা নাড়ালো,বলল ,আমার কোনো নাম নেই।আমার জন্মের আগেই বাপজান মারা যান।তারপর মা।নাম রাখার মতো কেউ নেই।বলেই সে চলে যেতে চাইছিল।আমি পথ আটকালাম।বললাম,আজকে খাওয়া হয়েছে?উত্তরে টলমলে চোখে বলল,''২ দিন থেকে খাই নাই।এই যে বাটির টেকাগুলা দেখতাছেন এইগুলো যোগাড় করতে অনেক কষ্ট হইছে।আপনি যে ধাক্কাআ মেরে ফেলে দিলেন!একঘন্টা কারের সামনে দাঁড়াইয়া তারপর একটাকার একটা সিকি ছুঁড়ে দেয়।তাও আবার কত বাচ্চাদের মাঝে।অনেক কষ্ট করে এই টেকাগুলা যোগাড় করছি।আইজকা পেট ভরে ভাত খামু।''বলতে বলতে ছেলেটার চোখে আনন্দের অশ্রু চলে এল।
আমি বললাম, চল আমার সাথে।সে বলল,কই?আমি বললাম,আমি কোনো বড়লোক নই।তবে তুই আজ থেকে আমার ভাই।আমারও বাবা-মা নেই।এই পৃথিবীতে আমিও অনাথ।তবে তুই কোনো চিন্তা করিসনা তোকে খাওয়াতে,পড়াতে আমি পারব।এই সামর্থ্য আমার আছে।আর শোন আজ থেকে তোর নাম কাব্য।সুন্দর না?
কাব্য টলমলে অশ্রুমাখা চোখে বলল,''হ,অনেক সুন্দর ভাইজান।''
মন্তব্য (13)