নারী তুমি মেঘবালিকা
আধুনিক হওয়ার অর্থ ভালটা গ্রহণ করা।প্রতিটি জিনিসের একটা ভাল দিক থাকে।তুমি নারী হও অথবা পুরুষ হও সেটা বিবেচ্য নয়।যেটা বিবেচনা করা হবে,সেটা মনুষ্যত্ব।আমার পরিচিত মেয়েবন্ধুকে দেখতাম পর্দা করছে।খুবই ভাল কথা।পর্দা তার ধর্মে থাকলে অবশ্যই করতে হবে।তবে জেনে বুঝে করাটা জরুরি।পর্দা সম্পর্কে একটা কৌতুহল আছে।যদিও নিজে ইসলাম ধর্মের অনুসারি।ইসলাম সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান রাখাটা সম্ভব না হলেও প্রাথমিক জ্ঞানটা আছে।ওই বন্ধুকে লক্ষ্য করলাম,স্কার্ফের সাহায্যে নাক ঢেকে রেখে পর্দা করছে।যতটুকু জানি মুখমন্ডল অনাবৃত রাখার কথা ধর্মীয় বিধানে আছে অথচ এ মেয়ে দেখি মুখমন্ডলের পর্দা শুরু করেছে।কিছুটা মনক্ষুণ্ণ হলাম।তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এভাবে নাক ঢেকে রেখেছো কেন? প্রশ্ন করাটা আমার মত কম জানা লোক করবেই।আপনারা আগেও জেনেছেন কামরুজ্জামান লোকটা খুবই কম জানে।তার জ্ঞান নিম্নস্তরের।তবে তার উত্তরটার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম।এই প্রশ্নের এমন উত্তর হতে পারে তা কল্পনাতেও ছিল না।বন্ধুটি বলল, "সে তার এলাকার ইমামের কাছ থেকে জেনেছে, কলা খোসার ভেতরে থাকতে হয়,একটুও যদি খোসা ছাড়ানো হয় তবে তাতে নির্ঘাত মাছি পড়বে।কলা খোসাসহ যে দামে বিক্রি হয় খোসা ছাড়ানো হলে তা দামহীন হয়ে যায়।সুতরাং কঠোর পর্দা করতে হবে নতুবা দামহীন হওয়ার আশঙ্কা আছে।"
উত্তর শুনে পুরোই থ! বলে কি এই মেয়ে! আমি বললাম, এসম্পর্কে কোন আয়াত কিংবা হাদিস কি তিনি বলেছেন? বন্ধুটি জানাল ,না।তারপরও এই যুক্তিটি বন্ধুটি মেনে নিল কেন সেটা বোধগম্য নয়।
আমি বললাম, তুমি নিজেকে কলা ভাবতে শুরু করলে কবে থেকে?বরং যে তোমাকে কলা ভেবেছে সে নর্দমার মাছি।তুমি নিজেকে কলা ভাবতে পার না।তোমরা মেয়েরা যতদিন নিজেদেরকে কলা ভাববে ততদিন সমাজ পশ্চাতেই যাবে।
নাসার মেয়েরা যেখানে মহাকাশে ঘুরছে আর সেখানে নিজেকে কলা ভেবে নারীরা ঘরকুনো হয়ে বসে থাকলে চলবে কেন?
২.
একটা ছেলে চাইলেই রাত বারটার সময় রাস্তায় হাটতে পারে,চাইলেই আসাদ গেট টপকিয়ে এম.এম কলেজের মাঠে ঢুকে যেতে পারে।কিন্তু আমাদের চারদিকে যে প্রাকৃতিক বলয় সৃষ্টি হয়েছে, যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে তাতে একটা মেয়ে এটা চাইলেই পারবে না অথবা সাহস সঞ্চয় করতে পারবে না।সুতরাং এটার প্রয়োজন নেই ।তোমার অনুকূলে যেটা পারবে সেটা থেকে পিছু পা হবে না,।আমি নারীকে প্রতিবাদী হতে বলছি না বরং বলছি, তোমার অধিকার তুমি বুঝে নাও।ক্লাসে প্রথম হওয়া তোমার অধিকার তুমি সেটা হয়ে দেখাও।মারামারি করা দুষ্টু ছেলের কাজ সেটা তুমি কেন করবে?তুমি আধুনিক হবে এটা তোমার অধিকার।তোমার অধিকার তুমি বুঝে নাও।একই কাজে তুমি কম বেতন পাবে অথচ একটি ছেলে বেশি বেতন পাবে এটা মেনে নিবে না।তোমার অধিকার নিশ্চিত কর।তোমার যোগ্যতার অবমূল্যায়ণ যাতে না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখ।
৩.
প্রতিটি নারীর মধ্যে একটি মা বাস করে।এটা প্রতিটি সৎ কিংবা অসৎ নারী মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।নারী কথাটার মধ্যেই একটা মমতাময়ী ব্যাপার আছে।সেটা অতি আধুনিক নারীর মধ্যেও বিদ্যমান।এই বিদ্যমান গুণটি নারীর প্রধানতম সম্পদ।নারীকে যখন মায়ের রূপে দেখি তখন তার মমতার আঁচলটুকু টের পাওয়া যায়।নারীকে যখন বড় বোনের রূপে দেখি তখন তার স্নেহের কদর বোঝা যায়।নারী যখন কাউকে স্বামী হিশেবে গ্রহণ করে নেয় তখনও তার মায়া আলাদাভাবে দৃষ্টি কেড়ে নেয়।যখন এই গুণগুলো কারো ভিতরে অনুপস্থিত দেখি তখনই খটকা লাগে,সে পরিপূর্ণ নারী তো!
বর্তমান সময়ের টিভিনাটকে নারীকে এইগুণের সাথে পরিচয় করানো হয় না।সম্পর্কের দোটানাতে নারীকে এমন অবস্থাতে ফেলা হয় যেখানে নারীত্বের বিলীন ঘটে।এগুলো নাট্যকার ও নাটক সম্পর্কিত ব্যক্তিবর্গের অজ্ঞতা।এধরনের নাটকে নারীরা অভিনয় করে কেনো সেটাও রহস্যের বিষয়।যেখানে নারীদেরকে ছোট করে স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছে সেখানে তারা অভিনয় কেন করছে? নিছক টাকার জন্য! যদি নিছক টাকার জন্য হয়ে থাকে তবে বলব ওইসব নারী বাংলার চিরায়ত নারীদের প্রতীক নয়।
নারী তোমাকে মনে রাখতে হবে, তুমি মেঘবালিকা।যে উড়ে বেড়াবে শরৎ আকাশ।কোন বাধা যাকে গ্রাস করবে না।তুমি কখনোই কলার সাথে তুল্য নয়।
মন্তব্য (3)