কাইয়ুম বাড়িতে আছ। নাছির মোল্লা তিন চারবার ডাক দিল। কোন সাড়া পেল না। মোল্লা হতাশ হয়ে রশিদের বাড়ির দিকে যাত্রা করল। পথে কাইয়ুমের দেখা হল। পড়নে একটা লুঙ্গি আর একটা ছেড়া হাফ হাতা শার্ট। তার কাধে ঘাসের বস্তা। মোল্লাকে দেখে সালাম দিল।
: সালাম মোল্লা ভাই। কেমন আছেন?
: আল্লায় রাখছে। তোমার বাড়িতে গিয়েছিলাম। ভালো কাজ আছে। ৫০ টাকা হাজিরা। বিকেলে একবার দোকানে আসিও।
মোল্লার কথা শুনে কাইয়ুমের চোখ জ্বলজ্বল করছে। ৫০ টাকা হাজিরার লোভনিয় প্রস্তাব।গ্রামের কোথাও কোন কাজ নেই। তার অধিকাংশ সাথীরাই পশ্চিমে কাজ করতে গেছে। কিন্ত ছোট ভাইটিকে একা রেখে সে যেতে পারে নি। নীলফামারী জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামের নাম চিকনমাটি। গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর। সময়টা ১৯৭১ এর মে মাস। পাক- বাহিনীরা গ্রামের পাঠশালায় তাদের আস্তানা গেড়েছে। নাছির মোল্লা তাদের সহযোগি হিসেবে কাজ করছে। পাক- বাহিনীদের ব্যাংকার খননের কাজটি মোল্লার দায়িত্বে পড়েছে। মোল্লা গ্রামের ১৫-২০ জনকে ডেকে এনেছে। সন্ধাবেলা তার দোকানে কাজের লোকরা জমায়েত হয়েছে। মোল্লা সবাইকে একটা পিয়াজু আর এক কাপ চা বিনা পয়সায় খাইয়েছে। সবাই মোল্লার প্রতি সন্তুষ্ট। পরেরদিন সকালে সবাই ........