গরু জাবর কাটে,ভরপেট খেয়ে নিয়ে মনের সুখে জাবর কাটে আর লেজ নাড়ায়।
আমি আবার কৌতুহলী মানুষ,সব ব্যপারে ব্যপক কৌতুহল।
গরু জাবর কাটে সেটা অনেকদিন দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখেছি,নিবিষ্টচিত্তে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে গরু আস্তে ধীরে জাবর কাটে,লেজ নাড়ায় আর মাঝে মাঝে হাম----- বা করে একটা ডাক দেয়।
দাদার বাড়িতে গরু শুধু নয় অনেক প্রাণীই পোষা হতো,আর আব্বা নিয়মিত গরু পালতেন।
আমাদের বাসাগুলো বড় থাকতো,কাজ করার প্রচুর লোকজন থাকতো,কাজেই অসুবিধে হতো না।
আমার কেবল মনে হতো গরু আপন মনে কথা বলে।
আহা গরুর ভাষা যদি বুঝতাম?
গরুর বাচ্চা হলো,বাছুর তিড়িংবিড়িং লাফায়,গরু জাবর কাটে আর স্নেহের দৃষ্টিতে বাছুরের দিকে তাকায়।
এমনি এক দিনে আমি গরুর ভাষা বুঝতে পারলাম।
গরু বাছুরকে বলছে," আয় আয় খায়া ল,বেকুব মানুষ গুলা আইয়া সব লইয়া যাইবো।"
বাছুর বলছে," আর একটু খেলি মা,এখন খেতে ইচ্ছে করছে না।"
গরু বাছুরের কথা শুনে আমি চমকে গেলাম তবুও জিজ্ঞেস করলাম," আংকেল, বহুদিন ধরে আমি আপনার সাথে কথা বলবো ভাবছিলাম,ভাষা বুঝি না তো তাই কথা হয় না।"
গরু আংকেল আমাকে পাত্তাই দিলো না।
আমি আবার বললাম-
ঈষৎ নাসিকা কুঞ্চন করে গরু বললো,
" তুমি প্রতিদিন আমারে দেখো কেন? বহুতদিন নিষেধ করছি,কথা শোন না পুঁচকি মাইয়া।"
" সে কি! আমি আপনার ভাষা বুঝি না"
" হাম----বা।"
গরু উত্তর দিলো।
"আংকেল আপনি তো দাত ব্রাশ করেন না,একবারে খেয়ে পানি খেলেই তো হয়- জাবর কাটেন কেন? দাতে সমস্যা হবে তো।"
গরুর উত্তর," আমার দাত ব্রাশ করা লাগে না,আমি জাবর কাটি,জবর কাটি না।"
"মানে?"
" মানে তোমাদের মানুষরা সুখে থাকলে,ভরাপেট খেয়ে গপ্পো করে,রাজা উজির মারে।এই তত্ত্ব সেই তত্ত্ব কপচায়।এই তো একটু পর আমার বাচ্চার খাবারটাও নিয়ে যাবে নিজের বাচ্চার জন্য।"
" তা ঠিক আংকেল"
" আর এতো এতো তত্ত্ব কপচায় কিন্তু পাশের বাড়ির পাতিলে চাল নেই সেই খবর রাখে না।হাম----বা।"
আমি তখন ছোট,গরু যা বলে তাই মেনে নেই,যদি গুতা মারতে আসে! ভয়ে মেনে নেই।
"আর মুখে বড় বড় কথা বলে, সুযোগ পেলেই নিজের মেয়ের বয়সীদের দিকে তাকিয়ে থাকে।"
" হাম --- বা,আমরা ফন্দি ফিকিরে নাই,জাবর কাটি,জাবর--,মানুষের মতো অন্যের খাবার কেড়ে নেই না।তত্ত্বও কপচাই না।"
--২৪/০৫/২০১৯
Comments (10)