নৌকার মাঝি-
সারাদিন এপার -ওপার পারাপার তার কাজ।নৌকায় যাত্রী সাধারন।একেক জনের গন্তব্য একেকদিকে আজ।কেউ যাবে সোজা,কেউ উত্তরে,কেউ দক্ষিণে,কেউ পূবে কেউবা পশ্চিমে।মাঝি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্হির করে সবাইকে যার যার গন্তব্যে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়।যদিও প্রতিদিন বিভিন্ন পথের যাত্রীরা থাকেনা।আজকের চিত্র অন্যরকম,আজকের যাত্রীদের গন্তব্য বিভিন্ন মুখী।আকাশের অবস্হাও ভাল না।মূহুর্মুহু বিদ্যুৎ ঝলকানী আর বাজের শব্দে সবাই আতংকিত।সবাই আগে যেতে চায়।নৌকাটিও আজ যাত্রী বোঝাই।এখন শুরু হল কলহ।কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজী নয়।সবাই মাঝিকে নিজ নিজ নির্দেশিত পথে নৌকা চালাতে বলে।মাঝি কি করে! একবার এদিকে একবার ওদিকে দাঁড় বায়।ফলে নৌকাটি কোনদিকেই চলছেনা।একই জায়গায় আবর্তিত হচ্ছে।এদিকে যাত্রীদের কলহ চুড়ান্ত পর্যায়ে।এখন শুরু হল হাতাহাতি।প্রকৃতিও বিরূপ।এল প্রবল বাতাস সহ প্রচণ্ড ঝড়।নৌকার মাঝি উপায়ন্তর না দেখে হাল ছেড়ে দিল।মাঝ নদীতে জীবন বাঁচাতে দিল ঝাপ।কারণ যাত্রীদের তুমুল ধ্বস্তাধস্তিতে নৌকা টালটামাল, যে কোন মূহুর্তে ডুবে যাবে,কাজেই আগেই যদি জান বাঁচানো যায়।কারণ নিজে বাঁচলে বাপের নাম মাঝি হল এই নীতিতে বিশ্বাসী।স্বার্থপর মাঝি যখন নিজের জান নিয়ে ভাগল,মাঝি বিহীন নৌকাটি মাঝনদীতে প্রবল ঝড়ের মাঝে যাত্রীসমেত ডুবে গেল।সলিলসমাধি হল এত গুলো যাত্রীর।
উপসংহারঃ যে কোন কাজে সফল হতে প্রয়োজন- সঠিক লক্ষ্য,সঠিক নির্দেশনা,একতা।নতুবা ঐ নৌকার যাত্রীদের মতই অকালে ডুবে যেতে হবে।
--১০/০১/২০১৮
মন্তব্য (5)