এক ফেইসবুক অনেক কিছুর আবেদন কমিয়েছে। চিঠি- চিরকুট, ডায়েরি লেখা এসব আর হয় না।
টেবিলে বসতেই চোখ পড়লো ধুলোমাখা নোট বইটায়। ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে হাতে কলম নিলাম। ভাবছি, কী লিখব? কিছুইতো নাই। দৈনন্দিন হেঁচকি ঢেঁকুরের মত ক্ষুদ্র ঘটনা থেকে শুরু করে জীবনের সব কিছুকে ঢুকিয়ে ফেলেছি স্ট্যাটাসে স্ট্যাটাসে। তাই কাগজে কলমে আর কিছু আসে না। কলম কামড়াচ্ছি।
আচ্ছা আগেকার যুগের প্রেমিক- প্রেমিকারা তাদের ভালোবাসার মানুষের উদ্দেশ্যে লিখতে গিয়ে কি কলম কামড়াতো? বিদেশ বিভূঁইয়ে থাকা স্বামীর উদ্দেশ্যে লিখা চিঠিতে স্ত্রীরা কি সংসারের পোশাকি কথার আড়ালে নিজের একান্ত অনুভূতি গুলো লিখতে গিয়ে কাটাকুটি করতো? অল্প শিক্ষিতা মা কি একমাত্র ছেলের উদ্দেশ্যে লিখতে গিয়ে চোখের জল, কলমের কালি এক করতো?
ভেবে বলতে হবে না। চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যাবে, হ্যাঁ করতো! সেখানে অনেক প্রেম, আবেগ, অনুভূতি, দরদ, মায়া, মমতা প্রভৃতি মানবীয় উপাদান ছিল।
দেখুন কী লিখতে গিয়ে কী লিখে যাচ্ছি! কথা ছিলো কাগজ কলমের রসায়ন নিয়ে লিখবো। কিন্তু হলোটা কী? সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যাওয়া অনেক কিছুর মধ্যে যদি কাগজ কলম হারিয়ে যায়, তবে বুঝে নিতে হবে, সাথে অনেক কিছু হারাবে বা হারিয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, স্কাইপ আমাদের কাছে রাখছে ঠিকই। তবে অনুভূতির মিশেলে প্রেম, ভালোবাসার গভীরতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বা নৈতিকতা বোধে মোড়ানো সম্পর্কগুলোর অবস্থাকে করেছে টা কী! আজ একই সময়ে দুজনকে দুই কথা বলে ত্রিমাত্রিক প্রেম করা যাচ্ছে, যখন তখন ব্রেকআপ হচ্ছে, খানিকবাদে সরি বলে জোড়া লাগছে। এতে কি সম্পর্কগুলোর ভিত শক্ত হচ্ছে? আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা রয়েছে?
বাবা ছেলেকে ফোন করে জিজ্ঞেস করছে, তুমি কোথায়? ছেলে পার্কে বসে উত্তর দিচ্ছে, আমি গ্রুপ স্টাডিতে। স্ত্রী স্বামীর খোঁজ জানতে চাইলে স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে বসে বাদাম ভাঙতে ভাঙতে বলছে, মিটিংয়ে। আজ প্রথম আলো যাঁরা পড়েছেন তাঁরা দেখবেন যে, ঝামেলা এড়াতে জনৈক মন্ত্রী নিজ কক্ষে থেকেও গড়গড় করে মিথ্যে বলে সাংবাদিকের কাছে কীভাবে জব্দ হয়েছেন।
আসলে ইন্টারনেট, ভার্চুয়াল জগৎ অনেক কিছু দিলেও আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে মনুষত্ব, মানবতা। আর মনুষত্ব, মূল্যবোধ না থাকলে মানুষের মধ্যে কী থাকে?
০৪নভেম্বর২০১৪।
স্ট্যাটাস থেকে।
Comments (9)