লাইব্রেরির শেষ প্রান্তে কেউ বসত জানি,
এই বুকসেলফ,
থরে থরে সাজানো বই,
অনেকেই আসত,বসত কিছুক্ষণ।
অবলা দিনে চেয়ে থাকতাম
এই চোখ নিবদ্ধ থাকত ওই শেষপ্রান্তে।
ওই প্রান্তে মৃত্যু নেই,আশা আছে
মায়া আছে ঢের বেশি।
যে মায়াতে যৌবনের শুরুতে দিতে চেয়েছিলাম
নিজের অর্ধেক।
আমার চোখে ভেসে ওঠা ষোড়শী নারী ছিল
স্নিগ্ধ হাসি ছিল
চোখজুড়ে ছিল যুগের অবসাদ,
সকাল-দুপুর আমি সেই নারীকে দেখেছি
জেনেছি অনেক বেশিদিন ধরে,
ভেবেছি ঢের বেশি।
শাদা হাতে ছুঁয়েছে যত বই
বুকসেলফ থেকে নামিয়ে আমিও ছুঁয়েছি।
ওই প্রান্ত ঘিরে কত স্বপ্ন,কত লুণ্ঠিত আবেগ
অভিসারে চলে গেল,
কখনো কিছু বলতে গিয়ে তার চোখের বিষাদ দেখেছি,
তার সাথে হাসব বলে অনেককাল হাসতে পারিনি।
অথচ এই স্বচ্ছ প্রত্যাশাও শেষ হয়েছে;
অচেনা এক যুবকের সাথে তার সে কি উচ্ছ্বল হাসি!
যে হাসি অনেককাল দেখিনি,
প্রেমে পড়লে নারী যে হাসিটা হাসে অবিকল সেরকম,
তীরের মত বিঁধতে থাকে মনে।
তখন ছেড়ে আসলাম লাইব্রেরি, সাথে তাকেও।
তারপর আমার আকাশে আর সূর্যই ওঠে না,
তাই ডুবতে যাওয়ার তাড়া নেই —
তাকে ছেড়ে আসার সময়—মনে হয়েছিল,
যেন পৃথিবীটাই ছেড়ে এলাম।
সবকিছু ছেড়েও যে মানুষ নিঃসঙ্গ হয় না,
সেটা নিজেকে দেখলেই টের পাই।
লাইব্রেরির বুক সেলফ,চেয়ার সবকিছু থেকে দূরত্ব বেড়ে যায়,
যতটুকু দূরত্ব বাড়লে নিজেকেও হারাতে হয়।
মন্তব্য (4)